,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বিপিসির গ্যাস সিলিন্ডার রি-টেস্টিং: ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হবে

বিশেষ সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ lgp-silidrচট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বিপিসির এলপিজি প্ল্যান্টে ১৪ হাজার সিলিন্ডার পরীক্ষা করে ৮ হাজার ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।  বিপিসিতে ৪ লাখ ৩২ হাজার এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ধারাবাহিক পরীক্ষা চলছে। চট্টগ্রামের বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেছেন, যেসব সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, সেগুলো নষ্ট করা হবে, যাতে কোনোভাবেই ব্যবহার করা না যায়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত এক মাস ধরে পতেঙ্গায় সিলিন্ডারগুলো পরীক্ষার কাজ চলছে। ধারাবাহিকভাবে সব সিলিন্ডার পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিপিসির কর্মকর্তারা। বিভিন্ন সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে বিপিসির সব সিলিন্ডার পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রান্নার কাজে যারা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন, তাদের অনেকেই সিলিন্ডারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। এ উদ্বেগ দূর করতেই সিলিন্ডারগুলো পরীক্ষার কাজ চলছে।

বাংলাদেশ বিস্ফোরক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রান্নার কাজে ব্যবহার করা গ্যাস সিলিন্ডারের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। যেসব গ্রাহক সিলিন্ডার ব্যবহার করেন কিংবা মাঠ পর্যায়ে যারা ডিলার তাদের অনেকেই সিলিন্ডারের ভালো-মন্দ বুঝতে পারেন না।

পতেঙ্গাস্থ এলপি গ্যাস লিমিটেডের জিএম বজলুর রহমান জানান, বিপিসির অধীনে সারা দেশে সার্কুলেশনে ৪ লাখ ৩২ হাজার সিলিন্ডার রয়েছে। আমরা এই পর্যন্ত ১৪ হাজার সিলিন্ডার পরীক্ষা করেছি। এর মধ্যে ত্রুটি ধরা পড়ায় ৮ হাজার সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছি। ধারাবাহিকভাবে সব সিলিন্ডার পরীক্ষা করা হবে। তবে এখানে বেশ কিছু নতুন সিলিন্ডার এসেছে। নতুনগুলো পরীক্ষা করতে হবে না।

তিনি জানান, যে আট হাজার সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, সেগুলো বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে নষ্ট করা হবে। যেকোনো সম্পদ নষ্ট করতে হলে তা বোর্ডের অনুমোদন লাগে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংবাদমাধ্যমে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের খবর দেখেছেন তিনি। এর ফলে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার নিয়ে তার মাঝে উদ্বেগ আছে।

বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, যেখান থেকে সিলিন্ডার আমদানি করে তাতে কম করে হলেও ১০ বছরের গ্যারান্টি থাকে। তারপরও প্রতিটি সিলিন্ডার ৫ বছর পর পর রি-টেস্টিং করা উচিত। কারণ সিলিন্ডারগুলো যেভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়, আমাদের দেশে সেভাবে ব্যবহার করা হয় না। যার কারণে আয়ুষ্কাল কমে যায়, ঝুঁকি বেড়ে যায়। ট্রাক থেকে এসব সিলিন্ডার নিচে ফেলা হয়। নিচে কোথায় ফেলা হচ্ছে তা দেখা হয় না।

তিনি জানান, এখন বিপিসিসহ বেসরকারি টিকে, বসুন্ধরা, চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীর এসএলসহ অনেকে প্রতিষ্ঠান এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বাজারজাত করছে। এদের মধ্যে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন যে সিলিন্ডার বাজারজাত করছে তা শত ভাগ ঝুঁকিমুক্ত হতে পারে। কারণ তারা নিজেরা টেস্টিং করেই বাজারজাত করছে। তাদের নিজস্ব টেস্টিং ল্যাবে টেস্টিং ফেসিলিটি থাকে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বাজারে এখন যেসব সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে তার ৮০ শতাংশ বেসরকারি কোম্পানির। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের সিলিন্ডার ব্যবহারকারীর সংখ্যা অত্যান্ত নগণ্য।

মতামত...