,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ভিয়েতনামের রণপ্রস্তুতি চীনের বিরুদ্ধে

ভিয়েতনামের সেনাবাহিনী প্রায় এক দশক ধরে চলমান আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধির জের ধরে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পরে সর্বাধিক অস্ত্রের মজুদ করেছে তারা।

ভিয়েতনামের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অস্ত্র মজুদ করার মাধ্যমে তাদের প্রভাবশালী প্রতিবেশী চীনকে আতংকিত করে বিবাদমান পরিস্থিতি থেকে নিবৃত্ত করতে চাইছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক নীতি নির্ধারক জানিয়েছেন।

ভিয়েতনাম তার প্রধান সামরিক ইউনিটগুলোকে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রেখেছে। এমনকি হঠাৎ করে আসা আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তাদের এলিট ডিভিশন ৩০৮ কেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ভিয়েতনাম ও চীনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে ১৯৭৯ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এবার দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় চীন নির্মিত কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জ স্পার্টলি ও প্যারাসেল নিয়ে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে দেশ দু’টির মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভিয়েতনামের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চীনের সাথে যুদ্ধে জড়াতে চাই না বরং কূটনৈতিকভাবেই সমস্যা সমাধান করতে চাই। কিন্তু আমরা জানি, আমাদের যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সম্প্রতি হ্যানয় দক্ষিণ চীন সাগরে নৌ প্রতিবন্ধক তৈরির জন্য রাশিয়ার নিকট থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ৬ টি সাবমেরিন কিনেছে। কিছুদিন ধরে প্রথম সাবমেরিনটি দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমার আশেপাশে নজরদারি করছে বলে হ্যানয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

 

রণপ্রস্তুতির পাশাপাশি হ্যানয়ের এক সময়ের অধরা জেনারেলরা এখন বৃহত্তর কৌশলগত সম্পর্ক তৈরির দিকে মনযোগী হয়েছেন। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, প্রশিক্ষণ আর গোয়েন্দা সহযোগিতার জন্য তাদের প্রধান উৎস রাশিয়া ও ভারত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ফিলিপাইন্সের সাথেও সম্পর্ক গড়ে তুলছে হ্যানয়।

তবে নিরপেক্ষ বিদেশ নীতির কড়া সমর্থক হ্যানয় আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট এড়িয়ে চলছে।

ভিয়েতনাম এখন রাশিয়ার কাছ থেকে আরো জঙ্গি ও বোমারু বিমান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে জঙ্গিবিমান, সমুদ্রসীমা পাহারার বিমান এবং মনুষ্যবিহীন সার্ভেইল্যান্স ড্রোন কেনার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি দেশটি তার বিমান প্রতিরক্ষার আধুনিকায়ন করেছে। ইসরাইল থেকে গোয়েন্দা রাডার  এবং রাশিয়া থেকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক এস-৩০০ মিসাইল ব্যাটারি কিনেছে হ্যানয়।

তবে ভিয়েতনামের চেয়ে চীনের সামরিক বাজেট অনেক বেশি।

ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সামরিক বাহিনীর আধুনিক সব দেশেরই একটি মানসম্মত প্রক্রিয়া। ভিয়েতনাম ও চীনের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

কমিউনিস্ট শাসিত দুটি দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বন্ধন থাকলেও তাদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের ইতিহাসও রয়েছে।

১৯৭৯ সালে দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়। ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় তারা।  সে যুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি এখনো হ্যানকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

এছাড়া ১৯৭৪ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনামকে হটিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরের একটি দ্বীপ চেইন, পারাসেলস, দখল করে নেয় চীন। হ্যানয় চীনের সেই দখলের প্রতিবাদ জানাচ্ছে আজও।

অতি সম্প্রতি চীন বিতর্কিত জলসীমায় ১০ সপ্তাহের জন্য একটি তেলের রিগ বসালে ভিয়েতনামে চীন বিরোধী দাঙ্গার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার পর চীনের জাহাজ মোকাবিলা করতে হ্যানয় ভিয়েতনামের বহু বেসামরিক নৌযান সেখানে পাঠায়।

তবে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করছে, দুটি দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামরিক এবং বন্ধুসুলভ সম্পর্ক রয়েছে। আঞ্চলিক শান্তির জন্য চীন ভিয়েতনামের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।

ভিয়েতনামের জেনারেলরা বিদেশি পর্যটকদের কাছে স্বীকার করছেন যে তারা তাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। দুই দশক ডাবল-ডিজিট প্রবৃদ্ধির কারণে চীনের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সেনাবাহিনী বিশাল এবং অধিকতর উন্নত সমরাস্ত্রে সজ্জিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ যদি একান্তই বেধে যায় তবে চীনের আধুনিক সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করা ভিয়েতনামের লক্ষ্য হবে না। তারা টার্গেট করবে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের পতাকাবাহী পণ্যবাহী কন্টেইনার ও তেলবাহী জাহাজকে। 306–খবর  রয়টার্স

মতামত...