,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীর দক্ষিণে সাগর কূলের ছনুয়া দুর্যোগে নিঃস্ব

শাহ্ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ, বাঁশখালী, ২৭ ডিসেম্বর,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বাঁশখালীর পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নের সর্বদক্ষিণের ইউনিয়নটি হল ইউনিয়ন। পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর ও কুতুবদিয়া। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও চকরিয়া। এরই উত্তরে অবস্থিত ছনুয়া ইউনিয়নটি। এলাকার অর্ধলক্ষাধিক জনগণের অন্যতম পেশা লবণ উৎপাদন, মাছ চাষ সহ সাগরে মৎস্য আহরণ করেই জীবন নির্বাহ করা।

বিগত দিনের ১৯৯১ এর প্রলয়ংনকরী ঘূর্ণিঝড়সহ সিডর, নার্গিস, কোমেন এবং সর্বশেষ রোয়ানুর আঘাত থেকেও রক্ষা পায়নি এই ছনুয়াবাসী। বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে সাগর উপকূলের এই জনগণকে। সম্প্রতি বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ছনুয়া এলাকার অধিকাংশ বেড়িবাঁধ সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয় তথ্য মতে, সি-সাইডে ৪০ চেইন এবং কান্ট্রি সাইডে ৮৫ চেইন ধরা হলেও এই হিসাব আরো বাড়তে পারে। বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানি ঢুকে এই এলাকার প্রায় ৭ শতাধিক পুকুরের মাছ মারা পড়ে এবং অর্ধ লক্ষাধিক মণ লবণ সাগরের পানিতে মিশে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় প্রায় সহস্রাধিক বাড়ীঘর। তারমধ্যে বেশ কিছু বাড়ীঘর একদম মাটির সাথে মিশে যায়। এছাড়াও কাঁচা এবং পাকা রাস্তা মিলে অধিকাংশ রাস্তাই বর্তমানে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাঁশখালীর সর্বদক্ষিণের এই ইউনিয়নটি বাঁশখালীর একটি অংশ হলেও এখানকার জনগণ অনেকটাই নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অধিকাংশ বাড়ীঘরে নেই কোন বিদ্যুৎ সংযোগ। সম্প্রতি বয়ে যাওয়া রোয়ানুর আঘাতে এখানে বেশ কয়েকটি স্কুল মাদ্রাসা নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এলাকা সরজমিনে পরিদর্শনকালে রোয়ানুর আঘাতে বাড়ীঘর বিলীন হয়ে যাওয়া দিলুয়ারা বেগম, দলিলুর রহমান, মোজাম্মেল ও কলিম উল্লাহসহ অন্যান্যরা বলেন, স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিটি দুর্যোগেই আমরা জীবন মৃত্যুর সন্দিক্ষণে থাকি। বর্তমানে বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ায় প্রতিদিন জোয়ার ভাটার পানি ঢুকছে আমাদের এলাকায়। বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বসবাসকারী এসব জনগণ সরকারের কাছে জোর দাবী জানান কোন ত্রাণ স্থায়ী বেড়িবাঁধ হলেও আমরা মাথা গোজার ঠাঁই পাবো। একের পর এক দুর্যোগ আমাদের উপর আঘাত হানে। একটি দুর্যোগ শেষ হওয়ার পর বাড়ী ঘর নতুন করে করতে না করতেই আরেকটি দুর্যোগ নেমে আসে আমাদের উপর। বিশেষ করে বেড়িবাঁধ থাকলে আমাদের বিলীন হয়ে যেত না। তাই আমরা বেঁচে থাকার জন্য স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবী জানাচ্ছি। এছাড়াও এই এলাকার বিদ্যুৎ সুবিধা নেই। অধিকাংশ রাস্তা ঘাট চলাচল অনুপযোগী। আশ্রয়কেন্দ্র ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট। সব মিলিয়ে অনেকটা নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত এই ছনুয়াবাসী। এ ব্যাপারে স্থানীয় মোহাম্মদ উল্লাহ ও শামশুল আলম বলেন, ১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে এ এলাকার জনগণ অনেক ভাবে ত্রাণ পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের বড় ত্রাণ হচ্ছে বেড়িবাঁধ। স্থায়ী বেড়িবাঁধ না হলে কোন ত্রাণই আমাদের রক্ষা করতে পারবে না। তাই সরকারের ছনুয়াবাসীকে বাঁচাতে হলেও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কোন বিকল্প নেই বলে দাবী করেন। এ ব্যাপারে ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকার কারণে এবং ভেঙে যাওয়ায় ছনুয়া এলাকার বেশ কিছু এলাকায় প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি ঢুকে। ফলে এই এলাকার জনগণের সীমাহীন ভোগান্তি হয়। সম্প্রতি ভয়ে যাওয়া রোয়ানুর আঘাতে ছনুয়া এলাকার জনগণ সীমাহীন ক্ষতির সম্মুখীন ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বর্তমানেও। অধিকাংশ রাস্তাঘাট চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এখানকার জনগণের বেচে থাকার অন্যতম অবলম্বন লবণ চাষ ব্যাহত হয়েছে এবং অধিকাংশ পুকুর ডোবা লবণাক্ত পানিতে মিশে গিয়ে মাছ চাষে চরম ক্ষতি সাধন হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার বাঁশখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধের জন্য ২৫১ কোটি টাকার কাজ হাতে নিলেও কাজে কিছুটা ধীর গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের আগে যদি বেড়িবাঁধের কাজটি শেষ না হয় তাহলে আবারো বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকার ছনুয়া, খানখানাবাদ, গন্ডামারা, বাহারছড়া, সরল ইউনিয়ন গুলোতে আবারো দুর্যোগ পোহাতে হবে উপকূলবাসীকে। অপরদিকে বিগত ঘূর্ণিঝড়ে ওই এলাকা গুলোতে প্রচুর পরিমাণ ক্ষতি সাধিত হলে বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়ায় উপকূলবাসীর প্রতি। কিন্তু তা পর্যাপ্ত পরিমাণ না হওয়ায় এখানকার জনগণ সরকারের প্রতি সাহায্যের আহবান জানান।

শাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ

মতামত...