,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাংলাদেশের মাথাব্যথা রোহিঙ্গ সমস্যা

rohiggaআবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম: মিয়ানমারের রোহিঙ্গ সমস্যাটি বাংলাদেশের জন্য স্থায়ী মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে এনে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর পর পর রোহিঙ্গাদের ওপর হামলে পড়ে। একজন প্রবীণ রোহিঙ্গা নেতা বলেন, প্রায় ৬৮ বছর আগে আরাকান অঞ্চলকে পূর্ব-পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন রোহিঙ্গাদের কিছু স্থানীয় নেতা। তখন থেকে মিয়ানমারের রাখাইন গোষ্ঠীর কাছে রোহিঙ্গারা জাতিগতভাবে সন্দেহের পাত্রে পরিণত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সরকার অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার দৃঢ় নীতিতে অটল থাকে। কিন্তু সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় টিকে থাকতে উগ্র ইসলামী ধর্মীয় গোষ্ঠীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়। তখন থেকে বাংলাদেশে মৌলবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতার পাশাপাশি আরএসওসহ রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে। জামায়াত-বিএনপির কতিপয় নেতার বদৌলতে আরএসওর সশস্ত্র ক্যাডাররা কক্সবাজার ও পার্বত্য বান্দরবানে অবাধে চলাফেরা এবং বসবাস করার সুযোগ পায়।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযান চালালে ১৯৯১ সালের শেষের দিকে খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারের আমলে আবারও প্রায় আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। ওই সব রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার শরণার্থীর এখনও প্রত্যাবাসন হয়নি। ১৯৯৪ সালে ফের দুই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে বস্তি তৈরি করে বসবাস করে চলছে। গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের মংডু কাউয়ারবিলে সীমান্ত বাহিনীর (বিজিপি) তিনটি ক্যাম্পে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা হামলা চালায়। এতে মিয়ানমারের সীমান্ত বাহিনীর ৯ সদস্য নিহত হয়েছে দাবি করে কম্বিং অপারেশন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সেনা ও পুলিশের অত্যাচার সইতে না পেরে বাংলাদেশে ধেয়ে আসতে চেষ্টা চালায় বহু রোহিঙ্গা পরিবার। বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি-কোস্টগার্ড নজরদারি বৃদ্ধি করলেও বিভিন্ন ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুকে লোকালয়ে মিশে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ নতুন ঘটনা নয়। ১৯৭৮, ৯১ ও ৯৪ সালে তিন দফায় ধেয়ে আসা প্রায় ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বিভিন্নভাবে বসবাস করছে। সীমান্তে কড়াকড়ির মধ্যেও মিয়ানমারের কিছু কিছু রোহিঙ্গা পরিবার বিচ্ছিন্নভাবে এদেশে অনুপ্রবেশ করছে। ওপারে সীমান্তের জিরো পয়েন্টেও অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় থাকা রোহিঙ্গারা মানবেতর দিন যাপন করছে বলে জানা গেছে। মিয়ানমারে সহিংস ঘটনার পর থেকে টেকনাফের লেদা ও উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে কিছু কিছু রোহিঙ্গা ধেয়ে এসেছে। তবে আগের চেয়ে রোহিঙ্গার আগমন কমেছে বলে বস্তি ও শরণার্থী ক্যাম্পের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ক্যাম্পে আসা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের মধ্যে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। গত ৯ অক্টোবরে মিয়ানমার বিজিপি ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলায় মিয়ানমার বিজিপি নিহত, অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনার জের ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী মংডুর উত্তরের ২২টি গ্রামে প্রায় দেড় মাস ধরে অত্যাচার নির্যাতন ও তান্ডব চালিয়েছে।
সূত্র জানায়, ১৯৪৮ সালে বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু রোহিঙ্গা পরিবার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান এলাকায় পালিয়ে এসে বসতি গেড়েছে। স্থানীয় লোকজন পার্শ্ববর্তী দেশের মুসলমান হিসেবে এসব রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়। এটা যে ভবিষ্যতে অন্যের বোঝা আমাদের মাথায় আসতে পারেÑ তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি তখন। তৎকালীন বিএনপি সরকারের মদদ পেয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপগুলো। তারা হঠাৎ করে আক্রমণ চালায় মিয়ানমারের তুমব্রু সীমান্তরক্ষী লুনটিন ঘাঁটিতে। পাকিস্তানীদের সঙ্গে আরাকান অঞ্চলকে যুক্ত করার চেষ্টার পর থেকে এমনিতে সেখানে বসবাসকারী বিশাল গোষ্ঠী রাখাইন জাতি ও তাদের শাসকদের রোহিঙ্গা জাতির প্রতি সন্দেহ দানা বাঁধে। তদুপরি সীমান্তরক্ষীর ঘাঁটিতে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় আরও বেশি সন্দেহ জাগে রোহিঙ্গা পরিবার থেকে যোগ দেয়া আরএসও ক্যাডারদের প্রতি। বাংলাদেশ থেকে সেখানে গিয়ে সশস্ত্র আরএসও ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে দাবি করে তাদের হাজির করার জন্য দেশটিতে বসবাসকারী স্বজনদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। ওই সময় (১৯৭৮ সালে) প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। আরএসও ক্যাডারদের জন্য আরাকানে বসবাসকারী সাধারণ রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।

মতামত...