,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাংলাদেশকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় ভারতঃ চট্টগ্রাম চেম্বারে হাইকমিশনার

abnr ad 250x70 1নাছির মীর, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোগত সুবিধা ব্যবহার করে দু’দেশকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিবেশী দু’দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশি পণ্যের গুণগত মান বাড়াতে হবে। এছাড়া রিলায়েন্স, ফেভিকলসহ ভারতের অনেক বহুজাতিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিয়োজিত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা। গতকাল আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনভেনশনে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে এক মতিবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহাবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংসদ এম এ লতিফ, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার সোমনাথ হালদার। উল্লেখ্য, বৈঠকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতারা ভারতের সেভেন সিস্টারসের (প্রতিবেশি সাতটি অঙ্গরাজ্য) সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কোন্নয়ন, ভারতীয় বহুজাতিক কোম্পানির সাথে বিনিয়োগ বাড়ানো, বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা, বৈধ পথে আমদানি-রপ্তানি বাড়ানো, ব্লু-ইকোনমির সুবিধা পেতে ভারতের সিমলা বন্দর ব্যবহার, ব্যবসায়ীদের ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতা নিরসন এবং বাংলাদেশি পণ্যের ভারতীয় মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র প্রাপ্তিতে বিলম্ব দূরীকরণসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে ‘বড় ভাই’ এর মত পাশে থেকে সহযোগিতার আহবান জানান। ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ২৫ টি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা দিয়েছে। এছাড়া অবকাঠামোগত খাতে ভারত ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। তিনি বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় মন্তব্য করে বলেন, দেশটি গত ৭ বছরে দারুণ উন্নতি করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিটেন্স, মানব উন্নয়ন সূচকসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্দরকে উন্মুক্ত করে দেয়া হাসিনা সরকারের একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যতে পাওয়ার ও এনার্জি সেক্টরে বিনিয়োগের পাশাপাশি এলএমজি টার্মিনাল নির্মাণ, আইসিটি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। এম এ লতিফ বলেন, ভারত দু’শো বছর আগে যাত্রা শুরু করেছে আর আমাদের যাত্রা এখনো ৫০ বছরও হয়নি। প্রতিবেশি অনেক দেশের অসহযোগিতার কারণে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। ভারত যদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখে তবে খুব শীঘ্রই চীন ও ভারতের পর বাংলাদেশই এশিয়ার তৃতীয় অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। তিনি বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। সরকার চাইলেই ব্যবসায়ীরা যে কোন ক্ষেত্রে ছাড় দিতে পারে না। ব্যবসা চলবে ব্যবসায়ীদের হিসেবে। এডিবির মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে ভারতীয় বিনিয়োগের আহবান জানান। চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, দ্বিপাক্ষিক ও বহুজাতিক কোম্পানির সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভারতের সাথে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করা সম্ভব। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও আনোয়ারায় বাস্তবায়নাধীন বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগ আহবান করেন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, এ কে খান গ্রুপের এমডি সালাহ্‌উদ্দীন কাসেম খান, চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম, কাস্টমস কমিশনার হোসেন আহমেদ, জেএফ বাংলাদেশ এর সিইও এ কিউ আই চৌধুরী, পূর্বদেশের সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদ (মিন্টু), বিএসআরএম’র এমডি আমীর আলী হুসেইন, ওয়েস্টার্ন মেরিনের এম ডি ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পেডরোলো’র চেয়ারম্যান নাদের খান, জিপিএইচ ইস্পাত’র আলমাস শিমুল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নুরুন নেওয়াজ সেলিম, সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা রাকেশ রহমান, পরিচালক মো. দিদারুল আলম, মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, এ কে এম আক্তার হোসেন, মাহফুজুল হক শাহ, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মো. সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাবিবুল হক, হাবিব মহিউদ্দিন, অঞ্জন শেখর দাশ, মো. আরিফ ইফতেখার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

মতামত...