,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালী-সাতকানিয়া সড়কে সিএনজির ভাড়া নৈরাজ্য!

CNGশাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ, বাঁশখালী,বিডিনিউজ রিভিউজঃ বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালিত অটোরিক্শা ভাড়া লাগামহীন অবস্থায় পৌঁছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুু মন্ত্রী ওয়াবাইদুল কাদের গত বছর সিএনজি চালিত অটোরিক্শা ভাড়া নিধারণ করলেও কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে খেয়াল-খুশিমত ভাড়া আদায় করা cহচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের নিটক থেকে। অন্যদিকে এই দুই উপজেলায় ৫/৬ হাজার নম্বার বিহীন অটোরিক্শা। এই গাড়ী গুলোর

চালকও রয়েছে লাইন্সেন বিহীন ফলে র্দূঘটনা দিন দিন বেড়ে চলছে। সিএনজি চালিত অটোরিক্শা রাতে চলাচলকারী অনেক গাড়ীতে ভিন্ন রঙগের লাইট ব্যবহার করায় অহরহ ঘটছে র্দুঘটনা। অন্যদিকে যানজটের শেষ নেই।
বাঁশখালী ও সাতকানিয়া সড়কে গত কয়েক বছর আগে বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এই সড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীদের হয়ারানি বেড়ে যায়। এমন কি অটোরিক্শা চালকদের সাথে অনেক যাত্রী হাতা-হাতিও ঘটছে। সিএনজি চালিত অটোরিক্শার যাত্রী গড়ে ৬০ ভাগ বাড়ানোর পর পোয়াবারো এখন মালিক-শ্রমিকের। আর অসাহায় যাত্রীরা হয়ে পড়েছেন জিম্মি। ভাড়া-নৈরাজ্য চরমে পৌঁছেছে। সরকারিভাবে কি:মি: হিসেবে নির্ধারণ কলেও আগের ছেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করছে। বাঁশখালী ও সাতকানিয়া সড়কে চলাচলকারী অটোরিক্শার চালকরা। শ্রমিক নেতার ইচ্ছামত বাড়া নির্ধারণ করেছে, আদায় করছে অটোরিক্শা চালক। যাত্রীদের পছন্দেও গন্তব্যে যেতেও রাজিও হয় না। সরকারিভাবে অটোরিক্শা ভাড়া নির্ধারণ অনুযায় প্রথম ২ কি:মি: ভাড়া ৪০ টাকা, পরে প্রতি কি:মি: ১২ টাকা। কিন্তু তার ছেয়ে দ্বি-গুণ ভাড়া আদায় করে যাচ্ছে চালকরা।
গতকাল রবিবার বিকালে বাঁশখালীর গুনাগরী চৌমুহনী থেকে সাতকানিয়া রাস্তার মাথায় যেতে চাইলে গুনাগরীর অটোরিক্শা চালকরা এই প্রতিবেদকের কাছে ১শ টাকা ভাড়া দাবি করে। এই ষ্টেশনের গাড়ী ছাড়া অন্য কোনো ষ্টেশনের গাড়ী এইখান থেকে যাত্রী নিতে চাইলে গুনাগরী শ্রমিক নেতারা বাধা দে। ঘন্টা ২/১পরে ষ্টেশন থেকে কিছু দূরে গিয়ে সাতকানিয়ার একটি অটোরিক্শা কওে ৬০ টাকা ভাড়া দিয়ে এই স্থানে যান তিনি।
রাস্তার মাথায় অটোরিক্শার যাত্রী এনজিও কর্মীর সাথে কথা হয়, তিনি বলেন, গত রমজানের ঈদ উপলক্ষে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল, কিন্তু এখনও ভাড়া কাময়নি চালকরা।
সিএনজি চালিত অটোরিক্শায় কাগজে-কলমে প্রেইভেট সার্ভিস থাকলেও লোকাল যাত্রী নিয়ে চলে। এইদিকে বাঁশখালীর পুকুরিয়া চৌমুহনী হইতে চাঁদপুর চৌমুহনী (৩ কি:মি) এখানে সরকারি নির্ধারণ অনুযায় ভাড়া হয় ৬৪ টাকা, কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে ৮০-১শ টাকা। চাঁদপুর হইতে গুনাগরী (৫ কি:মি) এখানে ভাড়া হয় ৭৬ টাকা, কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে ১শ থেকে ১শ ২০ টাকা। গুনাগরী হইতে জলদী (৫ কি:মি) এখানে ভাড়া হয় ৭৬ টাকা, কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে ১শ থেকে-১শ ২০ টাকা। গুনাগরী হইতে মোশারাফ আলী মিয়ার বাজার (৪ কি:মি) এখানে ভাড়া হয় ৬৪ টাকা, কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে ১শ টাকা। জলদী হইতে চাম্বল বাজার (৫ কি:মি) এখানে ভাড়া হয় ৭৬ টাকা, কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে ১শ থেকে-১শ ২০ টাকা।
জলদী হইতে প্রেম বাজার (৮ কি:মি) এখানে ভাড়া হয় ১শ ১২ টাকা, কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে ২শ টাকা। বাঁশখালীর গুনাগরী হইতে সাতকানিয়ার ফুলতলা (৫ কি:মি) এখানে ভাড়া হয় ৭৬ টাকা, কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে ১শ ৫০ টাকা। গুনাগরী হইতে সাতকানিয়ার দেওয়ারডিঘি (সাড়ে ৬ কি:মি) এখানে ভাড়া হয় ৯৪ টাকা, কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে ২শ ৫০ টাকা। গুনাগরী হইতে সাতকানিয়ার ডলুব্রীজ (সাড়ে ৭ কি:মি) এখানে ভাড়া হয় ১শ ৬ টাকা, কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে ৩শ টাকা। গুনাগরী হইতে সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা (সাড়ে ৯ কি:মি) এখানে ভাড়া হয় ১শ ২৪ টাকা, কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে ৩৫০ টাকা। একইভাবে বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার প্রায় জাগায় ভাড়া আদায় করছে শ্রমিকদের দাপড়ে। একইভাবে প্রায় সময় ভাড়া দিয়ে আসছে সাধারণ যাত্রীরা। সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার এই ভাড়ার ছেয়েও বেশি ভাড়া আদায় কারে চালকরা। ভাড়া নিয়ে দরাদরি করলে খারাপ আচরণ করে চালকেরা। প্রতি ঈদেও মৌসুমে যাত্রীদের কাছ থেকে এই ভাড়ার ছেয়ে ২-৩ গুণ ভাড়া আদায় করে চালকরা। এইভাবে কতিপয় অটোরিক্শা চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে চলেছেন। অতিরিক্ত ভাড়া না পেলে চালকরা খারাপ আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন একাধিক যাত্রীরা। বাঁশখলী জলদী এলাকার আবদুল করিম জানান, উপজেলা সদর ষ্টেশনের গাড়ীতে করে কর্ণফুলী নতুন ব্রীজ পর্যন্ত যেতে অটোরিক্শায় ভাড়া নে ১০০টাকা। এই ষ্টেশনের আগে বা পরে থেকে অন্য কোন ষ্টেশনের গাড়ীতে করে গেলে ৫০-৬০ টাক, বাঁশখালীর মত ভাড়া অন্য কোনো এলাকালায় নেই।
অটোরিক্শা চালক আলমগীর বলেন, প্রতি ষ্টেশনের লাইনম্যান কে টাকা দিয়ে যাত্রী নিতে হয়, টাকা কি আমরা ব্যানাই, যাত্রীদের কাছ থেকে না নিয়ে কোথায় পব। প্রতি বছর দুই ঈদেও মৌসুমে যাত্রীদের বলে-কয়েক টাকা ভাড়া বেশি নিয়েছিলাম, এখনো অতিরিক্ত ভাড়া যাত্রীরা দে, তাই আমরা নেই।
বাঁশখালী অটোরিক্শা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আনছার বলেন, সরকারিভাবে ভাড়া নির্ধারণ করছে শহরের জন্য, গ্রামের কোনো ভাড়া নির্র্ধারণ নেই, গ্রামের আমরা যেইভাবে নির্ধারণ করি সেই ভাবে আদায় করে চালকরা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চালকদের পোষাইমত ভাড়া নিতে হয়।
সাতকানিয়া ডলুব্রীজ অটোরিক্শা সমিতির সভাপতি শাহ আলম বলেন, বর্তমানে অটোরিক্শা অঞ্চিলিক মহা সড়কে চলাচল করতে পারে না এবং বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিকদেরও টাকা দিয়ে টোকেন নিয়ে গাড়ী চালাতে হয়, এই কারণে ভাড়া একটু বেশি নিতে হয়।
এব্যপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী চালেহ তস্তরী বলেন, অন্যভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ

মতামত...