,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাস-ট্রেনে ঠাঁই নেই, ভোগান্তি আর যানঝটে বাড়ী ফেরা

rনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ ঈদের আগে গতকাল শেষ কর্মদিবসে চট্টগ্রাম থেকে ভোগান্তির পরও গন্তব্যের গাড়িতে চড়তে পারায় যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল স্বস্তিভাব। প্রিয়জনের সাথে ঈদ করতে বাড়ি ফেরার আনন্দ নিয়ে তারা নগরী ছাড়ছেন। ভিড়ের মধ্যে ট্রেনে উঠতে না পেরে অনেককেই হতাশ হয়ে ঘরে ফিরতেও দেখা গেছে। সকাল থেকেই পুরো রেল স্টেশন লোকারণ্য হয়ে ওঠে। নির্দিষ্ট আসনের বাইরে দাঁড়িয়ে যাওয়া যাত্রীদের ভিড়ে ট্রেনের ভেতর যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই; ছাদে দেখা যায় অসংখ্য যাত্রী। বিকালে সরেজমিনে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরগামী ৮২৩ আসনের মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি অধিক যাত্রী নিয়ে ছাড়তে না পারায় বিকাল ৫টার ট্রেনটি প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরি করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যায়। এর আগে বলতে গেলে বড়ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে মেঘনা এক্সপ্রেস। অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়ার আগে কিছুটা কাত হয়ে গিয়েছিল। এ সময় সাথে সাথে রেল কর্তৃপক্ষ-রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তায় ট্রেন থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নামিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। একই অবস্থা দেখা গেছে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি বাসেও। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি ট্রেনে উপচেপড়া ভিড়। একটি ট্রেন প্লাট ফর্মে এসে দাঁড়ানোর সাথে সাথে যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে যে যেদিকে পারছে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করছে। অনেকে জানালা দিয়ে ট্রেনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার অনেকেই অফিসে হাজিরা দিয়ে, অনেকে আবার অফিস শেষ করে স্টেশনের দিকে ছুটেছেন। অনেকেই ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে বাড়ির পানে রওয়ানা দিয়েছেন। ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার সবগুলো ট্রেনে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় ছিল।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল হাই আজাদীকে জানান, ঈদে প্রতিদিন ৯ জোড়া আন্তনগর, ৫ জোড়া মেইল এক্সপ্রেস ও তিন জোড়া স্পেশাল ট্রেনের মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হবে। প্রতিটি ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হয়েছে। গতকাল প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করেছে। এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রতিটি ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় ঠিল লক্ষ্যণীয়। এবার ঈদ স্পেশাল ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে অনেকগুলো ট্রেনে অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দে বাড়ি ফিরতে পারছেন। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে যান। এবার আমরা কাউকে ছাদে উঠতে দিইনি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস প্রতিদিনের মতো সকাল ৭টায়, ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ২০ মিনিটে, সিলেটগামী পাহাড়িকা পৌনে ৯টায়, মহানগর এক্সপ্রেস বেলা সাড়ে ১২টায়, মহানগর গোধূলী বিকেল ৩টায়, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস বিকেল ৫টায়, চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস বিকেল সোয়া ৫টায়, উদয়ন রাত পৌনে ১০টায় ও তূর্ণানীশিতা রাত ১১টায় চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেছে। এছাড়া সাগরিকা সকাল সাড়ে ৭টায়, চট্টলা এক্সপ্রেস সকাল সোয়া ৮টায় এবং কর্ণফুলী সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছে। এদিকে গতকাল বিকেলে নগরীর কদমতলী বাস স্টেশন, গরিবুল্লাহ শাহ মাজার গেট, স্টেশন রোড এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছে। স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো কানায়-কানায় পূর্ণ। এদিকে খবর নিয়ে জানা গেছে, অলংকার মোড়, কর্নেলহাট এলাকা থেকেও বিভিন্ন জেলার বাস ছেড়ে যাচ্ছে যাত্রীদের নিয়ে।
আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির নেতারা জানান, এবারের ঈদে চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ১২শ’ বাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহন করার সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বাস কাউন্টারের ম্যানেজারের সাথে কথা হলে তারা জানান, শুক্রবার আরো বেশি যাত্রীর চাপ থাকবে।

মতামত...