,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ভিভিআইপি ফ্লাইটে ত্রুটি সন্দেহে পাইলট প্রকৌশলী

biman in airনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম: প্রধানমন্ত্রীকে বহন করা ভিভিআইপি ফ্লাইটের চেকলিস্ট বা নির্দেশনা মানেননি পাইলট ও প্রকৌশলীরা। এতে করে আকাশে ফ্লাইটটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দেড় ঘণ্টা ধরে ঝুঁকি নিয়েই আকাশে উড়ে ফ্লাইটটি। বিমান প্রকৌশল বিভাগের প্রথম তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রকৌশল বিভাগের নিম্ন পর্যায়ের ছয় কর্মীকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য দায়ী করা হলেও পাইলটদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া শাহজালাল থেকে উড্ডয়নের আগে পাইলটরা কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন-সেই তথ্য লগবই থেকে হাওয়া হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির তদন্তে এসব বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য দিয়ে বলেছে, বোয়িং কোম্পানির চেকলিস্ট অনুযায়ী ওই উড়োজাহাজের অয়েল প্রেসার সিস্টেমে হাত লাগানোর কথা নয়। কিন্তু নাটটি যেভাবে ঢিলা হয়েছে, তাতে করে এটা প্রায় নিশ্চিত, এই সিস্টেমে কারও হাত পড়েছে। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে অয়েল প্রেসার সিস্টেম স্ক্যানিং করে ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। সূত্র মতে, কে বা কারা বোয়িং এর চেকলিস্ট অমান্য করে অয়েল প্রেসার সিস্টেমে কাজ করেছেন, তা চিহ্নিত করতে কাজ করছে কমিটি। সূত্র জানায়, ওইদিন ফ্লাইট উড্ডয়নের অনুমোদন দেওয়ার আগে দুই পাইলট ক্যাপ্টেন ইসমাইল ও ক্যাপ্টেন আমিনুল কী ধরনের কাজ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন সে বিষয়ে লগ বইতে কোনো ধরনের তথ্য নেই। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তা এখনো খুঁজে পায়নি। বিমান কর্মকর্তারাও তা প্রকাশ করছেন না। এ ঘটনায় সন্দেহের তীর এখন পাইলট ও প্রকৌশলীদের দিকে। এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এই তদন্ত কমিটিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসানকে কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্বপন কুমার সরকারের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় সাত কার্যদিবস বাড়ানো হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাট ঢিলার কারণ নির্ণয় করাটাই তদন্তের মূল বিষয়। এ থেকেই বেরিয়ে আসবে আসল ঘটনা। বোয়িং কোম্পানির চেকলিস্ট মতে, উড়োজাহাজের ওই অংশে কোনো কাজের প্রয়োজন ছিল না। যদি কেউ সেখানে কাজ করে থাকে, তবে তা ইচ্ছাকৃত বলেই ধারণা তদন্তসংশ্লিষ্টদের। যোগাযোগ করা হলে এনএসআই পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান বলেন, ভিভিআইপি ফ্লাইটের ত্রুটির বিষয়টি আমরা ঘটনার পর থেকেই তদন্ত করছি। আনুষ্ঠানিকভাবে আজ (সোমবার) কমিটির সদস্য হওয়ার চিঠি হাতে পেয়েছি। সূত্র জানায়, পাইলটরা কেন ফ্লাইট পরিচালনা করতে গিয়ে বোয়িং কোম্পানির চেকলিস্ট অমান্য করলেন তদন্তে তা-ও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। উড়োজাহাজটি পাকিস্তানের লাহোর পার হওয়ার পর বিমানের ককপিট মনিটরে অয়েল প্রেসার (লুব্রিকেন্ট) কমে যাওয়ার মেসেজ আসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এক্ষেত্রে কী করতে হবে, উড়োজাহাজ কোম্পানি বোয়িং এর চেকলিস্টে তাও মনিটরে দেখা যায়। কিন্তু উড়োজাহাজের ককপিটে থাকা দুই পাইলট, দুই ফার্স্ট অফিসার ও কেবিনে থাকা অপর পজিশনিং পাইলট ক্যাপ্টেন জামিল আহমেদ তা মানেননি। ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা চালু রেখেই দেড় ঘণ্টা ধরে উড়তে থাকেন। নিজেদের মতো করে উড়োজাহাজটি তুর্কমেনিস্তানের আসগরবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে যান। এতে করে উড়োজাহাজটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সূত্র জানায়, তুর্কমেনিস্তানের ওই বিমানবন্দরটি সাধারণত বিমান কম ওঠানামা করে। যে কারণে বাংলাদেশ বিমান সাধারণ অবতরণের অনুমতি চেয়েই পেয়ে যায়। পাইলট জরুরি অবতরণের জন্য কোনো মেসেজ বিমানবন্দরে পাঠাননি। কেন পাঠাননি, এটিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, কোনো কারণে ওই বিমানবন্দর থেকে অবতরণের অনুমতি যদি না মিলত বা অনুমোদন পেতে দেরি হতো তবে আকাশেই থাকতে হতো ফ্লাইটটিকে বা অন্য কোনো বিমানবন্দরের খোঁজ করতে হতো। কিন্তু ততক্ষণে ওই ইঞ্জিনের ক্ষমতা আর থাকত না। অনুমতি দেওয়ার পরও তুর্কমেনিস্তানে অবতরণের ১২ থেকে ১৫ মিনিট আগে সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে অয়েল প্রেসার শূন্য হয়ে যাওয়া ইঞ্জিনটিতে লোহার সঙ্গে লোহার ঘর্ষণে আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো যদি আর মাত্র ২০ মিনিট আকাশে থাকতে হতো ফ্লাইটটিকে। বোয়িং কোম্পানির চেকলিস্ট অমান্য করার চরম মূল্য দিতে হতো বিমানকে।

সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ফ্লাইটে থাকা পাইলট, ফার্স্ট অফিসার, প্রকৌশলী ও বিমানের হ্যাঙ্গারের দায়িত্বে থাকা অ্যারোনটিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তাদের ধারণা, এর উত্তর বেরিয়ে এলেই বোঝা যাবে, এটা অন্তর্ঘাত, না অন্যকিছু। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের এক প্রকৌশলী বলেন, ৫ বছর আগে আনা পালকি ও অরুণ আলোর অয়েল প্রেসার সিস্টেমের নাট-বোল্ট কখনো ঢিলে হয়নি। এখনো সেই আগের মতোই আছে। বোয়িংয়ের চেকলিস্ট অনুযায়ী ৩ বছর পরে (সি চেক) বোয়িং মনোনীত ওয়ার্কশপে গিয়ে ওই লুব্রিকেন্ট নাট খুলতে হয়। অথচ মাত্র ২ বছর আগে আনা সর্বশেষ বোয়িং রাঙা প্রভাতের নাট কেন ঢিলে হবে তা রহস্যজনক।

মতামত...