,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাংলাদেশ-ভারতের আলোকচিত্র সাংবাদিকদের ৩ দিনের ‘মৈত্রী’ প্রদর্শনী শুরু

aনাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজঃ বাংলাদেশ-ভারতের ৪১ জন আলোকচিত্র সাংবাদিকদের তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী বুধবার ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আদান প্রদান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
নগরের শিল্পকলা একাডেমির শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন আর্ট গ্যালারিতে চট্টগ্রামে ‘মৈত্রী’ শিরোানামে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিপিজেএ) এর তিরিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিপিজেএ এবং আগরতলা প্রেস ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে এই চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিজেএ এর সভাপতি মসিউর রহমান বাদল। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিপিজেএর সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ ও উপদেষ্টা মো. ফারুক। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন আবৃত্তি শিল্পী রাশেদ হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ভারত আমাদের পরীক্ষীত বন্ধু। আমাদের এখানে কয়েকটি দল ভারত বিরোধিতা করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায়। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব দিন দিন আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে। দুদেশের মধ্যে এই সম্পর্ক উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ভাষার দিক থেকে ত্রিপুরা ও আমাদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এক ভাষায় কথা বলি। তাই এই ধরনের সাংস্কৃতিক আদান প্রদান যত বাড়বে ততই আমাদের দুদেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটবে।
মুক্তিযুদ্ধে ভারত তথা ত্রিপুরার অবদানের কথা স্বীকার করে মেয়র বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারত বন্ধু হয়ে যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন আমরা সেটা স্বীকার করব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, নিজেদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে আমরা দুই দেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। সম্পর্ক উন্নয়ন করে যাচ্ছি। সকল ভালো কাজে আমরা ভারতকে কাছে পাই। তেমনি ভাবে সংকটের সময়ও এই দেশটি আমাদের পাশে দাঁড়ায়। যেমন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ত্রিপুরাতে যখন খাদ্য সংকট দেখা দিল তখন আমাদের দেশের ওপর দিয়ে তারা চাল নিয়ে গেছে। তেল নিয়ে গেছে। এভাবেই আমাদের সম্পর্ক দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
আগরতলা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি চিত্রা রায় বলেন, আসা যাওয়ার মধ্যেই সম্পর্ক ভালো হয়। আমাদের দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং বানিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই ধরনের সাংস্কৃতিক আদান প্রদানের উদ্যোগও জরুরি। তাহলে দুই দেশের মানুষ পরস্পরের আরও কাছে আসতে পারবে।
আগরতলা প্রেস ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রণব চক্রবর্ত্তী বলেন, ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু হচ্ছে। শাবরুম সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ হচ্ছে। এই ধরনের উদ্যোগগুলো দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।
মসিউর রহমান বলেন, ভারতের বন্ধুদের আজ চট্টগ্রামে পেয়ে আমরা আনন্দিত। এই চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে দুই দেশের কৃষ্টি সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন চিত্র ফুটে উঠবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মেয়র ও অন্যান্য অতিথিরা।
প্রদর্শনীতে সহযোগিতা করেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন ও শিল্পকলা একাডেমি। প্রদর্শনীতে চট্টগ্রামের ২২ জন এবং ভারতের ১৯ আলোকচিত্র সাংবাদিকের ৪২টি ছবি স্থান পেয়েছে। এতে যেমন বাংলাদেশের আদিবাসী জীবন ঠাঁই পেয়েছে, তেমনি ঠাঁই পেয়েছে আগরতলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যের স্থিরচিত্র। রয়েছে বিভিন্ন উৎসব পালনের ছবিও। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সবার জন্য উš§ুক্ত।

মতামত...