,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মদিনা মসজিদের ইমাম ঢাকায় আসছেন

fotoa-bgনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ বাংলাদেশে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে মদিনা মসজিদের ইমামকে নভেম্বর মাসে ঢাকায় আনার চেষ্টা হচ্ছে জানিয়েছেন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লাখো আলেমের ফতোয়া প্রকাশকারী শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শনিবার ১৮ জুন ঢাকায় এক আনুষ্ঠানিক  ১ লাখ ১ হাজার ৭৫০ ইসলামি চিন্তাবিদ – আলেম এবং মুফতির ফতোয়া প্রকাশ করা হয়।

এই ফতোয়ায় ৯ হাজার ২০ জন নারী আলেমও স্বাক্ষর করেন। শুধু তাই নয়, মসদিদের ইমাম, মাদরাসার শিক্ষক থেকে শুরু করে হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও এই ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছেন। ১০টি প্রশ্নের উত্তরে যে জবাব পাওয়া গেছে, তাই হলো এদের ফতোয়া।

ফতোয়ার উদ্যোক্তা বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার প্রধান এবং শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, ‘ফতোয়ায় জঙ্গিবাদ, আত্মঘাতী হামলা এবং ইসলামের নামে মানুষ হত্যাকে হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামে জঙ্গি এবং উগ্রবাদের কোনো ঠাঁই নাই। যারা এটা করেন, তারা ইসলামের কেউ নন।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যারা মনে করছেন জঙ্গিবাদের মাধ্যমে জান্নাতে যাবেন, তারা ভুল করছেন। জান্নাতে তাদের ঠাঁই হবে না্। বরং এই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতে গিয়ে যদি কেউ মারা যান, তাহলে তিনি শহিদের মর্যাদা পাবেন।’

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা এখন সারাদেশে এই ফতোয়ার মূল কথা ছড়িয়ে দিতে চায়। বাংলাদেশ সরকার ছাড়াও ফতোয়ার ইংরেজি অনুবাদ জাতিসংঘ এবং ওআইসিতে পাঠানো হবে। এছাড়া সারাদেশে ইমামদের মাধ্যমে মসজিদে এবং মাদরাসার শিক্ষকদের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ফতোয়ার কথা জানানো হবে।

এ জন্য ফতোয়ার সংক্ষিপ্ত বই এবং লিফলেট ছাপানোর পরিকল্পনাও হয়েছে। একই সঙ্গে বছরব্যপী ওয়াজ ও সমাবেশের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলোমদের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরা হবে।

ফরিদউদ্দিন মাসউদ জানান, ‘আগামী নভেম্বরে ঢাকায় একটি বড় ধরনের ইসলামি সমাবেশ করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। ঐ সমাবেশে আমরা পবিত্র মদিনা মসজিদের ইমামকে আনার পরিকল্পনা করছি। আমরা এরইমধ্যে তার সঙ্গে কথাও বলেছি। তিনি আসতে সম্মত আছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দাওয়াত দিতে হবে, যেহেতু তিনি সেখানে সরকারি পদে আছেন। আমরা আশা করছি, সরকারের পক্ষ থেকে দাওয়াত পাঠাতে পারবো।’

তার কথায়, ‘মদিনা মসজিদের ইমাম ঢাকায় আসলে তিনি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান তুলে ধরবেন। বলা বাহুল্য, এতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হবে।’

জঙ্গিবাদবিরোধী এই প্রচারণার অর্থ কোথা থেকে আসবে জানতে চাইলে শোলাকিয়ার এই ইমাম বলেন, ‘আমরা সম্পদশালীদের কাছে অর্থ সহায়তার আহ্বান জানিয়েছি। আমরা মনে করি, এই কাজে অংশ নেয়া সওয়াবের। এছাড়া আমরা সরকারের কাছেও অর্থ সহায়তা চাইবো। আশা করি, সরকারের সহায়তা পাবো আমরা।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪৬টি হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। এতে নিহত হয়েছেন মোট ৪৮ জন। এদের মধ্যে দু’জন পুলিশ সদস্য এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীও আছেন। এছাড়া গত তিন মাসে হত্যা করা হয়েছে ১১ জনকে।

এইসব হামলার অনেকগুলোরই দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস এবং আল-কায়েদার ভারতীয় উপ-মহাদেশের কথিত বাংলাদেশ শাখা আনসার আল-ইসলাম।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতি এখনো অস্বীকার করা হচ্ছে।

ডয়চেভেলে’র প্রতিবেদন।

 

মতামত...