,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বিচারবহির্ভূত হত্যা-গুম-খুন-গণপিটুনি গণতন্ত্রের বিচ্যুতি’

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::  বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন, গণপিটুনিকে গণতন্ত্রের বিচ্যুতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
তিনি বলেন, ‘এই বিচ্যুতি আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ভারতবর্ষ এবং বাংলাদেশেও আছে। এই বিচ্যুতির ভুল ধরা একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। এগুলোকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিচ্যুতি হিসেবে সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।’
শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনের সাউথ পার্কে ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
সংস্থার সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান, সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিরীন শেখ মঈনুদ্দিন, মহাসচিব অ্যাডভোকেট সিগমা হুদাসহ প্রমুখ। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা কেউ অনুষ্ঠানে আসেননি। তবে প্রধান বিচারপতি একটি লিখিতবার্তা পাঠিয়েছেন। সেটি পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক অধিকার রয়েছে, কিন্তু যুগের চাহিদা অনুসারে দুটি অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেট ও খাদ্যের অধিকারও মানবাধিকার। এ দুটো না দিলে মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। সুতরাং এই দুই অধিকার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। এ দুটো মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে সমাজকে আরও সভ্য করবে।’
তিনি বলেন, ‘সাইবার স্পেস সৃষ্টি করা হয়েছে। সাইবার অপরাধীরা সেই সাইবার জগতটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, পরিস্থিতিকে অসহনীয় করে তুলছে। সুতরাং মানুষকে যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দেন, তাহলে সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন প্রণয়ন করতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্রের উত্তরণপর্বে সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস। এই হুমকি রাষ্ট্র গণতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে, সেখানে কিছু বিচ্যুতি থাকতে পারে। আমাদের কাজ হবে, জঙ্গিবাদ ধ্বংস করে দেওয়া এবং গণতন্ত্রের বিচ্যুতি সংশোধন করা।’
মানবাধিকার সংস্থার কর্মীদের উদ্দেশ্য হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আমি নিরপেক্ষ নই। আমার পক্ষ হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র ও সাম্য। আপনারা যারা মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করেন, আপনারা আদর্শবাদী। চমৎকার আদর্শগুলো লক্ষ্যভেদ করতে হলে ধনুক দরকার। আদর্শগুলো যদি তীর হয়, ধনুক হচ্ছে- রাজনীতি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, ‘দেশের সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্য কারও সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই।’
তিনি বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে যোগ্য কেউ নেই। এক সময় আমিই বলেছিলাম, দেশের সমস্যা সমাধানে ও সংকট নিরসনে দুই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আপনাকে (শেখ হাসিনা) একসঙ্গে বসতে। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নেতাকর্মীকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই- সংলাপের কোনো প্রয়োজন নাই। আলোচনারও কোনো প্রয়োজন নাই।’
বিএনপির এই সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশের সব সমস্যার সমাধান আপনার (প্রধানমন্ত্রী) হাতে। আপনি একক সিদ্ধান্ত দেবেন এবং আপনিই একক কৃতিত্ব নেবেন। এই কৃতিত্ব শেয়ার করার মতো দ্বিতীয় কোনো যোগ্য ব্যক্তি নেই।’
 eno

মতামত...