,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাবা আমাদের বাঁচাওঃজিম্মিদের ফোনে বাঁচার আকুতি!

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  রাজধানীর গুলশান ২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি রয়েছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মালিহা।

জিম্মি হওয়ার পরপরই তিনি তার বাবার কাছে ফোন করে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন। মেয়ের ফোন পেয়ে মালিহার মা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে মালিহার বাবা বোরহান সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিকেলের দিকে মালিহা তার ৪-৫ জন বান্ধবীকে নিয়ে ওই রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। ইফতারের কিছুক্ষণ পরই মেয়ে তাকে ফোন করে বলে, ‘বাবা আমরা বিপদে পড়েছি, আমাদের বাঁচাও।’ ফোনে মালিহা জানিয়েছে, রেস্তোরাঁর ভেতরে অস্ত্রধারীরা সবাইকে জিম্মি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মেয়ের ফোন পাওয়ার পর বোরহান বাসা থেকে রাস্তায় নেমে আসেন। তবে রেস্তোরাঁর ভেতরে হতাহতের খবর মালিহা জানাতে পারেনি। তাদের বাসা রেস্টুরেন্টের অপর পাশেই বলে জানান তিনি।

আনোয়ারুল করিম নামের আরেক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ‘আমার ভাতিজা ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত করিম, তার স্ত্রী ও সন্তানসহ মোট চারজন রেস্টুরেন্টের ভেতরে আটকা পড়েছে। ১০টা ৩৫ মিনিটে সে আমাকে ফোন দিয়েছিল। তখন সে আমাকে বলেছিল, পুলিশ যাতে গুলি না করে। গুলি করলে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে।’

ঘটনাস্থলে স্বজনদের খোঁজে এসে আনোয়ারুল করিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘রাত ১০টা ৪১ মিনিটে ভাতিজার মোবাইলে ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু সে কথা বলতে পারেনি। সে সময় কণ্ঠস্বরে তাকে খুব নার্ভাস মনে হয়েছিল।’

গুলশানের বাসিন্দা রাশিলা রহিম টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে গুলির ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। যে রেস্টুরেন্টে জঙ্গিরা বেশ কিছু মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে, তার খুব কাছেই এক ভবনের ফ্ল্যাটে থাকেন তিনি।

সেখান থেকে তিনি জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বাসা থেকে বেরোতে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে কিছু একটা গণ্ডগোল চলছে। তখন আমার ড্রাইভার বলে, আপা আপনি এখন বের হবেন না, নিচে গুলি চলছে।

রাশিলা রহিম জানান, এরপর তিনি নিজেও বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। তারপর দেখেন তার ড্রয়িংরুমের জানালার কাচ ফেটে গেল। এরপর অনবরত গুলির শব্দ শুনতে পান। তখন তার মেয়ে এবং বাসার সবাই কান্নাকাটি শুরু করে।

মতামত...