,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বৃষ্টি না পড়লেও দিনে দুবার ডুবছে চট্টগ্রাম শহরঃসিডিএ চেয়ারম্যান

aনিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ বৃষ্টি না পড়লেও দিনে দুবার চট্টগ্রাম শহর ডুবছে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেছেন, প্রকৃতি যদি প্রতিশোধ নেওয়া শুরু করে কারও রেহাই নেই এটি প্রকৃতির দোষ না মানুষের? গতকাল বৃষ্টি ছিল না কিন্তু খাতুনগঞ্জ-আছাদগঞ্জ হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে।’

বৃহস্পতিবার (০৪ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে ‘বর্ষা দিবস ১৪২৩ উদযাপন ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার সমাধান হিসেবে কেউ বলে বেড়িবাঁধ দেন, কেউ বলে স্লুইসগেট দেন। আবার কেউ বলে খাল খনন করেন। কেউ বলে নালা-নর্দমা পরিষ্কার করেন। গবেষণা কোথায়? চট্টগ্রামের সাগর, নদী, পাহাড়। এ তিনটি সম্পদ সৃষ্টির পেছনে মানুষের কোনো অবদান নেই। কিন্তু তিনটিই ধ্বংস করছে মানুষ। ফলে বিপর্যয় নেমে আসছে।

সিডিএ পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে অ্যাকর্ড হোল্ডিংসকে বহুতল ভবনে বৃষ্টির পানি ধারণের নকশা অনুমোদন দিয়েছে জানিয়ে আবদুচ ছালাম বলেন, শুধু আইন করে, বাধ্য করে সব কিছু করা যায় না। স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। যদি অ্যাকর্ড সফল হয় তবে অন্যরাও এগিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে জনমত গড়ে তোলার জন্যে গণমাধ্যমেরও সহযোগিতা দরকার।

তিনি বলেন, আমি কাজের মানুষ। কাজ ‍ছাড়া আমি কিছু বুঝি না। গরিব ঘরের সন্তান হওয়ায় ১৯৬৭ সালে ভালো ছাত্র হয়েও চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হতে পারিনি। পড়তে হয়েছিল সিটি কলেজে। আমি দেখেছি ব্যর্থতার মধ্যেই সফলতা লুকিয়ে থাকে। আমি ব্যর্থতাকে ভয় করি না। কঠিনকে ভালোবেসে ৬৫ বছর পার করেছি। কঠিন বলে আর কিছু নেই। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্যে সাত হাজার বাড়ি, ঘর, মসজিদ, মন্দির ভেঙেছি আমি। কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি। কোনো মামলা হয়নি। চট্টগ্রামের মানুষ আমাকে বলেনি, আগে টাকা পরে জমি। অনায়াসে ছেড়ে দিয়েছে। বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে পারলে কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়।

‘বৃষ্টির পানি ধারণ, সংরক্ষণ, ব্যবহার, ব্যবস্থাপনা ও আমাদের সম্ভাবনাময় পথচলা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সিডিএ, রেইন ফোরাম, অ্যাকর্ড হোল্ডিং লিমিটেড এবং ডিএসকের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

সিডিএর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন চসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম, ওয়াটার এইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার অনিন্দিতা রিদিতা, চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নজরুল হক, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এজাজ রসুল, ডিএসকের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. আফতাবুর রহমান, রেইন ফোরামের সেক্রেটারি মো. আশরাফুল আলম রতন, অ্যাকর্ড হোল্ডিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহাজাহান মহিউদ্দীন প্রমুখ।

সঞ্চালনায় ছিলেন হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইদ্রিস আলী।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২০০০ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল সরকারি ভবনে বৃষ্টির পানি ধারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার জন্যে। বাস্তবে তা উপেক্ষিত হয়ে আসছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব, ভূ-গর্ভের পানির স্তর ক্রমে নিচে নেমে যাওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে বহুতল ভবনগুলোতে বৃষ্টির পানি ধারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে আন্তরিক হতে হবে।

 

মতামত...