,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদের বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাংলাদেশর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১৭Victory_Day, ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):: বাংলাদেশ ও জাপানের চারটি ঐতিহ্যিক চাষাবাদ পদ্ধতি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ‘গ্লোবালি ইম্পর্ট্যান্ট হেরিটেজ সিস্টেম (জিআইএএইচএস)’ হিসেবে এ স্বীকৃতি প্রদান করে। স্বীকৃতি পাওয়া চারটি আবাদ পদ্ধতির মধ্যে বাংলাদেশের একটি ও জাপানের তিনটি। মঙ্গলবার এফএওর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রোমে এফএওর সদর দফতরে জিআইএএইচএসের স্টিয়ারিং ও সায়েন্টিফিক কমিটির এক যৌথ সভায় এ স্বীকৃতি দেয়া হয়। নতুন এ চারটি চাষ পদ্ধতির স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্বে জিআইএএইচএস এলাকার সংখ্যা বেড়ে ৩৬ হয়েছে। এ ৩৬টি এলাকা আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়াসহ বিশ্বের ১৫টি দেশে অবস্থিত। নতুন স্বীকৃতি পাওয়া চারটি চাষ পদ্ধতির মধ্যে বাংলাদেশের ভাসমান বাগান পদ্ধতি স্থান পেয়েছে। আর জাপানের তিনটি পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে সাতো-কাওয়া পদ্ধতিতে নদীতে মাছ চাষ, মিনাবে-টানাবে উমে পদ্ধতিতে পুষ্টিস্বল্প ঢালে বিশেষ ধরনের ফল চাষ ও তাকাসিহোগো-শিবায়ামা পার্বত্য কৃষি ও বনায়ন পদ্ধতি।

বাংলাদেশের ভাসমান বাগান পদ্ধতিটি মূলত বন্যা উপদ্রুত অঞ্চলে ব্যবহার হচ্ছে। এফএওর প্রতিবেদনে একে প্রাকৃতিক গ্যাস ও গাছের সমন্বয়ে গঠিত হাইড্রোপনিক্স উৎপাদন পদ্ধতির একটি স্বতন্ত্র ধারা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কিছু এলাকায় বন্যার পানি বছরের দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। ফলে কৃষকদের পক্ষে সাধারণ চাষ পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন সম্ভব হয় না। এসব অঞ্চলে হাইড্রোপনিক্স চাষ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে পানির ওপর ভাসমান জৈবতলে গাছ জন্মানো হয়। এ জৈবতল পানির উপরিতলে ভাসমান বিভিন্ন গাছ, শৈবাল ও কচুরিপানার অবশেষ থেকে তৈরি। এ পরিবেশবান্ধব ঐতিহ্যিক চাষ কৌশলটি হলো জলাভূমির প্রাকৃতিক অবশেষকে কাজে লাগিয়ে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন। ফলে সারা বছর ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়। এ পদ্ধতি বন্যা উপদ্রুত অঞ্চলের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি কৃষি ও বাস্তুসংস্থানও দারুণভাবে উপকৃত হচ্ছে।

জিআইএএইচএসের স্বীকৃতি পাওয়া জাপানের তিনটি চাষ পদ্ধতিও কৃষি ও বাস্তুসংস্থানে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে সাতো-কাওয়া পদ্ধতি জাপানের জিফু অঞ্চলে, মিনাবে-টানাবে উমে পদ্ধতি ওয়াকায়ামায় এবং তাকাসিহোগো-শিবায়ামা পার্বত্য কৃষি ও বনায়ন পদ্ধতি মিয়াজাকি পার্বত্যাঞ্চলে অনুসরণ করা হয়। সব পদ্ধতিই স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ও জৈব উপাদানকে কাজে লাগিয়ে বিকশিত হয়েছে। ফলে টেকসই উন্নয়নে এসবের ভূমিকা সুদূরপ্রসারী।

এসব টেকসই চাষ পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে এফএওর উপমহাপরিচালক হেলেনা সেমেদো বলেন, বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক, পরিবেশ ও জলবায়ু সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত খাদ্যনিরাপত্তা সংকট মোকাবেলায় ক্ষুদ্রায়তন, বিশেষত ঐতিহ্যগত এসব কৃষি পদ্ধতি একটি সমাধান হতে পারে। এসব পদ্ধতির চাষাবাদে যথেষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ সম্ভব হলে প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যিক কৃষি পদ্ধতি বা জিআইএএইচএসের সূচনা হয় ২০০২ সালে।

মতামত...