,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বিএনপি নেতা জামাল হত্যার ৯ বছর পর আদালতে চার্জশিট

jamal ucনাছির মীর, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম, চট্টগ্রামঃ   বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা  জামাল উদ্দিনের  চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত হত্যা মামলার চার্জশিট দীর্ঘ ৯ বছর পর আদালত অবশেষে গ্রহণ করেছে । ৯ বছর আগে মহানগর হাকিম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হলেও উচ্চতর আদালতে রিটের কারণে আইনি জটিলতায় এতদিন এ চার্জশিট গ্রহণ করা যায়নি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, উচ্চতর আদালতের সেই রিট ২০০৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর খারিজ হলেও চট্টগ্রাম পর্যন্ত এর আদেশ আসতে সময় লেগেছে ৬ বছর! আলোচিত এ মামলায় শুনানি শেষে সোমবার ২০০৬ সালে দাখিল করা চার্জশিটটি গ্রহণ করলেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে মহানগর হাকিম মোহাম্মদ ফরিদ আলমের আদালতে।  ঘটনার এক যুগ পর অবশেষে মামলার বিচার কাজ শুরু হওয়ার পথ সুগম হল। সোমবার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিট খারিজের আবেদনের নকল মহানগর হাকিম মোহাম্মদ ফরিদ আলমের আদালতে দাখিল করা হয় ।

চট্টগ্রাম আদালতের কোর্ট পুলিশের জিআরও এসআই মোহাম্মদ আনিস জানান, হাইকোর্টে সোবহান নামে এক আসামি চার্জশিটের বিরুদ্ধে একটি রিট মামলা দায়ের করলে চার্জশিটটি আর গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে রিটটি নিষ্পত্তি হয়ে এখানে আদেশ আসায় মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে।  ২২ফেব্রুয়ারী আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত, চকবাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০৩ সালের ২৪ জুলাই রাতে চান্দগাও  বাসায় ফেরার পথে জামাল উদ্দিন অপহৃত হন। তাকে ফটিকছড়িতে আটকে রেখে গহীন অরণ্যে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে আসামিরা। পরে ফটিকছড়ি থেকে জামাল উদ্দিনের কঙ্কাল উদ্ধার করে র‍্যাব  চট্টগ্রামের তৎকালীন প্রধান কর্নেল এমদাদের নেতৃত্বে একটি দল।

জামাল উদ্দীনের ছেলে চৌধুরী ফরমান রেজা লিটন বলেন, বাবার কঙ্কাল ছাড়া কিছুই পাইনি। বিচারও কি পাব না? আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার শুরু হওয়ার প্রতিটি পদে পদে আইনি বাধা সৃষ্টি করছেন। আদালত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঞ্চল্যকর জামাল উদ্দিন হত্যা মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেয়া  হয় । এদের মধ্যে ১০ আসামি আটক হলেও পলাতক রয়েছে ৬ আসামি। আসামিদের মধ্যে ফটিকছড়ির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, আনোয়ারার সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম প্রকাশ শহীদ ও নাজিম উদ্দিন প্রকাশ নাজিম অন্যতম।

এ ঘটনায় ২০০৩ সালের ২২ জুলাই নগরীর চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে নিহত জামাল উদ্দিনের ছেলে চৌধুরী ফরমান রেজা লিটন। জামাল উদ্দিনের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণের অন্যতম হোতা আনোয়ারা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান শহীদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলার ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের পাহাড়ি এলাকা থেকে ২০০৫ সালের ২৪ আগস্ট জামাল উদ্দিনের কঙ্কাল উদ্ধার করে র‌্যাব। সিঙ্গাপুরে ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি অপহৃত জামাল উদ্দিনেরই। এর আগে প্রশাসনের পরামর্শ অনুযায়ী অপহরণকারী চক্রকে মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকাও প্রদান করে তার পরিবার। কিন্তু টাকা নিয়েও শেষ পর্যন্ত জামাল উদ্দিনকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। তাকে হত্যা করা হয়।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ১০ জুলাই সর্বপ্রথম আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন। মামলার বাদী এ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেন একই বছরের ১৭ জুলাই। বাদীর অভিযোগ ছিল চার্জশিটে ঘটনার সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন আসামিকে বাদ দেয়ার অভিযোগে বাদী নারাজি পিটিশন প্রদান করলে  আদালাত তা আমলে নিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে একই বছর ১০ ডিসেম্বর ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এএসপি হামিদুল হক। এতেও ঘটনার মূল হোতাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ করে বাদী আবার আদালতে নারাজি আবেদন করেন। ২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নারাজি শুনানির দিন ধার্য থাকলেও হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ আসায় শুনানি স্থগিত থাকে। মামলার আসামি কালা মাহাবুবকে রাজসাক্ষী করায় আপত্তি জানিয়ে আসামি সোবহান হাইকোর্টে রিট করলে তা স্থগিতাদেশ নেন। ২০০৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর স্থগিতাদেশ ও রিট খারিজ হয়ে গেলে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আগের অবস্থানে চলে আসে।

বি এন আর/০০১৬০০২০২৩/০০০১২৮/এন

মতামত...