,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালী হত্যাকান্ডের খুনিরা যেন পার না পায়

aবাঁশখালী সংবাদদাতা ,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘাতে গুলিতে চারজন গ্রামবাসী নিহতের পাঁচ দিন পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও মানববন্ধন করেছে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

liakot bkliশুক্রবার (৮ এপ্রিল) ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বেলা ১২টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরে হাজিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশ করেন তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আইন ও শালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি শাহ আলমসহ অন্যরা।

এ সময় আনু মুহাম্মদ বাঁশখালী হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘এক পক্ষকে খুশি করার জন্য সরকার এ বিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কোনো ধরনের সমীক্ষা না করেই পরিবেশের ক্ষতি করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে এ এলাকার পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে।’

নিহতদের ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সরকার থেকে নয়, যারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদেরকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শুধু ক্ষতিপূরণ দিলেই হবে না, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।’

এ ঘটনার জন্য দায়ীরা যেন পার না পায় সেই হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত খুনিদের যেন দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তথাকথিত তদন্ত কমিটি আমরা চাই না। স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিটি করে ওই খুনিদের বিচার করতে হবে।’

অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বাঁশখালী হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত দোষীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে, গণ্ডামারায় আজ বিকেলে শোক ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে গ্রামবাসী। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাঁশখালীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষস্থল মজিবের টিলা এলাকায় এ শোক ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় স্থানীয়দের সংগঠন ‘গণ্ডামারা ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলন’। সমাবেশে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এবং জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর।

তবে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মানিকচর গ্রামে শোক সমাবেশের মাইক ছিনিয়ে নিয়ে যায় এস আলম বিদ্যুৎকেন্দ্র পক্ষের লোকজন। এ সময় মাইকিংয়ের কাজে থাকা জুবায়ের (১৫) নামে এক কিশোরকে মারধর করে তারা।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলের প্রতিবাদ সমাবেশের মাইকিং করতে গেলে মানিকচরে এস আলম বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষের লোকজন মাইক ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ সময় মাইকিং করতে যাওয়া কিশোরকে বেধরক মারপিট করে তারা।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) কাজী আব্দুল আওয়াল বলেছেন, ‘বাঁশখালীতে বর্তমানে ৮০ সদস্যের পুলিশ একটি অতিরিক্ত টিম অবস্থান করছে। এ ছাড়া থানা ফাঁড়িতে নিয়মিত পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রয়োজন হলে শহর থেকে অতিরিক্ত ফোর্স পাঠনো হবে।

বি এন আর/০০১৬/০০৪/০০৮/০০০৪৮৮৯ /এস

মতামত...