,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বান্দরবানের রুমায় পাহাড় ধসে নিখোঁজ স্বাস্থ্যকর্মী মুন্নির লাশ বাঁশখালীর সাঙ্গু নদী থেকে উদ্ধার

বান্দরবান সংবাদদাতা,২৬ জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বান্দরবানের রুমা সড়কের ওয়াই জংশন এলাকায় পাহাড় ধসে নিখোঁজ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মী মুন্নি বড়ুয়ার লাশ অবশেষে বাঁশখালীর চানপুর এলাকার সাঙ্গু নদী থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। সোমবার রাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর জানান,লাশটি মুন্নি বড়ুয়ার বলে শনাক্ত করেছে তার পরিবার। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মুন্নি বড়ুয়ার ভাই ছোটন বড়ুয়া জানান, ছবি দেখে লাশ শনাক্তের পর চমেক থেকে লাশ নেয়া হয়েছে। গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে রুমা সড়কের ওয়াই জংশন এলাকায় পাহাড় ধসে কমপক্ষে ৫জন নিখোঁজ হন। এদের মধ্যে রুমা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মী মুন্নি বড়ুয়াও ছিলেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন রুমা উপজেলা কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দি, পোস্টমাস্টার জবিউল আলম, স্কুলছাত্রী চিংমেচিং মারমা। নিখোঁজদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী দমকল বাহিনীসহ স্থানীয়রা অভিযান পরিচালনা করেছে। পুলিশ জানায়, পাহাড় ধসের এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় ঝিরি দিয়ে লাশটি বেতছড়া মুখে সাঙ্গু নদীতে গিয়ে পড়ে। সেখান থেকে ভাসতে ভাসতে বাঁশখালীর চানপুর ঘাটে লাশটি উদ্ধার হয়। এদিকে চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলি এলাকায় সাঙ্গু নদীতে আরো কয়েকটি লাশ ভাসতে দেখা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে লাশগুলো নিখোঁজদের কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি।

মুন্নি বড়ুয়ার লাশ উদ্ধারের খবরে স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পরে যায়। তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এছাড়া বান্দরবান–চট্টগ্রাম ও বান্দরবান–রাঙামাটি সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বান্দরবান–রুমা সড়কের ওয়াই জংশন এলাকায় পাহাড় ধসে নিখোঁজদের খোঁজে তৃতীয় দিনের মত উদ্ধার অভিযান চলেছে। ঐ এলাকায় সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনীসহ স্থানীয় লোকজন সম্বলিত ভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

রুমা সড়কের পাহাড় ধসে পরা অংশে মাটি সরাতে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ কাজ করছে। ভারী বর্ষণের কারণে উদ্ধার তৎপরতা বিঘিন্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দমকল বাহিনীর সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন জানান ওয়াই জংশন এলাকায় তৃতীয় দিনের মত নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে সেনাবাহিনী দমকল বাহিনী ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজ চালায়।

 বান্দরবান রিজিয়নের কর্মকর্তা (জিএস টু) মেজর আবু সাইদ মো. মেহেদী হাসান জানান,পাহাড় ধসের পর পরই সেনা সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতায় নেমে পড়েন। নিখোঁজদের উদ্ধারে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন সদস্যরা। এস্কেভেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ৩০ জনের অধিক সেনা সদস্যা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছেন।

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি দমকল বাহিনী, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ইয়থ্ গ্রুপ, পুলিশ, মাইক্রোবাস–জিপ শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন। ভেঙ্গে পড়া সড়কের উভয় পাশ থেকে সদস্যরা নানাভাবে অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

মতামত...