,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ভারত-মার্কিন নতুন সামরিক চুক্তি উত্তেজনায় চীন

us war shipনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, ভারত-মার্কিন নতুন সামরিক চুক্তি নিয়ে ঘরে-বাইরে প্রবল আক্রমণের মুখে নরেন্দ্র মোদি সরকার৷ নয়াদিল্লির তরফে (কৌশলগত সহযোগিতা) সিদ্ধান্ত ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে কৌশলী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন৷

সরাসরি সমালোচনার রাস্তায় না গিয়ে ভারতকে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে চলার পরামর্শ দিল বেজিং৷ জাতীয় ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও সিপিএম এখনই এ নিয়ে সরব হয়েছে৷ মোদি সরকারের এ হেন সিদ্ধান্তকে ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিয়ে বিবৃতি জারি করেছে সিপিএম৷ তাদের দাবি, “সরকার অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ করছে৷ ভারতের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করছে নরেন্দ্র মোদি সরকার৷ এটা ভয়ংকর দেশবিরোধী কাজ৷”
অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘ধংসাত্মক’ বলে অভিহিত করে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ ভারতের পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলবে৷ প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা ইউপিএ আমলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি বলেন, “আমেরিকার সঙ্গে ভারতের এই ‘কৌশলগত সমর্থন চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হলে দেশের পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা ও রণনীতির স্বতন্ত্রতার শেষের দিন শুরু হবে৷”
বস্তুত, মঙ্গলবারই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব আসটন কার্টার নয়াদিল্লিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্করের সঙ্গে দেখা করেন৷ এর পরই কার্টার দাবি করেন, সামরিক ক্ষেত্রে আরও বোঝাপড়া বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে দুই দেশ৷ সিদ্ধান্ত হয়েছে, দুই দেশই নির্দিষ্ট চুক্তির ভিত্তিতে জ্বালানি ভরা, মেরামতি বা বিশ্রামের জন্য পরস্পরের বিমানবাহিনীর ঘাঁটি, সেনা ছাউনি ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করবে৷ এ ছাড়াও সমরাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তাও করবে একে অপরকে৷
সরকারিভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই নড়েচড়ে বসেছে বেইজিং৷ বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং কিছুটা সংযতভাবেই বলেন, “ভারত আন্তর্জাতিক ‌ক্ষেত্রে অন্যতম প্রভাবশালী দেশ৷ ভারত বরাবরই স্বাধীন বিদেশনীতি নিয়ে চলে৷ নিজের স্বার্থ অনুযায়ী তারা কূটনৈতিক অবস্থান নেবে৷” তবে একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে স্বয়ং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্করের সঙ্গে বেইজিং কথা বলতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি৷ যদিও এ নিয়ে নির্দিষ্টভাবে কোনো মন্তব্য না করেও কিছুটা কৌশলী বার্তা দিয়েই তিনি উল্লেখ করেন, “খুব দ্রুত চীনে আসছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী৷”
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির এমন সাহসী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত খুব একটা সময়োপযুক্ত হয়নি বলেই ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞদের৷ কারণ মূলত ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবহরের ক্রমশ বিস্তৃত আধিপত্যকে চাপে রাখতেই ভারত ভূখণ্ডে মার্কিন সেনার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন৷ একইভাবে ভারত মহাসাগরের চিনের উপস্থিতি নয়াদিল্লিরও উদ্বেগের কারণ৷ এ ছাড়াও পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের বরাবরের সুসম্পর্কও চিন্তা বাড়াচ্ছে ভারতের৷ কিন্তু এমন একটা সময়ে আমেরিকার সঙ্গে নয়াদিল্লি হাত মেলাচ্ছে যখন মাসুদ আজহার ইস্যুতে বেইজিংকে পাশে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার৷ গত সপ্তাহেই জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়ার ভারতের উদ্যোগের বিরুদ্ধে ভেটো প্রয়োগ করে চীন৷ এই ইস্যুতে বেইজিংয়ের মন ঘোরাতে আগামী সপ্তাহেই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে চীন সফরে যাচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল৷ কিন্তু তার আগেই আমেরিকার দিকে এ ভাবে নিবিড় বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর বেইজিংয়ের মন পাওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাউথ ব্লকের অন্দরেই৷

 

মতামত...