,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড প্রতীক্ষার সিরিজ আজ শুরু

cক্রীড়া প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ দু দলের সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি ছিল গত বছর বিশ্বকাপে। আর সে ম্যাচে জয়টা ছিল বাংলাদেশের। ১৫ রানের সে হারে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় হয়েছিল ইংল্যান্ডের। তবে দু’দল সবশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল ছয় বছর আগে। সে সিরিজে জয়টা ছিল ইংলিশদেরই। ছয় বছর পর আবারো ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। তবে ছয় বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ছয় বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের তফাতটা টের পাচ্ছে ইংলিশরাও। তাইতো সতর্কতার সাথে আজ মাঠে নামছে ইংলিশরা। পরিসংখ্যানের দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে ইংল্যান্ড। তবে শক্তিমত্তায় খানিকটা এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ আর পিছিয়ে নেই। তাইতো আজ সমীহের চোখে দেখেই টাইগারদের মোকাবেলা করতে নামছে ইংলিশরা। কদিন আগে শেষ হওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে দুর্দান্ত খেলেছেন তামিম। তার ব্যাট যেন কচু কাটা করেছে আফগান বোলারদের। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেছেন পেসার তাসকিন। সে সাথে সাকিব-মাহমুদুল্লাহ-সাব্বিররা রয়েছেন ভাল ফর্মে। এসবের সাথে মাশরাফির অধিনায়কত্ব। আফগান সিরিজে চমকে দিয়েছেন নবাগত মোসাদ্দেক। প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেকে চিনিয়েছেন ইমরুল কায়েস। সবমিলিয়ে পুরো দলটা যেন এক সুতায় গাঁথা। আর আজ সে দলটি প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে ইংলিশদের। লক্ষ্য একটাই -জয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে তিনটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। তিনটি সিরিজই ছিল তিন ম্যাচের। তিনটিতেই হেরেছে টাইগাররা। ২০১০ সালে সর্বশেষ ইংল্যান্ডের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে হেরেছিলো বাংলাদেশ। ওই সিরিজের অধিনায়ক ছিলেন বর্তমান দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। এই সিরিজের আগে আফগানদের নিয়ে প্রস্তুতি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। সে সিরিজ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে আজ হারাতে চায় ইংলিশদের। ইংলিশরাও ভালই জানেন বাংলাদেশ এখন অনেক বদলে যাওয়া একটি ক্রিকেট দল। সেই প্রমাণ ইতোমধ্যে ক্রিকেট বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে মাশরাফির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে দেশের মাটিতে এখন পর্যন্ত ৬টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সবগুলোই জিতেছে মাশরাফিবাহিনী। জিম্বাবুয়েকে পাঁচ ও তিন ম্যাচের সিরিজে এবং পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানকে তিন ম্যাচের সিরিজে হারের লজ্জা দেয় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায়ও ডুবিয়েছে টাইগাররা।
এসব স্মৃতিই এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভাল করার বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশের জন্য। তবে আসল লড়াইটা করতে হবে মাঠে। অবশ্য দেশের মাটিতে খেলা বলে বাংলাদেশই ফেভারিট। যদিও ইংলিশরা বেশ পেশাদার একটি দল। দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এ সিরিজে না এলেও যারা এসেছেন তারাই হারিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানকে। কাজেই তরুণ যে দলটি এসেছে বাংলাদেশে তারা চাইবে নিজেদের প্রমাণ করতে। নিরাপত্তা ইস্যুতে এই সফরটি হবে কিনা তা নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। তবে সাংগঠনিক দক্ষতায় সেটা উৎরে গেছে বাংলাদেশ। এবার মাঠের লড়াইয়ে উৎরে যাওয়ার পালা। এদিকে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে ইংল্যান্ডও। দেশের মাটিতে সদ্য শেষ হওয়া সিরিজে শ্রীলংকা ও পাকিস্তানকে হারিয়েছে ইংলিশরা। শ্রীলংকাকে ৩-০ ও পাকিস্তানকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় ইয়োইন মরগানের দল। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে ইংল্যান্ড দলে অধিনায়কত্ব করছেন জশ বাটলার। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে মরগান না আসায় টাইগারদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাটলার। তবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে কতটা নিরাপত্তা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, তার প্রমাণ মিলেছে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান মঈন আলীর কণ্ঠে। তিনি বলেন এখানকার নিরাপত্তা অসাধারণ। এখন পর্যন্ত এখানে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা পেয়েছি আমরা। আমি ঠিক জানি না এর চেয়ে বেশি নিরাপত্তা অন্য কোন দেশ দিতে পারবে কিনা। বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে যেহেতু নিশ্চিন্ত ইংল্যান্ড, তাই ২২ গজে নিজেদের সেরাটা দিয়ে মুখিয়েই থাকবে তারা। যেমনটা গেল সিরিজগুলোতে দিয়েছে ইংলিশরা। নটিংহ্যামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে দলীয় সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। ৩ উইকেটে ৪৪৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আগের রেকর্ডটি ছিলো শ্রীলংকার। ২০০৬ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৯ উইকেটে ৪৪৩ রান করেছিলো লংকান ব্যাটসম্যানরা। ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচও খেলেছে ইংল্যান্ড। ইমরুল কায়েসের ৯১ বলে ১২১ রানের উপর ভর করে ৩০৯ রানের সংগ্রহ পায় বিসিবি। এরপর ইংল্যান্ড অধিনায়ক বাটলার ও মঈনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ম্যাচটি ৪ উইকেটে জিতে নেয় ইংলিশরা। তাই বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। তবে ইংল্যান্ডের সব আত্মবিশ্বাস দুমড়ে-মুচড়ে যাবে, যদি অতীতের মত বাংলাদেশ তাদের সেরাটা দিতে পারে ২২ গজে। তাই দেশের মাটিতে টানা সপ্তম সিরিজ জয়ের পথে আরও একবার গর্জে উঠবে মাশরাফির দল সেটাই প্রত্যাশা।

মতামত...