,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ভারতের স্বাধীনতা দিবসে পাকিস্তানের প্রতি মোদির কঠোর হুশিয়ারি

a.আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  ভারতের ৭০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রতি তার সরকারের নীতিমালা কঠোর করা হয়েছে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আবারও পাকিস্তানকে দায়ী করেছেন তিনি। তাছাড়া ভারতে সন্ত্রাসবাদে উসকানি দেওয়ার জন্যও ইসলামাবাদের দিকেই আঙ্গুল তুলেছেন মোদি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি খবরটি নিশ্চিত করেছে। এর একদিন আগে (১৪ আগস্ট) নিজেদের ৭০ তম স্বাধীনতা দিবসকে ভবিষ্যতের ‘স্বাধীন কাশ্মির’-এর প্রতি উৎসর্গ করে পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের এ পাল্টাপাল্টি দোষারোপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আবারও নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
a.সোমবার (১৫ আগস্ট) ভারতের ৭০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রেডফোর্টে ভাষণ দেন মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার তৃতীয় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ। সোমবার দেওয়া দীর্ঘ ভাষণের একেবারে শেষ ভাগে পাকিস্তান প্রসঙ্গে কথা বলেন মোদি। সে সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, পাকিস্তানের বিপদে ভারত কষ্ট পেলেও ভারতের বিপদে পাকিস্তান আনন্দ পায়। মোদি বলেন, ‘যেসব সন্ত্রাসী আমাদেরকে আক্রমণ করে তাদের গুণকীর্তন করে পাকিস্তান। অথচ দুই বছর আগে পাকিস্তানের পেশাওয়ারের একটি স্কুলে তালেবান হামলায় ১৩০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারত কষ্টে কেঁদেছিল।’

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে অভিযোগ করে মোদি দাবি করেন, এসব এলাকার সমস্যাগুলোর দিকে মনোনিবেশ করায় এবং পাকিস্তানকে হুঁশিয়ার করায় সেখানকার জনগণ তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে মোদি হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, এক মাস ধরে কাশ্মির উপত্যকায় চলমান সহিংসতাকে পাকিস্তান উসকানি দিচ্ছে। আর তা যদি চলতে থাকে তবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করতে গিয়ে ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষ যেসব ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে ও ওইসব অঞ্চলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী যেসব অপকর্ম করেছে সেগুলো সামনে নিয়ে আসার হুমকিও দেন তিনি।

উল্লেখ্য, ৮ জুলাই হিযবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। বিক্ষুব্ধ কাশ্মিরিদের দাবি, বুরহানকে ‘ভুয়া এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে গেলে কাশ্মিরের দশটি জেলা, এমনকি দূরবর্তী গ্রামেও কারফিউ জারি করা হয়। সেই থেকে আজও পর্যন্ত কাশ্মিরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে।

 রবিবার (১৪ আগস্ট) স্বাধীনতা দিবসের বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ তাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনকে ‘ভবিষ্যতে ভারতের কাছে থেকে কাশ্মিরের স্বাধীনতা’র প্রতি উৎসর্গ করেন। হাফিংটন পোস্টের খবরে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবস ভারত-অধিকৃত কাশ্মিরের স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রতি উৎসর্গিত, যে কাশ্মির আজ জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। [আমাদের আশা] কাশ্মিরের নতুন প্রজন্ম নতুন উদ্দীপনায় স্বাধীনতার ধাণ্ডা তুলে ধরবে।’

নওয়াজের বিবৃতির পর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে একই ধরনের মন্তব্য করেন ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার আব্দুল বাসিত। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, আব্দুল বাসিতও পাকিস্তানের ৭০তম স্বাধীনতা দিবস কাশ্মিরের মুক্তিকামী জনতার প্রতি উৎসর্গ করছেন। ভাষণে বাসিত বলেন, ‘কাশ্মিরের ভবিষ্যতের স্বাধীনতার নামেই পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের এবারের আয়োজন উৎসর্গিত হচ্ছে।’

কাশ্মির নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই সম্প্রতি বাসেতকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তখন তার মাধ্যমে ইসলামাবাদকে বলা হয়, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই একমাত্র আলোচনা চলতে পারে। আলোচনায় উঠে আসতে পারে সীমান্ত সন্ত্রাসের প্রসঙ্গও। কিন্তু কখনই কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয় বলে জানায় ভারত। দেশটির কেন্দ্রিয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং নিজেও পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। কাশ্মিরের এই অবস্থার জন্য রাজনাথ পাকিস্তানের দিকেই আঙ্গুল তোলেন। সূত্র: এনডিটিভি

মতামত...