,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীর উপকূলে লবণ উৎপাদনে শুরু, ভাল দাম পাওয়ায় খোস মেজাজে চাষীরা

শাহ্ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ, বাঁশখালী, ২৪ বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বাঁশখালীর সমুদ্র উপকূল জুলে চলছে লবণ উৎপাদনের ধুম । মৌসুমের শুরুতেই সর্বোচ্চ দামে লবণ বিক্রি হওয়ায় খোস মেজাজে এখন এই উপজেলার ৫০ হাজারেরও অধিক চাষীরা। প্রতিদিন লবণ চাষীরা দিনের পুরোটাই সময় ব্যয় করছেন লবণ উৎপাদনে। বাঁশখালীর উপকূলের পশ্চিম চাম্বল ডেপুটি ঘোনা, গন্ডামারা, ছনুয়া, মিনজিরীতলা, সরল, পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, পশ্চিম মনকিচর এলাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও এখানকার প্রায় কয়েক হাজার লবণ চাষী লবণ উৎপাদনের কাজে নেমেছেন। তাছাড়া বর্তমান বাজারে লবণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ও ন্যায্য মূল্যে বিক্রি হওয়ায় এখানকার চাষীদের লবণ উৎপাদনে আরো আগ্রহ বেড়ে যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি লবণ মাঠ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। বিগত দিনে উপকূলের অনেক জমি অনাবাদী হয়ে পড়া থাকলেও বর্তমানে লবণ চাষীরা লবণ উৎপাদনে প্রায় জমি চাষ করছে। বর্তমানে প্রতিমণ লবণ ৪শ থেকে ৬শ টাকা দামে বিক্রি হওয়ায় চাষীদের মুখে হাসির ঝলকও দেখা দিচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত এই দাম অব্যাহত থাকে তাহলে বাঁশখালীর উপকূলীয় কয়েক সহস্রাধিক লবণ চাষী তাদের পরিশ্রমের সুফল পাবে এই আশা রাখছে। বর্তমানে সরকার লবণ চাষীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য বিদেশ থেকে লবণ আমদানী বন্ধ করে দেওয়ায় চাষীরা তাদের পুনঃ শ্রম এখন লবণ মাঠে দিয়ে যাচ্ছে। বাঁশখালীতে উৎপাদিত লবণ গুলো বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারা দেশে রপ্তানি করে থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) বাঁশখালীর উপকূলীয় সরল এলাকায় তাদের নিজস্ব তদারকির মাধ্যমে লবণ উৎপাদন ও রপ্তানি করে থাকে।
বিসিক সূত্রে জানা যায়, দাম বেশী হওয়ায় ছনুয়া এলাকার অধিকাংশ জায়গা এখন লবণ মাঠে পরিণত হয়েছে। বিগত বছর যেখানে খালি পড়ে থাকতো। এবার সেখানে ২০ হাজার একরের বেশী জায়গা জুড়ে লবণ মাঠ তৈরী করেছে এই এলাকার লবণ চাষীরা। তাছাড়া চাষীদের লবণ উৎপাদনে যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তারা এ লবণ চাষে আরো আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কিছু কিছু স্থানে বর্তমানে পলিথিনের মাধ্যমে লবণ উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে।
বাঁশখালীর সরল এলাকার লবণ চাষী আবদুল মজিদ বলেন, বাঁশখালীতে যে লবণ উৎপাদন হয় তা যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা হলে দেশের চাহিদা পূরণ করে বাহিরেও রপ্তানী করতে পারবে। কিন্তু কতিপয় ব্যবসায়ী ব্যক্তি স্বার্থ সিদ্ধির জন্য বাহির থেকে লবণ আমদানি করে দেশে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। বর্তমান সরকার তা কঠোর হস্তে দমন করায় বাঁশখালীর বর্তমানে অর্ধ লক্ষাধিক লবণ চাষী ন্যায্য মূল্য ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য পাবে এই আশায় লবণ মাঠে রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
সরকার যদি বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় উৎপাদিত এসব লবণ দেশের সর্বত্র রপ্তানিতে সহযোগিতা করেন তাহলে এখানকার লবণ চাষীরা আরো বেশী উপকৃত হবে এবং মানসম্মত লবণ উৎপাদনে আরো বেশী মনযোগী হবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন উপকূলীয় লবণ চাষীরা।

মতামত...