,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বিএনপি ৮৬ র সংসদে ‘হিস্যা’ চেয়েছিলঃ দাবি এরশাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃঢাকা,১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি

আসনের ‘হিস্যা’ চেয়েছিল বলে দাবি করে জাতিয় পার্টি চেয়ারমযান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার আত্মজীবনী ‘আমার কর্ম আমার জীবন’-এ দাবি করেছেন,

করেছিল। রাজনৈতিক ঘটনাবলি

বর্ণনার অধিকাংশ জুড়েই বিএনপি ও খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেছেন এরশাদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সাতদলীয় জোট আসনের ভাগ না পেয়েই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। এরশাদের মতে, ওই সময় ‘সাংবিধানিক সরকার’ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছিল আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালে

বিএনপির ‘অবহেলার’ কারণেই চারদলীয় জোট ছেড়েছিলেন তিনি। আত্মজীবনীতে রাজনৈতিক

ঘটনাবলি বর্ণনার অধিকাংশ জুড়েই বিএনপি ও খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেছেন এরশাদ। সেই তুলনায় একেবারেই নমনীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। গত মঙ্গলবার বাজারে এসেছে এরশাদের আত্মজীবনী। আকাশ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত ৮৬৪ পৃষ্ঠার বিশাল বইটিতে এরশাদের শৈশব,

কর্মজীবন, রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ, শাসনকাল, ক্ষমতা থেকে পতন, কারাবাস ও পরবর্তী জীবন

সম্পর্কে নানা বর্ণনা রয়েছে। তবে আলোচিত-সমালোচিত এ রাজনীতিক আত্মজীবনীতে অনেক

প্রসঙ্গই এড়িয়ে গেছেন। তার শাসনামলের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরলেও, আন্দোলনকারীদের

মৃত্যুর দায়

এড়িয়ে গেছেন। নূর হোসেন ও ডা. মিলনের মৃত্যু এরশাদের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। এ ২

মৃত্যুর ব্যাপারেও কোনো তথ্য নেই বইটিতে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার শাসনকাল সম্পর্কে এরশাদ প্রশংসা করলেও, জিয়ার শাসান আমলে সংঘটিত একাধিক

সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টা এবং তা দমন ও সেনা কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড নিয়েও কোনো কথা নেই

এরশাদের আত্মজীবনীতে। ক্ষমতা থেকে পতনের পর কারাবাস নিয়ে দীর্ঘ স্মৃতিচারণ থাকলেও ‘৯৬-পরবর্তী এরশাদের রাজনৈতিক ‘ডিগবাজি’ সম্পর্কে কোনো কথা নেই। বহুল আলোচিত এরশাদের

দ্বিতীয় বিয়ে ও সাবেক স্ত্রী বিদিশা সম্পর্কে একটি শব্দও নেই আত্মজীবনীতে। রওশন এরশাদের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা ঘুরেফিরে এসেছে বারবার। এরশাদের সামরিক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ‘৮৬-র সংসদ নির্বাচন। সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাত দল ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল। প্রথমে বর্জনের ঘোষণা দিলেও আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেয়। এ কারণে আওয়ামী লীগকে ‘জাতীয় বেইমান’ বলে বিএনপি। তবে এরশাদ ২৯ বছর পর

দাবি করেছেন, ওই নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি আসনের ভাগ চেয়েছিল। আসনের ভাগ না পেয়ে তারা নির্বাচন বর্জন করে। এরশাদ লিখেছেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় বিরোধীদলীয় জোটগুলোকে

সমান সুযোগ-সুবিধা দানের ব্যবস্থা দিয়ে আমি যথেষ্ট উদারতার পরিচয় দেই। কিন্তু সাতদলীয় জোট আসনের হিস্যা দাবি করলে সরকারের পক্ষে সে দাবি পূরণ অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আমি সে সময় তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দেই যে, এটা কীভাবে সম্ভব? … এ রূপ পরিস্থিতিতে সাতদলীয় জোটের

আবদার রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।’ (আমার কর্ম আমার জীবন’-পৃষ্ঠা ৩০৫) এ ব্যাপারে বিএনপির

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এরশাদের বই পড়িনি। পড়ার রুচিও নেই।’ এরশাদের আত্মজীবনীর তথ্যানুযায়ী, ‘৮৬-র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে

সমঝোতা হয়নি। আওয়ামী লীগ নিজ জোটের জন্য ১৮০টি রেখে বাকি ১২০টি আসন বিএনপি জোটকে ছাড়তে রাজি ছিল। এরশাদের দাবি, ক্ষমতায় থাকাকালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির স্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য অনেক কিছুই করেছেন। সংসদের তথ্য দিয়ে তিনি লেখেন, ‘১৯৮২ সালের জুন থেকে

১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেগম জিয়া সরকারের কাছ থেকে ৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৩২ টাকার আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন।’ (আমার কর্ম আমার জীবন’-পৃষ্ঠা ৩৮৫) সরকারের তরফ থেকে খালেদা জিয়াকে দেওয়া সুযোগ-সুবিধার তালিকাও দিয়েছেন এরশাদ। ‘সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া গাড়ির মূল্য ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৮৮ টাকা। গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও পেট্রোল খরচ বাবদ ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছ। … বেগম জিয়ার বাসভবনের টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিলের টাকাও সরকারই পরিশোধ করেন।’ (আমার কর্ম আমার জীবন’-পৃষ্ঠা ৩৮৫) তার শাসন আমলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে স্ববিরোধী বলে মনে করেন এরশাদ। ‘৯৬ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি এরশাদকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব দিয়েছিল_ এমনই দাবি করা হয়েছে তার আত্মজীবনীতে। ‘৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আওয়ামী লীগ ১৪৬ পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১১৬ আসন পেয়েছিল বিএনপি। জাতীয় পার্টি পায় ৩২ আসন। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছিল ৩টি আসন। তিন দল মিলে সরকার গঠনের জন্য ১৫১ আসন ছিল। এরশাদ দাবি করেন, বিএনপি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি

আবদুর রহমান বিশ্বাসের মাধ্যমে তাকে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। বিনিময়ে আওয়ামী লীগের সরকার গঠন থামাতে হবে। এরশাদ লেখেন, ‘আগের দিন রাতে রংপুরের কয়েকজন জাপা

সদস্যের সঙ্গে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের আলোচনা হয়েছিল। বৈঠকে স্থির হয়েছিল,

আমার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করলে জাপা বিএনপিকেই সরকার গঠনে সমর্থন দেবে। … রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মাধ্যমে আমার সকল মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হবে।

আমাকে প্রধানমন্ত্রী করাসহ মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টিকে অধিকসংখ্যক আসন প্রদান এবং মহিলাদের সংরক্ষিত সকল আসন জাতীয় পার্টিকে প্রদান করার মতো লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল’ (আমার কর্ম আমার জীবন’-পৃষ্ঠা ৮১৬)। তবে ১৭ জুন রাষ্ট্রপতিকে চিঠিতে এরশাদ আওয়ামী লীগকে

সমর্থন দেওয়ার কথা জানান। ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিয়ে মুক্তি

পান এরশাদ। তিন বছর পর যোগ দেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলে। পরের বছরই আবার জেলে যেতে হয় তাকে। ২০০১ সালের ৫ মার্চ তাকে বিশেষ ক্ষমতায় আটকাদেশ দেওয়া হয়। সংসদে

পদ হারান। ৯ এপ্রিল মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে চার দল ছাড়েন এরশাদ। রাজনীতিতে প্রচলতি মত

হলো, এরশাদ তৎকালীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে মুক্তি পেয়েছিলেন। তবে এরশাদ আত্মজীবনীতে লেখেন, ‘আমি ঐক্যের রূপকার। চারদলীয় জোটের রূপকার। জোটে যারা আছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ভোগ করেছি। … সরকারের সঙ্গে আঁতাতের প্রশ্নই উঠে না।’ (আমার কর্ম আমার জীবন’-পৃষ্ঠ ৮৩৬) জোট ছেড়ে এরশাদের দল সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়। এরশাদের দাবি, দলীয় প্রতীক লাঙল রক্ষা করতেই জাপাকে সংসদে যেতে হয়েছিল। আর বিএনপি তার মুক্তির দাবিতে কোনো ভূমিকা রাখেনি। উল্টো জাতীয় পার্টিকে ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ করেছেন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ তার দলকে বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ এরশাদের।

বি এন আর/০০১৬০০২০২৭/০০০১৭৮/এন

মতামত...