,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ভালোবাসার কাছে অসহায় পৃথিবীর সমস্ত শক্তি -পরাশক্তি

কামরুল ইসলাম দুলু 
প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম
ভালোবাসা চিরকালের, আদি থেকে অন্ত অবদি। ভালোবাসার কি কোন পরিবর্তন ঘটেনি? ভালোবাসা যে কষ্টের,বেদনার, ত্যাগের,আনন্দ ও চির সুখের তা দুই হাজার বছরের ইতিহাস, সাহিত্য-দর্শন নানাভাবে চিত্রিত করেছে, সর্বোপরি  ভালোবাসার জয়গান কখনোই থেমে থাকেনি। ট্রয়ের যুদ্ধ এ যতই হোক, এমিলি গিলটি নিয়ে যতই নাটক লেখা হোক,পৃথিবীতে সেক্সপিয়রের ওথেলো নাটকে ডেসডোমোনার নিস্পাপ মৃত্যু যতই ঘটুক,তবুও ওথেলো-ডেসডোমোনার প্রেম থাকছেই আর ইয়াগো চরিত্রও থাকবে। সংবাদপত্রে এমন খবর প্রায়ই আসে প্রেমিক তার প্রেমিকাকে হত্যা করেছে কিংবা এসিড মেরেছে। আগে ছিল সু্ন্দর, পবিত্রতা এবং ত্যাগের দীপ্তি। ভালোবাসা অনাধিকাল থেকে প্রাপ্ত এক স্নায়বিক অনুভূতির নাম। ভালোবাসার সংস্পর্শ মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য এক অংশ, হতে পারে তা কখনো আনন্দ বা কখনো ব্যথার। তবুও ভালোবাসা নামের শব্দটি চির অম্লান,অক্ষয়। ভালোবাসার পিপাসুদের কাছে ভালোবাসার জাগরণ-পুন- জাগরণ কিংবদন্তীর মতো বিশেষ কোন উপলক্ষ সামনে রেখে প্রেম বা ভালোবাসা একটি উৎসবে পরিণত হয়। প্রেমিক যুগলরা এই উৎসবে প্রেরণার মন্ত্র। ভাললাগা থেকেই ভালোবাসার সৃষ্টি। দু’জনের মন দেওয়া নেওয়া হলেই ভালোবাসার আলামত প্রকাশ পায়। একজনের হৃদয় যখন অন্যজনের হৃদয়ের কোণে ঠাঁই নেয় তখনই শুরু হয় ভালোবাসার স্বরূপ,ভালোবাসা হঠাৎ করেই আসে। কেউ জানে না কে কখন প্রেমে পড়ে যায়। জেনে শুনে ভালোবাসার আবির্ভাব ঘটেনা। বিভিন্ন পরিস্হিতিতে চোখে চোখ, কথা বলার ভঙ্গিমা,আচরণের কৌশলতায় ভালোবাসা নামক বস্তুুটির সাথে পরিচয় ঘটে। সৃষ্টিকর্তার রহস্যময় এ পৃথিবীতে পুুরুষের প্রয়োজনে নারী, আর নারীর প্রয়োজনে পুরুষের সৃষ্টি। সব বয়সে কিন্তু ভালোবাসা আসেনা। বয়সটা যখন যৌবনে পদার্পন করে তখন মানুষের মনে ভালোলাগা বা ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। ভালোবাসা সবার জীবনে আসেনা। আসলেও তা সবার জীবনে স্হায়ী হয় না। ভালোলাগার মানুষটি যখন খুব কাছে থাকে ততক্ষণ হৃদয় খুব চটপট করে তার সান্নিধ্য পাওয়ার, প্রিয়তমা একটু দুরে সরে গেলেই প্রেমিকের মনে সন্দেহের দানা বেঁধে উঠে। নানান রকম কুস্বপ্ন দিবালোকে হৃদয়ে ঘুরপাক খায়। পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এমনকি প্রকৃতিকে পাশ কাটিয়ে সূদুরে চলে যায় দু’জনায়।জীবনের নানান কথাই চলে ঘন্টার পর ঘন্টা। সময় বয়ে যায় তবুও শেষ হয় না কথা। সব ভাবনার কেন্দ্র বিন্দু একটাই জীবন সাথীকে কখন কিভাবে একান্ত আপন করে পাওয়া যায়। সব ভালোবাসা স্হায়ী হয় না। আবার সব ভালোবাসাকে ভালোবাসা বলা যায় না। আমাদের দেশে ভালোবাসার অভাব নেই, চোখে চোখ পড়তেই ভালোবাসা ঘরের দরজা দিয়ে ডাকে। দু’টি হৃদয় যখন এক হয়ে যায় তখন টিনএজরা স্বপ্ন দেখে বিবাহের। কিন্তু এর মধ্যে থাকে পাটলের অনেক চিরাচরিত সংকেত। মনে একটু অমিলভাব সৃষ্টি হলে অথবা সন্দেহের হেতুতে ভালোবাসা ভালোবাসাই থেকে যায়। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে আর মন চায় না। ভালোবাসা যতই গভীর হোক উভয় পক্ষ সমপর্যায়ের না হলে অভিভাবক তা মরনে নিতে চায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বিবাহ জিনিসটি ভাটা পড়ে। আবার কখনো কখনো প্রেমিক-প্রেমিকরা অভিভাবকদের অজান্তে বিবাহ কাজটি সেরে ফেলে। যেখানে সামান্য একটু দেখা দেখিতে ভালোবেশে বিয়ে করা সেখানে দু’জনে দু’জনার পরিচয়ের ফুরসত মিলে না। এমন ক্ষেত্রে বিবাহের পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অমিল দেখা দেয়,শুরু হয় দাম্পাত্য কহল,স্বামীর অবাধ্যতা স্ত্রী নির্যাতন এক সময় হয়তো স্ত্রীকে স্বামীর সংসার থেকে চিরদিনের জন্য বিদায় নিয়ে ফিরে যেতে হয় বাবা মায়ের সংসারে। মানুষের যৌবনকাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টাতে মানুষের ভবিষ্যৎ রচিত হয়। তার সাথে প্রেম ভালোবাসা সমান গতিতে চলে। অপরিণত বয়সে প্রেমে জড়িয়ে গেলে এবং তা পরিণয় পর্যন্ত গড়ালে,যেমন নিজের ক্ষতি তেমনি গোটা সমাজের জন্য অভিশপ্ত। প্রেম করলেই যে বিয়ে করতে হবে এমন কোন কথা নেই। তাছাড়া প্রেমের বিয়েতে যে সুখ আছে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। আবার একেবারে যে সুখি হয় না তাও বলা যায় না। প্রেমে যেমন সুখ আছে তেমনী আছে বিরহ। বিয়ের পরও স্ত্রীর সাথে প্রেম করা তাতে দোষের কিছু নেই। ভালোবাসার মানুষ দুটি অত্যন্ত আপন গতিতে চলে। আচার ব্যবহার,কথা বার্তায় তাদের কোন সংকোচ থাকে না। একজন অচেনা মেয়ে/ছেলেকে বিয়ে করা আর প্রেমিক/প্রেমিকাকে বিয়ে করার মধ্যে অনেক পার্থক্য। সত্যিকার প্রেমিক /প্রেমিকা না হলে প্রেম করেও সুখ নেই। প্রিয়জনের প্রতি প্রিয়জনের ভালোবাসা চিরন্তন,মানব জীবনের শুরু থেকে আজ অবধি এই সত্যটি চলে আসছে কোন পরিবর্তন ছাড়াই বলা যায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এটি চলতে থাকবে।

মতামত...