,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ চা উৎপাদন

tea-gerden4শাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাাহ, বাঁশখালী, বাঁশখালীতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনূকূল আবহাওয়া ও পোকা-মাকড়ের না থাকায় তাদের এই প্রত্যাশা। বাংলাদেশ চা বোর্ডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহাজান আকন্দ বলেন, এবার পোকা-মাকড়ের আক্রমন নেই। চা বাগানের জন্য সচেয়ে ক্ষতিকর স্পাইডারের আক্রমন ছিল না। এইসব মিলিয়ে চা উৎপদনের জন্য এবার আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। উৎপাদন সর্বকালের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি। তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সালে দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ৬ কোটি ৬২ লাখ ২০ হাজার কেজি। এটি ছিল এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ চা উৎপাদন। কিন্তু চালিত বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে এই রেকর্ড ভঙ্গ হবে। আশা করা হচ্ছে এবার ৭০ মিলিয়ন কেজি অর্থাৎ ৭ কোটি কেজি চা উৎপাদিত হবে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাঁনপুর পুকুরিয়া চা বাগান বর্তমানে দেশের ২য় স্থান অধিকারী চা বাগান হিসেবে খ্যাতি লাভ করলেও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়িয়ে দখল করতে চায় দেশের শীর্ষস্থান। বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত এই চা-বাগান বর্তমানে সবুজের সমারোহে ভরে গেছে। গজে উঠতে শুরু করেছে নতুন চা পাতা। নভেম্বর ২০১৫ সাল থেকে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ চা বাগানটি দায়িত্ব গ্রহণ করে অনেক নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে বলে এই প্রতিবেদককে জানান চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে এ বাগানে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেছেন আবুল বশর। যিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে চা-বাগানের উপর গবেষনা ও ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে চা-বাগানের কচি পাতা গুলো যে কারো নজর কাড়ে বাঁশখালীতে অবস্থিত ৩ হাজার ৪ শত ৭২.৫৩ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই চা-বাগানটি এক সময়ে সিলেট চা বাগানের অধীনে থাকলেও বিগত ২০০৩ সাল থেকে ব্র্যাক এর তত্বাবধানে ছিল। চা-বাগান কর্তৃপক্ষ সূত্রমতে, গত ৫ নভেম্বর ২০১৫ ইং তারিখে সিটি গ্রুপ এই চা-বাগানটি নিজেদের করে নেয়। বর্তমানে প্রতিদিন ৬ শতাধিক শ্রমিক এই চা বাগানে তাদের শ্রমের মাধ্যমে নতুন পাতা উৎপাদন ট্রেসিং থেকে শুরু করে চা-বাগানের সামগ্রিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বাঁশখালীর চা সারা দেশে মানের দিক দিয়ে নিজের অবস্থান করলেও চট্টগ্রামে প্রথম স্থানে রয়েছে বলে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ এই প্রতিনিধিকে জানান। বিগত ২০১৫ সালে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ লক্ষ ৭৫ হাজার কেজি থাকলেও আগামী অর্থ বছরে তা ৩ লক্ষ ২৫ হাজার কেজি ধরা হয়েছে। বিগত বছরের লক্ষ্যমাত্রা যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় এবং নতুন করে আরো প্রায় ২শ একর চা বাগান সৃজন করায় এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চা বাগান তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চা বাগানের অভ্যন্তরে ৬ শতাধিক কর্মচারী নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা সহ অন্যান্য সার্বিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে বলে জানান, চা-বাগানের ম্যানেজার আবুল বশর। ইতিমধ্যে বাঁশখালীর এই চা-বাগানটি আধুনিক পর্যটন স্পটে হিসেবে সারাদেশে সুপরিচিত হয়ে উঠেছে। বিশাল চা-বাগান জুড়ে প্রতিদিন বিভিন্ন দেশ-বিদেশ থেকে নানা শ্রেণির মানুষ এখানে এক নজরে দেখার জন্য ছুটে আসে। সরকার চা উৎপাদনের বিক্রিকৃত অর্থ থেকে সুনির্দিষ্ট হারে ভ্যাট পান বলে জানান, চা বাগানের সহকারী ম্যানেজার আবুল বশর। তিনি আরো জানান, বাঁশখালীর এই বিশাল চা বাগানের চা পাতা সারা দেশে সুখ্যাতি রয়েছে। যার ফলে দেশের যত সব চা বাগান রয়েছে বাঁশখালীর চা বাগানের পাতা মানের দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং চট্টগ্রামে প্রথম স্থানে রয়েছে। মান সমুন্নত রাখার জন্য চা বাগানের কর্মরতরা প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদন যত বৃদ্ধি পায় সরকার রাজস্ব তত বেশি পায়। এদিকে চা বাগানে সদ্য যোগদানকারী জেনারেল ম্যানেজার আবুল বশর এই সংবাদদাতাকে জানান, বর্তমান বাঁশখালীর চা বাগানের দায়িত্ব গ্রহণ করা সিটি গ্রুপ আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাঁশখালীর চা বাগানের আয়তন ২শ একর করে একদিকে বিশাল আকারের চা উৎপাদনে উন্নীত করা অপরদিকে ক্লোন চায়ের দিক দিয়ে দেশের সেরা চা বাগানে পরিণত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, আগে চা বাগানের উন্নয়ন হলে দেশের জনগণ উপকৃত হবে এবং স্থানীয় জনগণ নানা ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এজন্য তিনি সকলের সহযাগিতাও কামনা করেন। এদিকে দেশের দ্বিতীয় স্থান অধিকারী বাঁশখালীর পুকুরিয়া চা-বাগানটি অনেকের কাছে আলোকিত পর্যটন স্পট হিসেবেও পরিচিতি লাভ করায় সারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য পর্যটক আসে এই নয়নাভিরাম চা-বাগানের হিমেল পরশ পেতে।

প্রশাসন ও উর্ধ্বতন মহল যদি এই বাগানের উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখেন তাহলে এই বাগানটি আগামীতে দেশের রাজস্ব আয়ে আরো বেশী যেমন ভূমিকা রাখবে তেমনি সাধারণের মাঝে সেরা পর্যটন এলাকা হিসেবেও ব্যাপক ভাবে সমৃদ্ধি লাভ করবে। অপরদিকে এই চা বাগানের কিছু ভূমি জোর পূর্বক দখলে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তিরা। অবৈধভাবে দখলে থাকা ভূমিগুলো চা বাগানের আওতায় নিয়ে আনতে পারলে চা উৎপাদনের পাশা-পাশি রাজস্বও বৃদ্ধি হবে বলে মনে করেন তিনি। অবৈধ দখলধারীরা চা-বাগান কর্তৃপক্ষকে নানান ভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে বলেও জানা যায়। এই অবৈধ দখলধার থেকে ভূমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃকপক্ষ।

মতামত...