,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বিশ্বের দীর্ঘতম বেলাভুমি কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

কক্সবাজার প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বিশ্বের দীর্ঘতম বালিয়াড়ি, সৈকতের শহর কক্সবাজারে ২০১৭ সালের শেষ সূর্যকে বিদায় জানাতে জড়ো হয়েছে কয়েক লাখ পর্যটক। দেশের পর্যটন রাজধানীতে এই উৎসব উদযাপন করতে এরই মধ্যে ছুটে এসেছে বিপুল সংখ্যক মানুষ।

জানাগেছে, থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে কক্সবাজারে বিপুল পর্যটক সমাগম হয়েছে। বর্ষবিদায়ের এই সপ্তাহজুড়ে পাঁচ লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটে। পর্যটক বরণে হোটেল–মোটেলসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে রেখেছে। থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে সব বড় হোটেলে নানা ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। একইভাবে আরো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

তথ্য মতে, ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন ব্যাপকহারে বেড়েছে। এসব পর্যটকেরা কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটকদের বড় আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। পর্যটনে রাতের শহরে এবারও বাড়তি আনন্দ হয়ে যোগ হয়েছে এই মেলা। ট্রেন–নৌকা রাইড, শিশু গেমসহ শতাধিক স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে মেলায়। দিনে পর্যটন স্পট আর রাতে ও মেলায় প্রাণচঞ্চল সময় পার করছেন পর্যটকরা।

সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের কলাতলী থেকে ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে মানুষ আর মানুষ। আবাল বৃদ্ধ–বণিতার ভিড়ে সৈকতে হাঁটাও দুষ্কর। বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যে কেউ কেউ সৈকতে হাঁটছেন, কেউবা চেয়ারে বসে গল্পের ফাঁকে সাগরে মিষ্টি হাওয়া উপভোগ করছেন। আবার কেউ কেউ শীতের মাঝেও সাগরে গোসলে মত্ত। অনেকেই বীচ ও ওয়াটার বাইকে চড়ে উপভোগ করছেন ঢেউয়ের নাচন।

কক্সবাজারে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত ও প্রকৃতি অনুকূল থাকায় এবারের মৌসুমটা ভালই কাটছে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। সব বয়সের মানুষ বেড়াতে আসছেন। থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে এক সপ্তাহ ধরে রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক অবস্থান করছে।

কলাতলী গেস্ট হাউস এলাকায় বিজয় দিবসের ছুটির পর থেকে শহর ও সাগরপাড়ের সকল হোটেলের প্রায় সমস্ত কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে যায়। চলতি সপ্তাহে শহরের অনেক হোটেল পূর্ণ বুকিং হয়ে আছে। যেসব গেস্ট হাউস আগাম বুকিং হয়নি তারাও ওয়াকিং গেস্ট নিয়ে ভালোই ব্যবসা করছেন। ভ্রমণ পিপাসুরা সমান তালে সেন্টমার্টিন দ্বীপেও ঘুরতে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কক্সবাজার হোটেল–মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সমপাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, শহরের আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজ ও সরকারি রেস্ট হাউসে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের রাত যাপনের সুবিধা রয়েছে। গত কিছুদিন ধরে বিপুল পরিমাণ পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড়কে পুঁজি করে এক শ্রেণির হোটেল মালিক ও দালাল গলাকাটা ব্যবসা করছে। কিছু কিছু হোটেলে ভাড়ার নির্ধারিত তালিকা না থাকায় আসল ভাড়ার ৩ থেকে ৪ গুণ হারে ভাড়া নিচ্ছে ওয়াকিং পর্যটকদের কাছ থেকে।

পুলিশ জানায়, এবারের থার্টিফার্স্ট উপলক্ষে খোলা আকাশের নীচে কোন আয়োজনের অনুমতি ছিল না। শুধু ইনডোরে প্রোগ্রামের অনুমতি ছিল। সমুদ্র শহরের তারকা মানের হোটেল সাইমন ও ওশান প্যারাডাইস এই ইনডোর প্রোগ্রামের অনুমতি নিয়েছে। এ বিষয়ে হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির মুখপাত্র কলিম উল্লাহ বলেন, কক্সবাজারকে ব্রান্ডিং করা মানে পুরো বাংলাদেশকে ব্রান্ডিং করা। ঠুনকো অজুহাত দিয়ে সমুদ্র তটে উৎসবের অনুমতি না দেয়ায় আমরা হতাশ। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয় তুলে ধরে রবি লাইফগার্ডের ইনচার্জ সৈয়দ নুর বলেন কলাতলী, সুগন্ধা, লাবনী বীচে পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইফ গার্ডের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্ঘটনা উদ্ধার তৎপরতায় যাতে সমস্যা না হয় সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট ও বীচ কর্মীরা বীচের নিরাপত্তায় কাজ করছে। ইভটিজিং, পর্যটকের হারানো জিনিসপত্র খোঁজার জন্য কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এইচএম রায়হান কাজেমী জানান, পর্যটক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে টুরিস্ট পুলিশসহ অন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্পটসমূহে নিয়মের চেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সৈকতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলে পর্যটকদের রাতদিন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বিধান করছে পুলিশ।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, এবারের থার্টিফার্স্ট উদযাপনে কক্সবাজারে প্রায় ৫ লাখ লোকের সমাবেশ ঘটছে। এছাড়া পর্যটন জোনে বাড়ানো হয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশের সংখ্যা। লিংকরোড় থেকে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত ৬ টি তল্লাশী চৌকি বসানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল–মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেয়া আছে

মতামত...