,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে র্দূনীতির অভিযোগ!

badi-badশাহ্ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ্, বাঁশখালী সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রামের উপকূলীয় বাঁশখালী উপজেলায় সম্প্রতিকালের ঘুর্ণিঝড় রোয়ানুর তান্ডবে বিধ্বস্ত উপকূলবাসীর জান-মাল রক্ষা করার জন্য।
বাঁশখালীর উপকূলীয় খানখানাবদ বেড়িবাঁধের জন্য সরকারভাবে ২কোটি ৪১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বাঁশখালীর খানখানাবাদ উপকূলীয় রিং বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতে সামুদ্রিক সাবাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। রিং বাঁধের নির্মাণ কাজ টেকসই না হওয়ায় কারণে সামুদ্রিক জোয়ারের পানিতে অবারো মসজিদ, স্কুল কবরস্থান ঘর-বাড়ীসহ তলিয়ে গেছে। উপকূলীয় এলাকার জনগণকে জলোচ্ছাসের তান্ডব থেকে রক্ষার জন্য নির্ধরিত মানের রিং বাঁধ নির্মাণ হয়নি বল্লেই চলে। ফলে বেশিরভাগ উপকূলীয় আঞ্চলেল বিভিন্ন ইউনিয়ন এখনো অরক্ষিত রয়েছে। নির্মাণের আড়াই কোটি টাকা মূল ঠিকাদার-সাব ঠিকাদার ভাগ করে নিয়েছে বলে অভিযোগ বাঁশখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ না হতে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছ।
গত কয় দিন যাবৎ জোয়ারের পানিতে বেশ ভাগ উপকূলীয় এলাকা আবারো নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে রিং বাঁধ নির্মাণের কাজটি মূল ঠিকাদার হইতে কয়জন সাব ঠিকাদারের হাত ঘুরে নির্মাণ কাজটি করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযেগ। এ রিং বাঁধ নির্মাণে নির্ধারিত গাছ কুটি ও পরিক্ষা মূলক বালি ভর্তি জিও ব্যাগ দেওয়া সিড়িওলে থাকলেও ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের কুটি ও সাগরের বালি এবং মাটির জিও ব্যাগ। সাগরের জোয়ার-ভাটার ত্রীব পানির তোড়ে প্রতি মুহুতে ভেঁঙ্গে যাচ্ছে রিং বাঁধ।
এতে যে কোন মুর্হূতে উপকূলীয় এলাকায় আবরো বড় ধরণের আর্ঘাতে আশংকা রয়েছে পারে বলেও স্থানীদের অভিযোগ। নির্ধারিত নির্মাণ কাজ যে দিকে বেশি প্রয়োজন, সেই দিকে না করে অন্য দিকে কাজ করেছে এমনও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই দিকে খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া, কদম রসুল, মৌলভী পাড়া, রৌশাংগ্রী পাড়া, সিন্দীপাড়া, সাইর পাড়া, ছনুয়া এলাকার ছনুয়ার টেক, মধুখালী, খুদুকখালী, ছেলবন, পশ্চিম মাতব্বর পাড়া, সরল (আংশিক), পুকুরিয়া, পুইছড়ি (আংশিক), গন্ডামারা, বড়ঘোনাসহ এলাকায় বেশ কিছু সংখ্যক এলাকা জোয়ার-ভাটার পানিতে প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে প্রতি মুহুতে।
উপকূলবাসীদের বাসস্থাল ও জীবন রক্ষাকারী জীবন-মরণবাঁধ খ্যাত উপকূলীয় বেড়িবাঁধ না থাকায় এলাকার মানুষ দুর্বিসহ জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। একইভাবে গ্রামীণ অবকাঠামো এবং রাস্তা-ঘাট গুলো বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে । গত ২৩ মে সরকারের তিন প্রভাবশালী মন্ত্রী বাঁশখালী বিধ্বস্ত এলাকা পরির্দশনে এলে মন্ত্রীরা বলেন, মাটির বাঁধ নাই, ব্লক দিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। তারই পরিপেক্ষিতে ২৫শ-১৭ মিটার বেড়িবাঁধের জন্য সরকার প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। রিং বাঁধ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মোস্তফা এন্ড সন্স এ দায়িত্বভার পেলেও ঠিকাদারী সাব ঠিকাদার হিসেবে সাবেক ইউপি সদস্য গাজী সিরাজুল মোস্তফা সহ কাজ পরিচালানা করেন স্থানীয় মুনাফা লুবি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। খানখানাবাদ উপকূলীয় এলাকায় সরজমিনে পরির্দশন গেলে স্থানীয়রা জানান, পাউবো কাজের অভিজ্ঞাতা নাই, এমন স্থানীয় কিছু দালাল চক্রকারীদের দিয়ে বাঁধ নিমাণ কার হয়েছে। তারা তাদের ইচ্ছা মত করে বাঁশের কুটি (বল্লি) ও সাগর থেকে তোলা বালি ভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে নিম্মমানের রিং বাঁধ নির্মাণ করেছে।
নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতে ভাসিয়ে যাচ্ছে । ফলে সরকরের বরাদ্দকৃত প্রায় আড়াই কোটি টাকা সাগরের পানিতে ভাসিয়ে যাচ্ছে।
এসব না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু না করলে উপকূলীবাসীর জান-মাল রক্ষা হতো।এ ব্যাপারে স্থানীয় খানখানাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক আবু বলেন, আমার এলাকাই বেড়িবাঁধের কাজ চলছে অথচ আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে কিছু জানানো হয় নি। প্রথম যে দিকে দেওয়া প্রয়োজন সে দিকে না দিয়ে প্রায় ১৮’শ পরিবার রিংবাঁধের আওতায় আসেনি।
ঠিকাদার হিসাবে কে কাজ করছে তাও জানি না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া টাকা কাজ না করে খেয়ে ফেলার পায়তার করছে। লুটপাট করতেই তড়িগড়ি করে এ কাজ করা হচ্ছে। আমরা উপকূলের মানুষ আর অরক্ষিত থাকতে চাইনা। বতর্মান সরকারের কাছে আমার একাই আবেদন স্থায়ী এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষা করা হয় আমাদের।
এ দিকে ছনুয়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, বতর্মানে জোয়ারের পানি আমার এলাকার বেশ কিছু পয়েন্টে প্রবেশ করে। বেড়িবাঁধ না থাকায় এখানকার অধিবাসী ক্ষতি সাধন করছে এবং অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক গুলো যোগাযোগের অবস্থা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বিগত কিছু দিন আগে রোয়ানুর তান্ডাব যেতে না যেতে আবারো জোয়ার-ভাটার কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) হাবিবুল হাসান বলেন, উপকূলীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ শুনে সরেজমিন এ পরির্দশনে গিয়েছিলেম বিষয়টি জেলা সমন্বয় সভায় উপস্থপনা করছি। এলাকার পনি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃকপক্ষও ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাইবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, কি ব্যবহার করলে বাঁধ টেকসই হবে তা দেখভার করবে ঢাকা ডিজাইন ইউনিট। তবে বেড়িবাঁধ নির্মানে বাঁশ ব্যবহার করা বিষয় এ জানান, বাঁশ ব্যবহার করা সিড়িউলে আছে। রোয়ানুর দুগর্তদের জীবন বাঁচেই এই রিং বাঁধ। কোথাও বলি বাঁধ দেওয়া হচ্ছে না। তাছাড়া কিছু কিছু অংশে মাটি ভর্তি জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে আমাদের কোন অবহেলা নাই। আমরা উপকূলের বেড়িবাঁধ গুলো টেকসইভাবে নির্মানের উপর জোর দিয়েছি। এ বাঁধ ছাড়া স্থায়ীভাবে আগামী নম্বেবর বা ডিসেম্বরের দিকে কাজ শুরু করব। ভয়াবাহ জলোচ্ছাস থেকে এসব বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন তা করব।

মতামত...