,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীতে রহস্যময় বাড়ি ঘিরে ছেলেধরা আতংক!

aশাহ্ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ, বাঁশখালী সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌর শহরের জলদী কাজীরপাড়া এলাকায় একটি বহুতল বাড়িকে ঘিরে এলাকায় ছেলে ধরা আতংক দেখা দিয়েছে। গত এক সাপ্তাহে কমপক্ষে ৫  শিশুকে এখানে অজ্ঞাত কারণে ধরে নেয়ার ঘটনায় এলাকার অভিভাবকরা বাঁশখালী থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোন ধরণের আইনগত সহায়তা দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, সুবিশাল জায়গার উপর বহুতল ভবন নির্মাণকালে ভবন মালিককে স্বপ্নযোগে অদৃশ্য থেকে জীবন্ত বস্তু বলি দিতে আহবান জানানো হয়। এতে ভবন মালিক গন্ডামারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল মোস্তফা সংগ্রাম বেশ কিছু গরু-ছাগল জবাই দিয়ে স্থানীয়দের খাওয়ানোর পরও ওই ভবন নিয়ে ভয় ও আতংক না কাটায় ভবনের উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রীরা কাজ ফেলে চলে যায়। এরই মাঝে গত এক সাপ্তাহ ধরে ওই ভবনের মুল ফটক দিয়ে কে বা কারা এলাকায় ৭-৮ বছর বয়সী শিশু-কিশোর ভেতরে ধরে নিয়ে যায়। এনিয়ে শিশুদের চেঁচামেছিতে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে এসব শিশুদের উদ্ধার করে।

স্থানীয় কৃষক নুরুল আলম থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করে বলেন, তার কিশোরী মেয়ে আজিজা বেগম (৮) ও শাহিন সুলতানা এ্যানি (১০) গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই ভবনটির সামনে এলে কে বা কারা তার দুই মেয়েকে গলা চেপে ধরে ভেতরে নিয়ে যায়। এসময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা দুর থেকে মেয়েদের পিছু নিয়েছিল। এর আগে একই এলাকার প্রফুল্ল শীলের ছেলে শ্রীশান্ত (৫) কেও অপহরণ করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এনিয়ে এলাকার শতাধিক নারী পুরুষ বৃহস্পতিবার রাতে বাঁশখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

স্থানীয় সিএনজি চালক আকতার হোসেন, কৃষক আবদুল জলিল, মনির আহমদ, আবদুল মালেক, মোহাম্মদ আজিম ও সুবল শীল জানান, বৃহস্পতিবার রাতে এলাকাবাসী এই ঘটনা নিয়ে থানা পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ শুক্রবার ঘটনা তদন্তের আশ্বাস দিলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারা বলেন, ভবন নির্মাণে কোথায় কি জটিলতা হয়েছে ওসব আমাদের কোন সমস্যা নয়, কিন্তু আমাদের ছেলে-মেয়েদের যদি ওখানে ধরে নিয়ে কোন ক্ষতি করা হয় কিংবা তাদের পাচার বা অপহরণ করা হয় সেটাই আমাদের আতংকের বিষয়।

আওয়ামীলীগ নেতা ও ভবন মালিক নুরুল মোস্তফা সংগ্রাম জানান, আমার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ মিথ্যা। আমার কোন স্টাফ কিংবা কর্মচারী কোন ছেলে মেয়েদের ধরে নেয়ার প্রশ্নই আসেনা।

বাঁশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, শুক্রবার নানা ব্যস্ততায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে না পারলেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি অভিভাবকদের অহেতুক আতংকিত না হওয়ার আহবান জানান।

মতামত...