,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাসভাড়া কমবে কবে?

aনিজস্ব প্রতিবেদক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃঢাকা, তেলের দাম কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা কমিয়ে নতুন দর করা হয়েছে ৬৫ টাকা। বর্তমান মূল্য ৬৮ টাকা। এবার প্রশ্ন ওঠেছে জনমনে বাসভাড়া কমবে তো।

রোববার সন্ধ্যায় তেলের নতুন দর নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, এবার বাসভাড়া কমবে তো।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, আপতত এখনই বাস ভাড়া কমানোর কোনো উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবয়ন করা যাবে না।

যাত্রীরা বলেন, এরআগে যতবার তেলের দাম বেড়েছে, ততবার ভাড়া বেড়েছে, কিন্তু তেলের দাম কমানোর পর কাগজে-কলমে ভাড়া কমানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে ভাড়া কমেনি।

তিনি বলেন, তেলের মূল্য কমানোর সুবিধা পরিবহন মালিকেরাই শুধু পাবেন। সাধারণ মানুষ যদি এই সুবিধা না পায়, তাহলে দাম কমানোর প্রয়োজন নেই।

তিনি  বলেন, তেলের দাম মাত্র তিন টাকা কমানো হয়েছে। এটা উদ্দেশ্যমূলক মনে করছি আমরা। যদি প্রতি টাকায় এক পয়সা করে ভাড়া কমানো হয়, তাহলে তিন পয়সা কমবে। যেটি কোনোদিনই কার্যকর করা সম্ভব নয়। যদিও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, তেলের দাম কমলে অবশ্যই পরিবহন ভাড়াও সমন্বয় করা হবে।

অবশ্য সড়ক বিভাগের এক কর্মকতা বলেন, সত্যি কথা বলতে, তিনটা কিভাবে সমন্বয় করে বাস ভাড়া কমানো হবে সেটি কঠিন কাজ। আর করলেও তা বাস্তবায়নযোগ্য হবে না। ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাই ডিজেলের দাম একবারেই আরো কয়েক টাকা কমালে সাধারণ মানুষ এর উপকার পেতো। আবিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তেলের দাম কমানোর কারণে একবার বাসভাড়া কমানো হয়। ওই সময় তেলের দাম ৫৫ টাকা থেকে কমিয়ে ৪৮ টাকা করা হয়েছিল। এ ছাড়া ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তেলের দাম আরেকবার কমানোয় বাসভাড়া কমানো হয়েছিল। সে সময় তেলের দাম হয়েছিল প্রতি লিটার ৪৪ টাকা। ভাড়া কমানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে সেটা কার্যকর হয় না বলেই সাধারণ মানুষের অভিযোগ।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার কারণে বাংলাদেশেও সব ধরনের জ্বালানির দাম কমানোর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করলো সরকার। তবে সরকার তেলের দাম কমানোর অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই এ খাতের ব্যবসায়ীরা নানা ফোরামে বলে আসছেন, বাসভাড়া কেবল তেলের দামের কারণে বাড়ে না। এর সঙ্গে আরো অনেক কিছু যুক্ত আছে। সেগুলোর দাম তো কমছে না। যদিও ১৯৯০ সাল থেকে যতবার তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, ততবারই বাসভাড়া বেড়েছে। তখন অন্য কোনো কিছুর দাম কমা বা বাড়ার হিসাব করা হয়নি।

সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির এক ফোরামে এখাতের ব্যবসায়ীরা বলেন, ভাড়া তো শুধু তেলের দামের ওপর নির্ভর করে না; এ ক্ষেত্রে ২৪টি উপাদান বিবেচনা করা হয়। আজ থেকে কয়েক বছর আগে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে। যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে। সবকিছু বিবেচনা করে যদি কমানো যায়, তবেই ভাড়া কমানো হবে।মরা উদ্যোগ নিতে পারতাম।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ একাধিকবার সাংবাদিকদের বলেছেন, তেলের দাম কমলেও অন্য সবকিছুর দাম অনেক বেড়েছে। তাই ভাড়া কমবে, সেটা বলা যাচ্ছে না এখনই।

পরিবহন ব্যবসায়ীরা বলছেন, তিনটা সমন্বয় করে আপাতত বাসভাড়া কমানো সম্ভব নয়।

ডিজেল বাসের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে জ্বালানির চাহিদার শতকরা ৪৫ ভাগই পরিবহন খাতের। ১৯৯০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারের জন্য ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। ওই সময় ডিজেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ১৭ টাকা। তেলের দাম বাড়ার কারণে এরপর নয়বার ভাড়া বাড়িয়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি সর্বশেষ প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়। এ সময় তেলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮ টাকায়।

 

মতামত...