,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করবে নৌ-বাহিনী

bশাহ্ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ, বাঁশখালী, বিডিনিউজ রিভিউজঃ বাঁশখালীর গন্ডামারায় এস. গ্র“প ও চায়না সেফকো কোং যৌথ উদ্যোগে নির্মিতব্য ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের দায়িত্ব হস্তান্তরকালে চট্টগ্রাম জেলা নৌ-বাহিনীর কমেডোর এম. সোহেল বলেছেন, এই বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে গুরুত্ব অবদান রাখবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফলে আশেপাশের এলাকা গুলোতে বিদ্যুৎ ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বারা হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দারিদ্র বিমোচন হবে এই এলাকায়। এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে এলাকায় তেমন কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি জানান। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) বাঁশখালীর গন্ডামারায় নির্মিতব্য কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের দায়িত্ব নৌ-বাহিনীর কাছে হস্তান্তরকালে এলাকাবাসী এবং নৌ-বাহিনীর মতবিনিময়কালে উপরোক্ত কথা গুলো বলেন তিনি। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) মোঃ এমরান ভুঁইয়া, সহকারী পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মোঃ মুফিজ উদ্দীন ও বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও মতবিনিময় সভায় এস. আলম গ্র“পের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, মোস্তান বিল্লাহ আদিল ও বিমল কান্তি মিত্র। নৌ-বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার পর এলাকাবাসীর মাঝে আশার বুক বেঁধেছে। মতবিনিময়কালে সাধারণ জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের দেন চট্টগ্রাম জেলা নৌ-বাহিনীর কমেডোর এম. সোহেল। এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষে আবু আহমদ বলেন, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র একটা নয় দশটা হলেও আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু এখানে কোন সন্ত্রাসী দিয়ে কাজ করা যাবে না। জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চট্টগ্রাম দক্ষিণ) এ এলাকায় কোন সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজ ও জঙ্গি থাকলে আমাদের খবর দিলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি আরো বলেন, এ এলাকায় কোন সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) এ বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ কাজের উদ্ভোধন করেছেন চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও দেশে যে ছয়টি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছেন এর মধ্যে তিনটি চট্টগ্রামের। এগুলো হলো কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, আনোয়ারা ইকোনোমিক জোন এবং বাঁশখালীর ১৩২০ মেগাওয়াট সম্পন্ন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তৎমধ্যে কর্ণফুলী নদীর টানেল ও আনোয়ারা ইকোনোমিক জোন হচ্ছে সরকারি প্রকল্প। বাঁশখালীর কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান এস. আলম গ্র“প ও চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান সেপকোর যৌথ প্রকল্প। এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে ২০ হাজার কোট টাকা। বৃহৎকার এ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের মাঝে সফল উদ্যোক্তার ছোঁয়া লাগবে মনে করেন স্থানীয়রা।
এ বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ কাজ শেষ করতে সময় লাগবে ৪৫ মাস। পাইলিংয়ের জন্য ১২০টি রিগ সরাসরি নিয়ে আসা হবে বাঁশখালীর প্রকল্প এলাকায়। ১৫ দিনের মধ্যেই শেষ করা হবে প্রকল্পের সকল পাইলিং। লোহার রডের তৈরি খাঁচা তৈরি করে আনা হবে চীন থেকে। প্রকল্প এলাকায় জেটি বানাতে সময় লাগবে ১৮ মাস। সর্বোচ্চ ছয় হাজার মেট্রিকটনের কয়লাবাহী জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে। আর পুরো কাজ শুরু হবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে।
বাঁশখালীর এই বৃহৎকার বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাঁশখালীর লাখো মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। হাজারো মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। উপকূল জুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের সমাগম ঘটবে। সর্বোপরি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে বাঁশখালীর উপকূলজুড়ে। গতকাল এই প্রতিবেদক বাঁশখালীর উপকূলীয় গন্ডামারা এলাকায় ১৩২০ মেগাওয়াট সম্পন্ন এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রজেক্ট এরিয়া সরজমিনে পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের সাথে কথা হলে এমনটাই অভিমত ব্যক্ত করেন তারা।

শাহ্ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ

মতামত...