,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ভয়ংকর জলদস্যু কালামের লোমহর্ষক কাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৬ জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: পেশাদার চোর বাবাকে অনুসরণ করে নিজেও চুরিকে পেশায় হিসাবে বেছে নেয় নোয়াখালীর জাহাজমারা ইউনিয়নের সুখচর গ্রামের কালাম।চুরি কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেকে ভয়ংকর জলদস্যুতে পরিণত করেছে। সাগরে ডাকাতি ও মাঝিমাল্লা অপহরণ করে বেড়ালেও কালাম নিরেট ভালো মানুষ সেজে বসবাস করতো নগরীর পাঁচলাইশ গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায়।

বুধবার ভোরে কালাম ধরা পড়ে র‌্যাবের হাতে। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী হালিশহর এলাকা থেকে অস্ত্র–গুলি ও ডাকাতির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কালাম জানায়, তার বাড়ি নোয়াখালীর জাহাজমারা ইউনিয়নের সুখচর গ্রামে। বাবা মাহে আলম ছিল পেশাদার চোর। জাহাজমারার তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আসাদ বাড়িঘর ভেঙে দিয়ে এলাকা থেকে বিতাড়িত করলে ভোলার মনপুরা থানার কালকিনি গ্রামে আশ্রয় নেয় বাবা মাহে আলম। বাবাকে অনুসরণ করে কালাম মনপুরা এলাকায় চুরি ডাকাতি শুরু করে। একপর্যায়ে জলদস্যু মুন্সিয়ার দলে যোগ দিয়ে ডাকাতির কাজে নিজেকে আরো পাকাপোক্ত করে নেয় । কালাম জানায়, ২০১১ সালে মেঘনার মোহনায় জলদস্যু মুন্সিয়া অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হলে ‘কালাম বাহিনী’ নামে নিজে ডাকাতদের একটি গ্রুপ গঠন করে। এ গ্রুপে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ছাড়াও মহেশখালি, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও বাঁশখালীর জলদুস্যরা যোগ দেয়।

২০১১ সাল থেকে কালামের গ্রুপ বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা ও মেঘনা নদীতে মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতি, অপহরণ, মুক্তিপণ, খুন এমনকি নারীদের অপহরণ করে ধর্ষণের মতো অপরাধ করে বেড়াতো।

আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির কারণে মাঝখানে তিন বছর আত্মগোপন থাকার চলতি বছরের ইলিশ মৌসুমকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনার মোহনায় সদলবলে আবার ডাকাতি শুরু করে কালাম। ইলিশ মৌসুমে মাসিক ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে ‘টোকেন’ সংগ্রহ জেলেদের নির্দেশনা দেয়। টোকেন না নিয়ে বঙ্গোপসাগরের মেঘনার মোহনায় মাছ ধরার অপরাধে তিনটি ট্রলারে হামলা করে কালামের গ্রুপের ডাকাত সদস্যরা। মেঘনার জনৈক বাবর মাঝির ট্রলার থেকে দুই জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে। একই এলাকার আকবর ও হাসানা মাঝির ট্রলারে মাছ লুট করার পাশাপাশি পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে।

র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদ জানান, গত ২৯ মে ডাকাতি অর্থ ভাগ–বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ডাকাত সদস্য হাতিয়ার জুনায়েদ রুবেলকে গুলি করে হত্যা করে লাশ সাগরে ডুবিয়ে দেয় কালাম। ঐ সময় কালামের গ্রুপ থেকে পালিয়ে আসা দুই ডাকাত সদস্য এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। গত ১৩ জুন কালামের গ্রুপের কমান্ডার আমিরকে পাঁচ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে পাঁচলাইশ গ্রীনভিউ আবাসিক এলাকার জনৈক মিনহাজের ভাড়া বাসা থেকে জলদস্যু কালামকে গ্রেপ্তার করেন র‌্যাব সদস্যরা। কালামের দেয়া তথ্য অনুযায়ী হালিশহর পোর্ট লিংক রোড এলাকা থেকে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও সাগরে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। কালামের বিরুদ্ধে নোয়াখালির হাতিয়া ভোলার মনপুরা থানায় ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদ।

মতামত...