,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বান্দরবানে সাত উপজেলার সরকারী হাসপাতাল ডাক্তার সংকট চরমে

bরিমন পালিত, বান্দরবান,বিডিনিউজ রিভিউজঃ বান্দরবানের লামা আলীকদম থানচি নাইংক্ষ্যংছড়ি রূমা রোয়াংছড়ি সদরসহ সাত উপজেলার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট চরমে।

সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনপদের পিছিয়ে পড়া ৩ লাখ জনগোষ্ঠী। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ এ ৯ জন করে ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও কোন হাসপাতালে ২ জন কোন হাসপাতালে ৩ জন কোন কোন হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসক দিয়েও চলছে এসব সরকারী হাসপাতাল।

খোদ জেলা সদরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ৪ জন।দূর্গম পাহাড়ী অঞ্চল বিধায় স্বাস্থ্য সেবায় মানুষের একমাত্র মাধ্যম সরকারী এসব হাসপাতাল।

পাহাড়ের বুকে বড় হওয়া জীবন সংগ্রামী এ মানুষগুলো রোগের কাছে হার মানে না সহজে। নিরন্তর লড়াই করা খেটে খাওয়া এ মানুষ গূলো নিরুপায় হয়ে আসে হাসপাতালে ।

কিন্তু প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে ডাক্তারের দেখা না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে ফিরতে হচ্ছে রোগীদের।তবে মেডিকেল অফিসার এবং অন্যান্য স্টাফ পোস্টিং দেয়া হলেও প্রশিক্ষণ কিংবা প্রশাসনিক কাজের অজুহাতে প্রায়শই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন অথবা ডেপুটেশনে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে থাকেন এসব ডাক্তার।

আবার হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পোস্টিং দেয়া হলেও উপরের থেকে তদবির করে বদলি হয়ে যায় অনেকে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন হাসপাতালের ডাক্তাররা নিয়মিত উপস্থিত না থেকে সরকারী বেতন ভাতাসহ যাবতীয় সুবিধা ভোগ করছেন। তাছাড়া কর্মরত ভিজিটর ও স্বাস্থ্য কর্মীরাও নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। বান্দরবান জেলার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের চিত্র এটি।

নিয়মিত ডাক্তার না থাকায় বন্ধ থাকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার।ব্যবহার না করতে করতে অকেজো হয়ে পড়েছে বেশিরভাগ হাসপাতালের অপারেশন রুমের মূল্যবান যন্ত্রপাতি। সামান্য এক্সরে করার জন্য রোগীদের যেতে হয় দূরদুরান্তে। কোন কোন হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স অকেজো রোগী পরিবহনে তাদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয়রা জানান, বেশিরভাগ ডাক্তার মাসে দুই/একদিন উপস্থিত থেকে মাসের শেষে বেতন নিয়ে চলে যান কর্মস্থলের বাইরে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় নার্সদের কাছ থেকে।

বান্দরবান জেলার সিভিল সার্জন ডা: উদয় শঙ্কর চাকমা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন বান্দরবানে চিকিৎসকের তীব্র সঙ্কট রয়েছে কোন ডাক্তার ই এখানে বেশী দিন থাকে না।

দূর্গম পাহাড়ী অঞ্চল হওয়ায় ডাক্তারদের বাইরে প্র্যাকটিস করার সুযোগ না থাকায় তারা অন্যত্র চলে যায়।বিষয়টি তিনি বহুবার উপর মহলে জানিয়েছেন তাতে কোন ফল হয়নি ডাক্তার আসে আবার চলে যায়।বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে ডাক্তার নিয়োগের কথা জানান তিনি ।

শীঘ্রই প্রতিটি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে দূর্গম পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টীর স্বাস্থ্য সেবার মান্নোয়নে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এমনটাই দাবি বান্দরবানবাসীর।

মতামত...