,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীর কয়লা বিদ্যুতের কাজ শুরু: জমির মুল্যের ৮২ কোটি টাকার চেক ডিজ-অনার!

 শাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ, বাঁশখালী, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় সাধারণ মানুষের জমি ও বসতবাড়ির ক্ষতিপূরণের ৮২ কোটি টাকার চেক পাস না করেই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।এতে যে কোন সময় গণ্ডামারায় আবারো সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকার সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ ৫/৬ মাস আগে ইস্যু করা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের এসব চেক পাস না করেই বর্তমানে পুরোদমে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। স্থানীয় পাওনাদাররা ব্যাংকে একের পর এক ধর্ণা দিলেও তাদের চেক পাস হচ্ছে না। ব্যাংক থেকে আজ-কাল করে করে পাওনাদারদের ঘুরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে একাউন্টে টাকা না থাকায় ওই সব চেক পাস করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে সোমবার উত্তেজনা বিরাজ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বাঁশখালীর গণ্ডামারায় সাধারণ মানুষের জমি ও বসতবাড়ির ক্ষতিপূরণের চেক ডিজ-অনার  হওয়ায় পাওনাদাররা আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

সোমবার সকাল থেকে বাঁশখালী পৌর সদর এলাকার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পাওনাদাররা চেক নগদায়নের জন্য ভীড় জমান। পাওনাদাররা টাকা অথবা চেক ডিজঅনার করে দেয়ার দাবি করেন ব্যাংকের কাছে। কিন্তু চেক ডিজঅনার করতে ব্যাংক কর্মকর্তারা গড়িমসি করেন। তাদের ব্যাংকে প্রবেশে বাধা দেয় নিরাপত্তা প্রহরীরা। এসময় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়ার পাশাপাশি ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে বদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তারা। খবর পেয়ে বাঁশখালী থানার এএসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ব্যাংকের ম্যানেজার আনোয়ারুল আলম যারা চেক ডিজঅনার করাতে আগ্রহী তাদের ভেতরে ডেকে নিয়ে বেশ কয়েকটি চেক ডিজঅনার করে দেন। কয়লা প্রকল্পের কাছে জমি ও বসতভিটা হস্তান্তর করেও টাকা না পাওয়ায় গণ্ডামারার এসব মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।পাওনাদার জামাল উদ্দিন জানান, তার বসতভিটা ও জমির বিক্রি মূল্যের ২ কোটি ২২ লাখ টাকার চেক আটকে আছে। এরই মাঝে তার জায়গায় কাজও শুরু করে দেয়া হয়েছে। আজ হবে কাল হবে বলে ব্যাংক চেক পাস করছে না। ব্যাংককে চেক ডিজঅনার করে দিতে বললেও তারা পাত্তা দিচ্ছে না। একই অভিযোগ করেছেন, গণ্ডামারার আজিজুল হক, আবুল কালাম, নুর মোহাম্মদ, রেজাউল করিম, নুরুল আলম, নাদের আলী, অলি আহমদ, ইলিয়াস ও শামসুল আলমসহ আরো অনেকেই। তারা প্রত্যেকের কাছে ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের চেক রয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প এলাকা গণ্ডামারার মাতাব্বর ঘোনার ২ কোটি ৪০ লাখ, বড়ঘোনার ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার, বোয়ারার ঘোনার ৪ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার, রুহুল্লাহর ঘোনার ২ কোটি ৯৯ লাখ, সোনাইয়ার বাপের ঘোনার ২ কোটি ৯০ লাখ ৭০ হাজার, তালুকদার ঘোনার ১ কোটি ৮০ লাখ, ইউসুফ আলী সিকদার ঘোনার ২ কোটি ৬০ লাখ এবং পশ্চিম বড়ঘোনার ৫৯ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ৮২ কোটি টাকার চেক অনাদায়ী রয়েছে। কয়লা প্রকল্পের নতুন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আদিল বিল্লাহ আদিল জানান, যে সব চেক পাস হচ্ছে না। তবে এ সব চেক এস আলম গ্রুপের নয় বরং এই গ্রুপের প্রকল্পের সাবেক সমন্বয়কারী নাছির উদ্দিন চেকগুলো দিয়েছেন। অভিযোগ আছে, এ প্রকল্পে এস আলম গ্রুপ কোন চেক দেন নাই তারা ওই  সমন্বয়কারী নাছির উদ্দিনের ব্যাক্তিগত চেকের মাধ্যমেই সকল লেনদেন সম্পন্ন করেছেন।
ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক বাঁশখালী শাখার ম্যানেজার আনোয়ারুল আলম বলেন, একাউন্টে টাকা না থাকায় চেক পাস হচ্ছে না। তারা দাবি করায়  পাওনাদারদের চেক ডিজঅনার করে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ৬০টি চেক ডিজঅনার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কয়লা প্রকল্পের সাবেক সমন্বয়কারী নাছির উদ্দিনের মোবাইলে বার বার ফোন দেয়া হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। নাছির উদ্দিনের আত্মীয় ও এ প্রকল্পের সহকারী সমন্বয়কারী বাহাদুর আলম হিরণ বলেন, নাছির সাহেব দেশের বাইরে আছেন। ফিরলেই এসব চেকের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, অবশ্যই চেকের মালিক এসব পাওনাদাররা টাকা পাবেন এবং এসব টাকা কয়লা প্রকল্পের।

মতামত...