,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীর কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী ও চীনা রাষ্ট্রপতি

karnafuly-taned-open-pm-chaina-prentবিশেষ সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিলে যে ছয়টি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এর মধ্যে তিনটি চট্টগ্রামের। এগুলো হলো কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, নদীর ওপারে আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক জোন এবং বাঁশখালীর ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রথম দুটি প্রকল্প জিটুজি অর্থাৎ সরকারি প্রকল্প।b

আর শেষেরটি হলো দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের সঙ্গে চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান সেপকোর যৌথ প্রকল্প। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এ প্রথম চট্টগ্রামের কোনো ব্যবসায়ীর প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন দুদেশের সরকার প্রধান। এতে বিনিয়োগ হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের আকার এবং বিপুল অংকের অর্থের এ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সফল উদ্যোক্তার তকমা লাগবে গায়ে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বড় ধরণের বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন চট্টগ্রামের পটিয়ার সন্তান এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ।তিনি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেরও চেয়ারম্যান। চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সাইফুল আলম মাসুদ বলেন, ব্যবসা অনেকদিন ধরেই করছি। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেদের সামাথ্য কোন পর্যায়ে উন্নীতহয়েছে সেটি পরখ করারও কৌতুহল জাগে মনে। তাই ব্যবসায়ীক লাভের জন্য নয়, সামাজিক উদ্যোগেরও অংশ এ প্রকল্প। এ ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়নে যে সকল রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেছিলেন আমি তাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।আগামী চার বছরের মধ্যে এ প্রকল্প যাতে সফলভাবে শেষ করতেপারি সে জন্য সকলের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।

জনাব মাসুদ আরো বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান যতটা না উৎসাহী ছিলো, তার চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সাহস যুগিয়েছেন, পরামর্শও দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সত্যিকার অর্থে চট্টগ্রামকে ভালোবাসেন সেটি আবারো প্রমানিত হলো।যে ছয়টি প্রকল্প তিনি চীনা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তার তিনটিই চট্টগ্রামের।আমরা চট্টগ্রামবাসী বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।’

প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত চার বছরের মধ্যেই এর নির্মানকাজ শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সামর্থ্য হবে।চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান পকো ও বাংলাদেশের বেসরকারিশিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের যৌথ এ প্রকল্পের নাম এস এস পাওয়ার ১ ও ২লিমিটেড।চীনে মাত্র ২৮ মাসে এধরণের প্রকল্প বাস্তবায়নের নজির রয়েছে সেপকোর। বাঁশখালীতে প্রকল্প শেষ করতে সময় লাগবে ৪৫ মাস। পাইলিংয়ের জন্য ১২০টি রিগ সরাসরি নিয়ে আসা হবে বাঁশখালীর প্রকল্প এলাকায়। ১৫ দিনের মধ্যেই শেষ করা হবে প্রকল্পের সকল পাইলিং। লোহার রডের তৈরি খাঁচা তৈরি করে আনা হবে চীন থেকে।প্রকল্প এলাকায় জেটি বানাতে সময় লাগবে ১৮ মাস। সর্বোচ্চ ছয় হাজার মেট্রিনটনের কয়লাবাহী জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে। আর পুরো কাজ শুরু হবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে।

দেশের অন্যতম রড প্রস্তুকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআর এমগ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হোসেন আকবর আলী এফসি এ এধরণের বেসরকারি উদ্যোগকে সহযোগিতা করায় উৎসাহিত বোধ করছেন।তিনি বলেন, আমাদের জন্য এটি খুব ভালো খবর ও শুভ লক্ষনও। শিল্পপতিরা যে শিল্প গড়তে গড়তে সক্ষমতা অর্জন করছেন আর আমাদের সরকার আন্তরিকভাবে সমর্থন দিচ্ছেন তাতেই দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যেতে বাধ্য। তাদের দেখা-দেখি চীনের সঙ্গে আমরাও বড় উদ্যোগে হাত দিবো বলে আশা করছি। ’নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের শীর্ষস্থানীয় অপর এক শিল্পপতি জানান, খুবই উৎসাহব্যাঞ্জক প্রকল্প। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে সরকার বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বড় শিল্প গড়তে সহায়তা করছে। এ গ্রুপের বার্ষিক লেনদেন প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।

দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান পি এইচ পি ফ্যামেলীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী মালেয়শিয়া থেকে জানান, চীনের রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মিলে ২০ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশী শিল্পপতির উদ্যোগে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তা অবশ্যই পজেটিভ। এতে চাইনিজরা উৎসাহিত হবেন। আমরা বাংলাদেশীরা যে বড়শিল্প উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারি সেটিও দেখবে বিশ্ব।

মতামত...