,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ভারতীয় নারীবেশী পুরুষ ভন্ড সাধুর কান্ডে খাগড়াছড়ি তোলপাড়

নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: শান্তি দেবী; বয়স ২৪। তবে প্রকৃত নাম চরিত্র দেব বর্মা। জন্মগতভাবে পুরুষ হলেও সাজসজ্জায় নারীবেশেই থাকেন তিনি; কখনও আবার পুরুষ বেশ। স্বঘোষিত এই সাধক এতটাই ‘ক্ষমতাধর’ যে, চাইলেই নাকি তিনি সাপ হয়ে যেতে পারেন! তার কথায় নাকি বৃষ্টি নামে, নিষেধ করলে থেমে যায় বর্ষণধারা। মানুষের এমন কোন সমস্যা নেই যার সমাধান কিনা দিতে পারেন না সাধু শান্তি দেবী! আর তার স্থানীয় অনুসারীদের ছড়িয়ে দেওয়া এমন কথায় বিশ্বাস করে রোগমুক্তির আশায় প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন হাজার হাজার সহজ সরল মানুষ।

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বৌদ্ধ পাড়ায় আস্তানা গেড়েছেন কথিত এই সাধক। আর চিকিৎসার জন্য বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটিসহ দূর–দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন রোগীরা। তবে ভারতীয় নাগরিক এই সাধুর এমন কার্যকলাপে জেলাজুড়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার আড়ালে সাধকের অনুসারীরা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে কিছু বললে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো অজুহাত তোলার ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না অনেকে।

 মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কথিত সাধু চরিত্র দেব বর্মা ওরফে শান্তি দেবীর আস্তানায় পাহাড়ি–বাঙালিসহ হাজারো নারী–পুরুষের ভিড়। কেউ প্যারালাইসিস, কেউ বা প্রতিবন্ধী, কারো আবার কোমর ব্যথা, অনেকে নিজের পাগল (মানসিকভাবে বিপর্যস্ত) সন্তানকে সুস্থ করার জন্য কাছে নিয়ে এসেছেন সাধুর কাছে। তবে সাধুর চিকিৎসায় রোগমুক্তি হয়েছে কিনা– এমন কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

রাঙামাটির বাঘাইহাটের গুলকমা ছড়া এলাকার বাসিন্দা স্নেহ কুমার চাকমা। শরীরের প্যারালাইসিস থেকে মুক্তি পাওয়ার

আশায় স্ত্রী মিলেছ চাকমা তাকে নিয়ে এসেছেন সাধুর কাছে। মিলেছ চাকমা জানান, এর আগে দুইবার স্বামীকে নিয়ে এখানে এসেছেন তিনি। তবে তার স্বামীর কোনো উন্নতি হয়নি। ‘‘মা’ (সাধক) বলেছে সুস্থ হয়ে যাবেন। কিন্তু এখনও তিনি সুস্থ হননি,’ বলেন তিনি।

সাধুর আস্তানায় আসা মারিশ্যার তুলা বান এলাকার বাসিন্দা শিল্পী চাকমা (৩৫) বলেন, ‘গতকাল এলেও সিরিয়াল পাইনি। আজকে (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৭টার সিরিয়াল পেয়েছি। তবে এক লোক ‘মায়ের’ (সাধক) ত্রিশুলে থু থু ফেলায় তিনি সাপ হয়ে গেছেন। তাই আমাদের সবাইকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে সেই সাধুর সাপ হওয়া শিল্পী দেখেছেন কিনা তা জানা যায়নি।

কথিত সাধুর অনুসারী জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, ‘মায়ের’ অনেক ক্ষমতা! এখানে তো অনেক ভক্ত এসেছেন। এই মুহূর্তে যদি বৃষ্টি আসে তাহলে তিনি তা তাড়িয়ে দিতে পারেন। আবার চাইলে বৃষ্টি নামাতেও পারেন!

সাধু কীভাবে এসেছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে খাগড়াছড়ির গাছবান এলাকার স্বর্ণময় ত্রিপুরা বলেন, উপজেলার কাটারংছড়ার গভীর জঙ্গলে আমরা ‘মা’কে পেয়েছি। ওখান থেকে ‘মা’কে আমাদের মন্দিরে নিয়ে আসি। যত ঝড়–তুফান হোক না কেন মায়ের কোনো ক্ষতি হয় না। এমনকি বৃষ্টি হলেও তার শরীর ভিজে না বলে জানান এই এলাকাবাসী।

এদিকে বৌদ্ধ পাড়ায় স্থানীয় শিব মন্দিরে চলছে সাধকের পূজা–অর্চনা। শিব মন্দিরে স্থাপিত শিবলিঙ্গের উপর পা তুলে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকেন ওই সাধু। এ সময় স্থানীয়দের ধুপ–আগরবাতি, মোমবাতি জ্বালিয়ে তার পূজা করতে দেখা যায়। একই পাড়ার স্থানীয় কালি মন্দিরে স্থাপিত মূর্তির উপর দাঁড়িয়ে কালির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। এখানেও সাধকের পূজা–অর্চনা করেন স্থানীয় নারী–পুরুষ।

জানা গেছে, ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয়রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলার ছেরামি থানার রামকৃষ্ণ গ্রামের মুনিরাম দেব বর্মার সন্তান এই সাধু। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি অবৈধভাবে ভারতের রইসা পাড়া দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন।

আলাপকলে চরিত্র দেব বর্মা ওরফে শান্তি দেবী বলেন, ‘আমি একদিনের সাধনায় মহাদেবসহ চৌদ্দ দেবতার ক্ষমতা অর্জন করেছি। ভগবান আমাকে পাঠিয়েছেন সবার সেবা করার জন্য। এমন কোনো রোগ নেই যার চিকিৎসা আমি দিতে পারবো না।’

এদিকে সনাতন সমাজ কল্যাণ পরিষদের দীঘিনালা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নিউটন মহাজন জানান, এই সাধু ধর্মকে পুঁজি করে মানুষদের ঠকাচ্ছেন। ধর্মের অবমাননা করছেন। ভ– সাধুকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই দাবি জানিয়েছেন সনাতন ছাত্র যুব পরিষদের উপজেলা সভাপতি উজ্জ্বল চৌধুরীও।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, সাধুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধতাসহ সব বিষয় গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। –বাংলানিউজ এর প্রতিবেদন।

মতামত...