,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীতে পানীয় জলের তীব্র সংকট

aশাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা,বিডিনিউজ রিভিউজ ডটকমঃ বর্তমান বর্ষা মৌসুমে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাঁশখালীর অধিকাংশ নলকূপ পড়ে আছে অকেজো অবস্থায়। ফলে পানির অভাবে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে প্রত্যন্তর অঞ্চলের লোকজন। শুস্ক মৌসুমে পানির পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে পানীয় জলের এ সংকট চরম আকার ধারণ করছে।
অধিকাংশ স্কুলে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় প্রচন্ড গরম ও উঞ্চ আবহাওয়ার কারনে ছাত্র-ছাত্রীরা বাধ্য হয়ে পিপাসা মিটাতে খাল,বিল,পুকুর এবং পথঘাট থেকে পানীয় পান করার ফলে ওইসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বাঁশখালীর ৫০ শতাংশ বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপের ব্যবস্থা থাকলেও তা অনেকদিনের পুরানো এবং দীর্ঘদিন থেকে অযতœ অবহেলায় অধিকাংশ নলকূপ বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ায় ওই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। স্কুলগামী অবুঝ শিশুরা না বুঝে পান অনুপযোগী ঠান্ডা পানিয় পানের পাশাপাশি স্কুলের আশ-পাশের দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের জীবানূযুক্ত আচার ও মান অনুপযোগী খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে। বাঁশখালী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ছনুয়া, খুদুকখালী, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, পুকুরিয়া, কালীপুর, বৈলছড়ি, কাথরিয়া, সাধণপুর, পুঁইছড়ি, চাম্বল, শেখেরখীল ও শীলকূপ ইউনিয়নের অধিকাংশ স্কুলে বিশুদ্ধ পানিয় জলের ব্যবস্থা নেই। ছনুয়া খুদুকখালী মধুখালী, দক্ষিণ ছনুয়া, মনু মিয়াজীর বাজার সাগর উপকূলের কয়েক কিলোমিটার সরজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমে এমনিতেই খাল,বিল ও পুকুরের পানি শুকিয়ে যায়। অথচ বর্ষা মৌসুমেও একই অবস্থার রূপ নিয়েছে। প্রচন্ড গরম পড়লে এ এলাকায় পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। কয়েকটি গ্রাম বা পাড়ায় নলকূপ থাকলেও তার অধিকাংশই অকেজো বা নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। উপকূলীয় এলাকায় একটি নলকূপ বসালে ৯০০-১২০০ ফুট গভীরে যেতে হয়। গভীরে না গেলে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায় না। গভীরে যেতে হলে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। স্থানীয়রা এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করেন- উপকূলীয় এলাকায় শত শত নলকূপ অকেজো হয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রতিটি স্কুলে এলজিইডির পক্ষ থেকে নলকূপ দেয়া হলেও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত স্কুলগুলোর নলকূপ লবনাক্ততার কারনে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় এবং দুর্বৃত্তরা নলকূপের হেডগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। বাঁশখালীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল জানান, নতুন করে স্কুল নির্মানের সময় সংশি¬¬ষ্টরাই নলকূপ বসিয়ে দেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে নলকূপ এলে তা ইউপি চেয়ারম্যানদের জানিয়ে দেয়া হয় এবং তাদের দেয়া নির্দিষ্ট স্থানেই নলকূপ বসানো হয়। এদিকে অভিযোগ রয়েছে বিগত অনেকদিন যাবত বাঁশখালীবাসীর চাহিদা অনুসারে কোন নলকূপ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছেনা। তাছাড়া যেসব নলকূপ সরকারী ভাবে বরাদ্দ পাওয়া যায় তাতেও ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ করে এই শুষ্ক মৌসুমে পানি পায়না জনগণ। বর্তমানে বাঁশখালীতে তীব্র পানিয় সংকটে ভুগছে পশ্চিমাঞ্চলের জনগণ। বাঁশখালীর সর্বস্তরের অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি নলকূপ স্থাপনে বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মতামত...