,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নত দেশ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবে: মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৬ ডিসেম্বর,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, ২০৪০-৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নত দেশ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবে। শেখ হাসিনার সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছে। সেই বাংলাদেশে অভাব নামে কোন কিছুই থাকবে না। কোন নিরক্ষর থাকবে না। বেকার যুবক থাকবে না। মন্ত্রী বলেন ২০২০ সালের মধ্যে আমরা ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবো। বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১৪৫০ ডলার। উন্নত বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৬০০ ডলার। আমরা যখন দেশ স্বাধীন করেছি তখন লোকসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। এখন ১৬ কোটি। তখন দুর্ভি দেখেছি। আর এখন বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বাইরে খাদ্য রপ্তানি করছি আমরা। কাজেই অপপ্রচার করে লাভ নেই। গতকাল চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেন, কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র হিসেবে আমি গর্ব বোধ করি। কাজেই প্রিয় স্কুলের যা প্রয়োজন তার সবটুকু করতে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। তিনি অনুষ্ঠানে কলেজিয়েট স্কুলে একটি অডিটরিয়াম নির্মাণের দাবির সাথে একমত পোষণ করে সেটি দ্রশুত করে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রশুতি দেন।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েটসের সভাপতি এম এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংসদ মাঈনুদ্দিন খান বাদল। বক্তব্য রাখেন উৎসব কমিটির আহবায়ক আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী , সদস্য সচিব মোশতাক হোসাইন ও চৌধুরী মোহাম্মদ মোহসীন।চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের সাবেক ছাত্র ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ১৯৫২ সালে ক্লাস ফাইভে আমি ভর্তি হয়েছিলাম এই স্কুলে। প্রথম দিন ক্লাসে বসেছি। দেখি, একটা মিছিল এলো হ্মোগান দিতে দিতে, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, নূরশুল আমিনের ফাঁসি চাই।” স্কুল ছুটি হয়ে সকল ছাত্র বের হয়ে গেল। ৫৮ সালে পাশ করে বের হই। এই স্কুলের অনেক স্মৃতি আমায় নাড়া দেয়। ছাত্ররা বসে ফুটবল খেলা দেখত। আমাদের সময় আবু তাহের পুতু দুর্দান্ত খেলোয়াড় ছিল। তার খেলা দেখতাম আর ভাবতাম কীভাবে সে একের পর এক গোল করতো। তিনি বলেন, কলেজিয়েট স্কুলের একটি অডিটরিয়াম বানানোর দাবি উঠেছে। কোন ব্যাপার না। আপনারা যদি চান আমরা করতেই পারি। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, নান্দনিক চট্টগ্রাম উপহার দেয়ার ল মুসলিম হল, শহীদ মিনার নিয়ে একটি কমপেহ্মক্স গড়ে তোলা হবে। এজন্য ২৩৯ কোটি টাকা খরচ হবে। যদি এত টাকা দিয়ে এটি করতে পারি, তবে একটা অডিটোরিয়াম কেন করতে পারবো না। তিনি বলেন এর আগে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী থাকা কালীন সচিব মহসিনকে নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগে দুই বছর তিন মাসে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছিলাম। আগামী দশ বছরে চট্টগ্রাম নানাভাবে অনেক উন্নত হবে। এজন্য ইনভেস্টমেন্ট আসছে। দরকার শুধু দ জনশক্তির। তাই আমার আপনার আমাদের কলেজিয়েট স্কুলের ঐতিহ্য আমরা নিশ্চয়ই করতে পারবো। এজন্য আমি একদিন স্কুলে আসবো। সেদিন মালেক ভাইরাও (চট্টগ্রাম কলেজিয়েটস ) সাথে থাকবেন। শি কদের সাথে কথা বলবো। সবাই মিলে একটি পহ্ম্যান তৈরি করবো। অডিটরিয়াম তো আছেই, আরো কিছু যদি দরকার হয়, তবে তাও করা হবে।
আগের দিন উদ্বোধনী অধিবেশনে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের বক্তব্যের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ দেখলেই নাকি অনুমতি পেতে কষ্ট হয়। পেপারে নিউজ দেখার পর আমি সিডিএর সাথে যোগাযোগ করি। জানতে পারি নার্সিং কলেজ করার জন্য গ্রামীণ নামে দেড় একর জায়গা রেজিস্ট্রি দেয়া হয়েছে। কিন্তু নার্সিং কলেজ করার কোন পহ্ম্যান তিনি এখনো দেন নি। পহ্ম্যানই যদি না দেন তবে পাশ হবে কী করে? আমি বলছি, উনি যেদিন পহ্ম্যান দেবেন, তার এক সপ্তাহের মধ্যে তা পাশ হবে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি সরকারের বিরূপ মনোভাবের যে কথা তিনি বলেছেন তা ঠিক নয়। ৯৬ সালে শেখ হাসিনা গ্রামীণ ব্যাংককে বিনা সুদে ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার সরকার সবসময় গ্রামীণের সাথে আছেন। কিন্তু সমস্যা হলো আমার এলাকাতেও দেখছি, গ্রামের লোকজন ২০ পারসেন্ট সুদে ঋণ নিলে ফেরত দেওয়ার সময় তা হয়ে যায় ৩৫ পারসেন্ট। এই ঋণ শোধ করতে গিয়ে অনেকে ভিটেমাটি গরশু ছাগল বিক্রি করে দিয়েছে এমন নজিরও আছে। কাজেই অপপ্রচার ভালো নয়। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রথম প্যাট হসপিটাল চট্টগ্রামে। ভেটেরিনারির উপাচার্য বললেন হাসপাতাল করতে বিদেশী সাহায্য পাওয়া যাবে। শুধু ৫ কাঠা জায়গা দিলেই হবে। আমি ২০ কাঠা জায়গার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নে যথেষ্ট আন্তরিক। এটা শুধু আমাদের কথা নয়, দিলহ্মীতে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলা হয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার গরীবদের জন্য যা করছে, তা অতুলনীয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাইনুদ্দিন খান বাদল বলেন, পৃথিবীতে অনেক শহর সে দেশের ঐতিহ্যবাহী কোন বিশ্ববিদ্যালয়রে নামে পরিচিতি পেয়েছে। ১৮০ বছরের ঐতিহ্য সম্বলিত চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলও একটা ইতিহাস। আমি মনে করি এটি চট্টগ্রামের ওয়ান অব দ্য লাস্ট রিসোর্ট, যেখান থেকে পাশ করা ছাত্ররা চট্টগ্রামের ভাগ্য উন্নয়ন করবে। এটা ফসিল। তিনি মঞ্চে উপবিষ্ট মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার মতা আছে। আপনি উদ্যোগ নেন। সংসদে উথ্‌থাপন করেন, আপনি যেভাবে বলবেন আমরা এই স্কুলের উন্নয়নে সেভাবেই চিৎকার করতে রাজি আছি। সরকারকে বলতে চাই, ইনভেস্ট যদি করতে হয় কলেজিয়েট স্কুলে ইনভেস্ট করশুন। আমরা বাংলাদেশে এমন ব্রীজও দেখছি, যেটির উপর দিয়ে সারা দিনে তিনটি গরশুর গাড়িও চলে না। কাজেই কলেজিয়েট স্কুলে ইনভেস্ট করতে দোষ কোথায়? এখানে লস হওয়ার সুযোগ নেই। জীবন সায়াহ্ণে এই স্কুলের উন্নয়নে ভৃমিকা রাখতে চাই আমিও। পাশাপাশি চট্টগ্রামে অনেক বিত্তবান আছেন, যারা ইচ্ছে করলেই সাহায্য করতে পারেন। তাদের বলতে চাই শুধু বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করলে হবে না। মুখের বুলিতে না জিতে কিছু করশুন।

সভাপতির বক্তব্যে এম এ মালেক বলেন, তিন দিন ব্যাপী ১৮০ বছর পূর্তি উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি ফেলে আসা স্মৃতিগুলোকে জাগ্রত করার মাধ্যমে তারশুণ্যে ফিরে যেতে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল আমাদের হৃদয়ে সবসময় উজ্জ্বল থাকবে। কখনো বৃদ্ধ হবে না। তিনি চট্টগ্রামের মন্ত্রী এমপিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যখন চট্টগ্রামে থাকেন, তখন চট্টগ্রামের উন্নয়নের কথা যতোটা মনে পড়ে, ঢাকায় গেলে ততটা মনে থাকে না। তবে আজ আমাদের কলেজিয়েট স্কুলের সাবেক ছাত্র ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন স্কুলের যেকোন উন্নয়নমূলক কাজে তিনি থাকবেন। আমরা চট্টগ্রাম কলেজিয়েটস তার সাথে আছি সবসময়। তিনি এ প্রসঙ্গে শি া মন্ত্রণালয়ের একটি সিদ্ধান্তের প্রতি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, স্কুল মাঠে পাঁচটি অফিস নাকি নির্মিত হবে। আপনার মাধ্যমে শি া মন্ত্রণালয়ের কাছে এমনটি না করার অনুরোধ করছি। তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনারা ছিলেন বলেই আমরা তিনদিনব্যাপী এই উৎসব সফল করতে পেরেছি। আশা করছি এই কলেজিয়েট স্কুলের মতোই আমরা চির যৌবনময় থাকবো।

মতামত...