,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিবেশ ছাড়পত্র ও অনুমোদন পায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, যে বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বাঁশখালীতে এত তুলকালাম, সেটি এখনো কোনো রকম পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অনুমোদনই পায়নি। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হওয়ায় অন্তত তিন ধরনের ছাড়পত্র প্রয়োজন এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে।

কেননা, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা (১৯৯৫) অনুযায়ী, এগুলো লাল তালিকাভুক্ত বা মারাত্মক পরিবেশ দূষণকারী প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত।বিধিমালা অনুযায়ী, লাল তালিকাভুক্ত প্রকল্পে যেকোনো ভৌত অবকাঠামোগত কাজ শুরু করার আগে সাইট ক্লিয়ারেন্স এবং পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করে তার অনুমোদন নিতে হয়।

আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে যন্ত্র স্থাপনসহ অন্যান্য কাজ করার আগে পেতে হয় পরিবেশ ছাড়পত্র। বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য ওই তিন অনুমোদনের কোনোটাই এখনো পায়নি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার লিমিটেড।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকেও এসব অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকারও করে বলা হয়েছে, তারা খুব শিগগিরই অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, পরিবেশ ছাড়পত্র কমিটির ১২ এপ্রিলের সভায় এসএস পাওয়ারের বাঁশখালী প্রকল্পের সাইট ক্লিয়ারেন্স এবং ইআইএ উত্থাপন করা হবে অনুমোদনের জন্য।

(পরিবেশ আইনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প লাল তালিকাভুক্ত  তিন ধরনের ছাড়পত্রের কোনোটিই পায়নি বাঁশখালীর প্রকল্প n গণশুনানি নিয়েও প্রশ্ন পরিবেশবিদদের)

এস আলম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত কুমার ভৌমিক এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ইতিমধ্যে বাঁশখালী প্রকল্পের ইআইএ প্রতিবেদন তৈরি করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র শাখায় জমা দিয়েছেন। শিগগিরই তাঁরা অনুমোদন পেতে যাচ্ছেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে এসব অনুমোদন পাওয়ার আগেই এসএস পাওয়ার লিমিটেড তাদের প্রকল্প এলাকায় জমির সীমানা পিলার দেওয়া, ভূমি উন্নয়নের জন্য খননযন্ত্র স্থাপন এবং প্রকল্প এলাকার জমিতে কাজ পরিচালনার জন্য অস্থায়ী টিনের ঘর বা কার্যালয় স্থাপন করেছে। এই অভিযোগ করে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বলছে, এই প্রকল্পের ছাড়পত্র পাওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে, প্রকল্পের ব্যাপারে স্থানীয় জনগণের সমর্থন থাকতে হবে। বাঁশখালীতে চলমান আন্দোলনকে পরিবেশবাদীরা প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অনাস্থার প্রকাশ মনে করছেন।
ইআইএ প্রতিবেদন তৈরির অংশ হিসেবে প্রকল্প এলাকার জনগণের সঙ্গে এ পর্যন্ত মোট চারটি সংলাপ বা গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছিল বলে এস আলম গ্রুপ থেকে জানানো হয়েছে। তারা বলছে, প্রতিটি গণশুনানিতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল এবং তাঁরা প্রকল্পের পক্ষে মত দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মিজান আর খান প্রথম আলোকে বলেন, ইআইএ অনুমোদনের আগে প্রকল্প এলাকার জমিতে কোনো ধরনের কাজ করা নিষেধ। কয়েক দিন ধরে বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটির বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে, তাতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে স্থানীয় জনগণের মতামত সঠিকভাবে নেওয়া হয়নি। বরং সাজানো গণশুনানি হতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কয়লাখনি প্রকল্পের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র পায় এশিয়া এনার্জি। তবে ২০০৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ফুলবাড়ী প্রকল্পের পরিবেশ ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে যুক্তি হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র শাখা থেকে বলা হয়েছিল, প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের আন্দোলন প্রমাণ করে এর পক্ষে জনমত নেই।
বাঁশখালী বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপারে জানতে চাইলে জ্বালানি, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, এটি একটি বেসরকারি প্রকল্প। সরকার এস আলম গ্রুপকে শুধু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। তারা যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে তাহলে সরকার তা কিনে নেবে। এর বাইরে এই প্রকল্পের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নাই।
এস এস পাওয়ারের বাঁশখালী প্রকল্প সম্পর্কে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামালউদ্দিন আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এখনো বাঁশখালী প্রকল্পের কোনো ছাড়পত্র দিইনি। বর্তমানে বাঁশখালীতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। যদি স্থানীয় জনগণের আপত্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই প্রকল্পটির ছাড়পত্রের ব্যাপারে দেখেশুনে সিদ্ধান্ত নেব।’
এস আলম গ্রুপ থেকে জানানো হয়েছে, বাঁশখালীর গণ্ডামারা এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ৮৫৫ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই জমির বেশির ভাগই ইতিমধ্যে স্থানীয়দের কাছ থেকে কিনে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে এস আলম গ্রুপ। ওই জমিতে বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য তারা ২০১৩ সালে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করে।
২০১৪ সালের আগস্টে প্রকল্পের ইআইএ কীভাবে হবে এবং এর শর্ত কী হবে, তা অনুমোদন করে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত বছরের আগস্টে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে তারা প্রকল্পের সাইট ক্লিয়ারেন্স, ইআইএ প্রতিবেদন এবং পরিবেশ ছাড়পত্রের আবেদন জমা দেয়। ২৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে প্রকল্পটি নির্মাণের জন্য এস আলম গ্রুপের সঙ্গে চীনা কোম্পানি সেপকো থ্রি ইলেকট্রিক পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন ও এইচটিজি গ্রুপের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় গত ফেব্রুয়ারিতে।

 -প্রথম আলো ‘র প্রতিবেদন।

মতামত...