,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীতে লিয়াকতসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে নিহতের স্ত্রীর মামলা

বাঁশখালী সংবাদদাতা, ৭ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের মতবিনিময় সভায় প্রতিপক্ষের প্রহারে স্থানীয় মোহাম্মদ আলী খুনের ঘটনায় চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী রুমি আক্তার।

সোমবার চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিপলু কুমার দে’র আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। শুনানিশেষে আদালত অভিযোগটি সরাসরি এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য বাঁশখালী থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করেছেন। অভিযোগটিকে সরাসরি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার জন্য বাঁশখালী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগে সুনির্দিষ্ট ২৯ জন ছাড়াও দেড়শজনের বেশি অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অপর আসামীরা হল, গাণ্ডামারার মৃত ফজল আহমদের ছেলে আবু আহমদ (৪৫), মৃত জাকের আহমদের ছেলে আবুল হাশেম (২২), মৃত তালেব আলীর ছেলে আবু তাহের (৪৫), মৃত আমীর আলীর ছেলে আলী নবী(৪২), মৃত মো. আলীর ছেলে আবদুর রহমান (৪৮), মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে নুর মোহাম্মদ নুরু (৪২), মৃত লাতু মিয়ার ছেলে শফি আলম (৩৫), বজল আহমদের ছেলে নুরুল আলম (৩৫), মুন্সী মিয়ার ছেলে আসদ আলী (২৮), আহমদ ছফার ছেলে মালেক (৩০), এজাহার মিয়ার ছেলে মোক্তার আহমদ (৫৫), মোস্তফা আলীর ছেলে দিদার (২২), মৃত তালেব আলীর ছেলে জাকের হোসেন (৩৫), বদি আহমদের ছেলে শেফাত উদ্দিন (২৮), মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে কাউসার (৪৮), মৃত আহমদ ছফার চেলে আবদুল খালেক (২৮), মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আবদুল মোনাফ (৪২), মৃত দানু মিয়ার ছেলে সফি আলম (৫০), মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. ইদ্রিস (৫৫), বদি আহমদের ছেলে আবদুল খালেক (২৫), উজির আলীর ছেলে নুর মোহাম্মদ (৫২), মৃত আবদুর রহমানের ছেরে ওমর আলী (৫৫), ফয়েজ আহমদের ছেলে নাছির (৩৫), মৃত আবু তাহেরের ছেলে মো. ফোরকান (৩০), আবদুল আজিজের ছেলে মো. হোছাইন (২২), ফজল করিমের ছেলে বাবুল (৩২), জামালের ছেলে আনছার (২০) ও কবির আহমদের ছেলে ইউনুছ (২৫)।

দণ্ডবিধির ৩০২,৩০৭,৩২৫ ও ১৪৯ ধারায় অভিযোগটি দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অভিযুক্ত লিয়াকতের নেতৃত্বে অন্যান্য অভিযুক্তরা বাদির স্বামীকে খুন করে। এসময় নিহতের বড় ভাই ইউনুস, জামাল হোসেন ও ছোট ভাই আবু সৈয়দকেও হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিরা প্রহার করে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত বছর ৪ এপ্রিল এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামক কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অভিযুক্ত লিয়াকতের নেতৃত্বে চরম বিশৃঙ্খলা ঘটানো হয়। সেসময় ৪ ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটায় তারা। এরপর প্রকল্পটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নেয়া হয়।
এ বছর ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউএনও, পুলিশের এসএসপি, ওসি, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে প্ল্যান্ট অফিস সংলগ্ন পশ্চিম পাশে বেঁড়িবাধ এলাকায় এক মতবিনিময় সভা ডাকা হয়। বাদির স্বামীর ঘর বাড়ি ওই প্রকল্প এলাকায় হওয়ায় তাদের সম্পত্তি ইতিমধ্যে প্রকল্প অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তাই বাদির স্বামীর বসতঘর নির্মাণসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষযে এ মত বিনিময় সভায় বাদির স্বামী, দেবর ভাসুররা উপস্থিত ছিলেন।

এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামক কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে সভা চলাকালে লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে সভায় উপস্থিত লোকজনের উপর আক্রমণ চালায়। তার নির্দেশে অভিযুক্ত আবুল হাসেম বাদির স্বামীকে লাটি দিয়ে আঘাত করে। এরপর অন্যান্য আসামিরা বাদিকে উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যুর পরও বাদির স্বামীর শরীরে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এসময় বাদির ভাসুর ও দেবরগণের উপরও অভিযুক্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে একই কায়দায় হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় ২ ফেব্রুয়ারি বাদি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও স্থানীয় থানা অজ্ঞাত কারণে ওই অভিযোগটি এখনো এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করেনি। তাই বাদি বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হলেন। অভিযোগে ১৩ জনের নাম সাক্ষীর তালিকায় রয়েছে।

মতামত...