,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বিএনপির রাজনীতিতে আসছেন ডা. জোবায়দা রহমান

jobaidaনাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজঃ ডা. জোবায়দা রহমান! তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। রাজনীতির মাঠে নামবেন।এনিয়ে বিএনপি রাজনীতির মাঠ বেশ সরগরম হয়ে উঠছে। হঠাথ  বিএনপির ঘরে -বাইরে বেশ আলোচনা হচ্ছে বিষয়টি।

দলের ক্রান্তিকালে তারেকের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা বিএনপি নেতারা খোদোক্তি ‘আসতে পারেন। তাবে বিষয়টি জিয়া পরিবারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’

অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমানের সাজা হওয়ার পর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর পরিণতি নিয়েও চিন্তায় পড়েছে বিএনপি।

দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া সাজা হলে আগামী নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেবেন কে-? এই প্রশ্নটি উকিঁ-ঝুকি দিতে শুরু করেছে।

বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা ‘ইনজুরিতে পড়লে’ দলে নেতৃত্ব দেবেন কে? ডা. জোবায়দা রহমান! তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। রাজনীতির মাঠে নামবেন।

সাজা হওয়ায় তারেক রহমান নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেছেন আর এভাবে খালেদা জিয়ার সাজা হলে তিনিও নির্বাচন করতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের মাঠে নেতৃত্ব দিতে পারেন জোবায়দা। আর নেপথ্যে থেকে দিক নির্দেশনা দেবেন খালেদা জিয়া ও তারেক, এমনটিই আলোচিত হচ্ছে দলটির ভেত্রে-বাইরে।

বিএনপি নেতাদের মতে, ‘মিথ্যা মামলায়’ অভিযুক্ত করে সরকার বিএনপির ‘জনপ্রিয় নেতাদের’ নির্বাচন করতে না দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করেছে। এতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ প্রায় ২ ডজনের বেশী  নেতা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়তে পারেন। এজন্য সরকার সব ধরনের ‘ষড়যন্ত্র’ করছে। বিএনপি আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করলেও সে ক্ষেত্রে ইতিবাচক কিছু হবে না বলেও মনে করছেন তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘চক্রান্ত শুরু হয়েছে মাত্র। অনির্বাচিত ও দুর্নীতিবাজ সরকার তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বিএনপির জনপ্রিয় নেতাদের নির্বাচন করতে দেবে না। সেজন্য তাদের মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তারেক রহমানকে দিয়ে এটি শুরু হয়েছে।বিএনপির প্রায় সব নেতাই এই ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। তবে সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে না। এটা সরকারের ভুল ধারনা। নির্বাচনে জয়ী হতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের দরকার হবে না। কারণ জনগণ এই সরকারের ওপর এমনিতেই ক্ষুব্ধ।

 ‘তারেক রহমানকে যে মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে সেখানে বিচারকে প্রভাবিত করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন,মামলার তদন্ত কর্তকর্তা বা বাদী কেউই বলেননি, তারেক রহমান টাকা নিয়েছেন। তাহলে কিসের ভিত্তিতে তাকে সাজা দেওয়া হলো? সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। সেজন্য সরকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের গুম করছে, হত্যা করছে এবং মিথ্যা মামলায় জেলে নিচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩০ মামলা চলছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া  বলেন, হত্যা, নাশকতা ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়া ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এসব মামলাই এখন বিচারাধীন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের ৪ মামলা সেনা সমর্থিত ২০০৭ সালের প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ও অন্যসব মামলা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা, বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা ও নাইকো দুর্নীতি মামলা গুলো আলোচিত।

 বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও ৩০ মামলায় ১৭টি চার্জশীট  দেওয়া হয়েছে। তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমানও স্বামীর সঙ্গে দুদকের এক মামলার আসামি। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মৃত আরাফাত রহমান কোকোও সাত মামলার আসামি ছিলেন।

 জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে উদ্ভূত দুই মামলা, এনবিআরের করা কর ফাঁকির এক মামলা, রাষ্ট্রদ্র্রোহের এক মামলা ও মানহানির দুই মামলা রয়েছে এর মধ্যে। মানহানির একটি মামলায় লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার অর্থ পাচারের এক মামলায় তারেক রহমানকে ৭ বছরের কারাদন্ড ও ২০ কোটি  টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজা হলে ওই পরিস্থিতিতে  বিএনপির পদক্ষেপ কি হবে  সেলিমা রহমান বলেন, ‘শুধু খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানকে নয়, বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের এই সরকার নির্বাচন করতে দেবে না। কিন্তু বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এর অগ্রযাত্রাকে থামানো যাবে না, দল তার আপন গতিতেই চলবে।’

দলের ক্রান্তিকালে তারেকের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসতে পারেন। তাবে বিষয়টি জিয়া পরিবারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’

বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা বলেছেন, ডা. জোবায়দা রহমানের রাজনীতিতে আসা না আসা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। অন্তত দলের ক্রান্তিকাল না হলে এই সম্ভাবনা নেই। তবে সেই ধরনের পরিস্থিতি হলে জিয়া পরিবার ও দলের ঐক্য ধরে রাখতে জোবায়দা রহমানের বিকল্প নেই।

তাদের মতে, নেতাকর্মীদের মাঝে জোবায়দা রহমানের ভালো ইমেজ রয়েছে। তার বাবা নৌবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান মাহবুব আলী খানও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে ও বউ হওয়ায় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ তাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে বলে নেতাকর্মীদের বিশ্বাস। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও সাধারণ গৃহিনী থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জোবায়দা রহমানও পারবেন।

বিএনপির মনোবল অটুট আছে জানিয়ে দলটির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি সকল কিছুকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করছে এবং করবে।’

 

মতামত...