,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীতে নির্বাচন বন্ধ হওয়ায় প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন, আহত ৫

শাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ , বাঁশখালী প্রতিনিধি, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল সিন্ধিপাড়া এলাকায় ইউপি সদস্য ফজল করিমের বাড়িতে হামলা অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে এবারের ইউপি নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সৈয়দ নুরের গ্র“প। হামলায় ইউপি সদস্য ফজল করিম সহ আহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন। এ সময় হামলাকারীরা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। বাড়ির আসবাবপত্র, চালের গোলা, ধান, নগদ টাকাসহ মূল্যবান ফার্ণিচার ও ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী পুঁড়ে গিয়ে অন্তত ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়। আহতরা বর্তমানে মুমুর্ষ অবস্থায় বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ঘটনায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হামলার শিকার ইউপি সদস্য ফজল করিমের পরিবারের পক্ষ থেকে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলীছল।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চাম্বল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজল করিম এবারের নির্বাচনে মোরগ মার্কা নিয়ে আবারো অংশগ্রহণ করে। ফজল করিম ঐ এলাকার মোক্তার আহমদের পুত্র। তার পিতা মোক্তার আহমদ একই এলাকার সাবেক মেম্বার। এবারের নির্বাচনে ফজল করিম আবার অংশগ্রহণ করায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছৈয়দ ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। উল্লেখ্য, বর্তমান ইউপি সদস্য ফজল করিমের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছৈয়দ নুরের সাথে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার উপর স্থানীয় সাংসদের হামলার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন বাঁশখালীতে নির্বাচন স্থগিত করলে ইউপি সদস্য ফজল করিম তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ওই এলাকার একটি চায়ের দোকানে আলাপকালে তার উপর হামলা চালায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছৈয়দ নুরসহ তার দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকদের নিয়ে। এ সময় হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে ফজল করিমসহ তার কর্মীসমর্থকদের মারধর করে। পরে ফজল করিমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় ছৈয়দ নুরের গ্র“প। হামলায় গুরুতর আহত হয় ফজল করিম ও তার পিতা সাবেক মেম্বার মোক্তার আহমদসহ অন্তত ৫ জন। আহত অন্যানরা হলেন, মোজাহের মিয়া (২০), রাজা মিয়া (৪৫), নয়ন (২০)। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাড়িঘরের সমস্ত মালামাল পুঁড়ে গিয়ে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলার খবর পেয়ে গতকাল বাঁশখালী থানা পুলিশের এসআই আবু সুফিয়ানসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেকোন সময় খুনসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
হামলার শিকার ওই ইউপি সদস্যের বড় ভাই রেজাউল করিম জানান, আমি একজন ব্যবসায়ী। চট্টগ্রাম তথা সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছের ব্যবসা করে থাকি। আমি প্রায় সময় চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করি। আমার ছোট ভাই ফজল করিম বর্তমানেও ইউপি সদস্য এবং এবারের নির্বাচনে আবারো অংশগ্রহণ করেছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সৈয়দ আমার ভাইয়ের জনসমর্থন ও বিজয় নিশ্চিত দেখে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তার একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীচক্র রয়েছে। তারা প্রায় সময় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সন্ত্রাসীদের নিয়ে অস্ত্রের মহড়া চালায়। গতকারও আমার ভাইয়ের উপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা করে। তিনি আরো জানান, আমি ব্যবসা করি। আমার অর্থ দেখে সৈয়দ নুরের সন্ত্রাসী গ্র“প এর পূর্বে আমার উপর আরো অনেকবার হামলা চালিয়েছিল। গতকাল আমি বাড়িতে এসেছি দেখে সৈয়দ নুর তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আবারো হামলা চালায়।
এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় হামলার শিকার ফজল করিমের পক্ষে মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা চলছে। যেকোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল। হামলার শিকার ইউপি সদস্য ফজল করিম এ ঘটনায় সুষ্ঠ বিচারের দাবী জানিয়েছেন।

 

মতামত...