,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঙ্গালী সংগঠনের আহুত হরতালে অচল ৩ পার্বত্য জেলা

পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন (সংশোধন) ২০১৬ বাতিলের দাবীতে

aআবদুল মান্নান, মানিকছড়ি(খাগড়াছড়ি)সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন (সংশোধন) ২০১৬ বাতিলের দাবীতে ৩ পার্বত্য জেলায় বাঙ্গালী সংগঠনের উদ্যোগে সকাল-সন্ধ্যা হরতালে খাগড়াছড়ির প্রবেশ পথ মানিকছড়ি ও রামগড়ে স্বতঃর্স্ফূতভাবে হরতাল পালিত হচ্ছে। বাঙ্গালী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সড়কে পিকেটিং অব্যাহত রাখায় খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামমূখী কোন যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। ফলে কার্যত জনজীবনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বুধবার সকাল থেকে বঙ্গোপসাগরের লঘু চাপে সৃষ্ট ঝড়বৃষ্টিতে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে সম্পাদিত পার্বত্য চুক্তির আলোকে গঠিত পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন-২০০১। এতে ১জন অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি কমিশনের চেয়ারম্যান, তিন পার্বত্য জেলা aপরিষদেও চেয়ারম্যান, তিন সার্কেল চিফ, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি নিয়ে ৯ সদস্যের এ পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কশিশন।
গত ১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্টিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ভেটিং সাপেক্ষে ‘পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন (সংশোধন)আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত বাঙ্গালী জনগোষ্টির মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফলে এখানকার বাঙ্গালী জনগোষ্টির প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো গত ১ আগস্ট থেকেই বিক্ষোভ মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে। বুধবার পূর্বঘোষিত হরতালে তিন জেলার জনজীবনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। খাগড়াছড়ির প্রবেশদ্বার রামগড় ও মানিকছড়িতে লঘু চাপের বৃষ্টি উপেক্ষা করে হরতাল সমর্থনকারী বাঙ্গালী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা রাস্তায় পিকেটিং অব্যাহত রাখে। ফলে ফেনী এবং চট্টগ্রাম থেকে কোন যানবাহন খাগড়াছড়ি কিংবা খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম যেতে পারেনি। এছাড়া জেলা সদরসহ জালিয়াপাড়া, গুইমারা, মাটিরাঙ্গার প্রধান সড়কসহ তবলছড়ি রাস্তার মোড়, হাসপাতাল মোড়, ১০নং ইসলাম পুর ,বাইল্যাছড়ি,মুসলিম পাড়া,খেদাছড়া এলাকার মোড়েও অবস্থান নেয়। ফলে কোন ধরণের যানবাহন চলাচল ও কোথাও কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর জানা যায়নি। প্রতিটি উপজেলার সড়কে যানচলাচল বন্ধের পাশাপাশি স্কুল-কলেজে উপস্থিতি ছিল একেবারে কম। মাটিরাঙ্গায় বাজার ব্যবসায়ী দোকান-পাট বন্ধ রেখে হরতালের সমর্থনে সড়কে অবস্থান নিয়েছে। আইন-শৃংখলা রক্ষায় সড়কে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করায় মানিকছড়ি বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদেও সভাপতি মো. মোক্তাদীর এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ সভাপতি মো. রবিউল হোসেন ও পৌর কমিটির আহবায়ক জালাল আহম্মদ, হরতালে দোকানপাট বন্ধ রাখায় ব্যবসায়ীদের প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সংশোধনী আইন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় সংশোধনী আইন-২০১৬ এর কারণে পার্বত্যাঞ্চলে বাঙ্গালীরা ভূমির অধিকার হারাবে এবং ভুমিকে কেন্দ্র করে পার্বত্যাঞ্চলের বসবাসরতদের মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পাবে। এ প্রসঙ্গে মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুর রকিব জানান, হরতালের কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদারসহ সড়কে পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে। এ পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি

মতামত...