,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বান্দরবানে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ৮০ হাজার টাকা ও মটর ফেরত দিল বিদ্যুৎ কর্মচারী

রিমন পালিত, বান্দরবান,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: গ্রাহককে মামলার হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নেয়া ৮০হাজার টাকাসহ জব্দকৃত মটর ফেরত দিল বান্দরবান বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ।

বুধবার সকালে ৮০হাজার টাকাসহ পেডরোলো মটর ফেরত দেয় শহরের মধ্যম পাড়ার বাসিন্দা বাওয়াইপ্রু মাষ্টার এর কাছে।

জানা যায়, সোমবার দুপুরে শহরের মধ্যম পাড়ার বাসিন্দা ও বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাওয়াইপ্রু মাষ্টারের ঘরে এসে প্রথমে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ চেক করে।

এ সময় নবনির্মিত ভবনে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগের মিথ্যা অভিযোগে ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ও নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত একটি মটর জব্দ করে নিয়ে যায় বিদ্যুৎ বিভাগের বিল বিতরণ কাজে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োজিত আবু তাহের।

পরে বাওয়াই প্রু মাষ্টারকে বিদ্যুৎ বিভাগের অফিসে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন মামলার ভয়ে জনৈক তাহেরের কথায় নগদ ৮০হাজার টাকা প্রদান করে। ঘটনাটি জানা-জানি হলে নিরুপায় হয়ে বাওয়াইপ্রু ও তার ভাবী রিমি মারমা মন্ত্রী মহোদয়ের স্বরনাপন্ন হন।

বাওয়াইপ্রু মাষ্টার জানান, ঘটনার পর পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি’র কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানোর পর মন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপে বুধবার সকালে হাতিয়ে নেয়া নগদ ৮০হাজার টাকা এবং জব্দ করা মটর ফেরত দিয়ে যায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী আবু তাহের।

এদিকে, বোমাং রাজার অফিসে সেক্রেটারী অংজাইউ খিয়াং জানান, এক সপ্তাহ আগে মোটা অংকের চাহিত টাকা না দেয়ায় সহকারি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে সাথে নিয়ে গুংগুর খিয়াং পাড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় আবু তাহের।

পরে ঘটনাটি জানা জানি হওয়ার পর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পূণরায় সংযোগ দিতে বাধ্য হয়।মাসখানিক আগে বলিপাড়া এলাকায় ও তাহেরের কথায় সহকারি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম প্রতি গ্রহকের কাছথেকে অবৈধ ভাবে ছয় হাজার করে টাকা আদায় করেছিল যা পত্রিকায় প্রকাশের পর ফেরত দিতে বাধ্য হয়।

খবর নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলি অনুপস্থিতির সুযোগে সহকারী প্রকৌশলিদের নিয়ে একাজগুলি কৌশলে করে থাকেন জনৈক আবুতাহের।

আরো অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় অনৈতিক ও গ্রাহক হয়রানী করে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়া, অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া, ভুতুড়ে বিল দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায় করার পূরো কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এই আলোচিত বিদ্যুৎ কর্মী আবু তাহের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুয়ালক এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সুয়ালক, রেইছা, গোয়ালিয়া খোলা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েকশ’ ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা( টমটম)এর অবৈধভাবে চার্জ করার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা দিয়ে প্রতি মাসে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন আবু তাহের। এতে বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে প্রতিমাসে শত-শত ইউনিট। লোকসান হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের লাখ লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে আবু তাহের এর সাথে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বাওয়াইপ্রু মাষ্টারের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা মিট মাট হয়ে গেছে। একটি পয়সাও ক্ষতি হয়নি তাঁর। এক কাপ চা পর্যন্ত খাওয়া হয়নি।

তবে এ বিষয়ে সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আমিনের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের গণি বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। আমি গতকাল বান্দরবানের বাইরে একটি মেটিংএ ছিলাম। অবৈধ সংযোগের সুবিধা নিতে টাকা দিয়ে লাভবান হতে চেয়েছেন তিনি।

মতামত...