,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মনোনয়নবঞ্চিতরাই স্বতন্ত্র প্রার্থী

পৌরসভা নির্বাচনে এবার এক দল থেকে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ বন্ধ ও মনোনয়নবঞ্চিতদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পথ সুগম করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩ ডিসেম্বরের আগেই রাজনৈতিক দলকে তার চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করতে হচ্ছে। পৌর নির্বাচনের সংশোধিত পরিচালনাবিধি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়েই প্রার্থীর দলীয় পরিচয় জানাতে হবে। সঙ্গে জমা দিতে হবে দলের মনোনয়নের পক্ষে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র। এর ফলে দল থেকে টিকিট না পেলেও তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন ।

আইনে সরাসরি এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকলেও ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বর্তন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংসদ নির্বাচনের আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) আলোকে পৌর নির্বাচনে বিধি সংশোধন করা হলেও জাতীয় নির্বাচনে এক দল থেকে একাধিক ব্যক্তিকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরে বাছাই শেষে প্রতীক বরাদ্দের আগে একজনকে চূড়ান্ত করার সুযোগ পায় রাজনৈতিক দলগুলো। দলের বাকি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার বিধান রয়েছে সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে।
জানতে চাইলে ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়েই প্রার্থীকে দলের পক্ষে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে হবে। বাছাইয়ের সময় দল মনোনীত কোনো প্রার্থীর পক্ষে সংশ্লিষ্ট দলের প্রত্যয়নপত্র না থাকলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
নির্বাচন কমিশন থেকে বিধিমালা সংশোধনকালে প্রথমে জাতীয় নির্বাচনের মতোই পৌর নির্বাচনে দলের মনোনয়নবঞ্চিতদের প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সংশোধিত বিধিমালা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে পাঠানোর সময়েও এ বিধানটি ছিল। তবে দ্বিতীয় দফায় বিধি সংশোধনকালে এ বিষয়টিতে পরিবর্তন আনা হয়। ফলে দলের মনোনয়নবঞ্চিতদের এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে কোনো বাধা থাকছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহওনেওয়াজ  বলেন, সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আগেও এসব নির্বাচনে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়া হতো। এবার সরাসরি মনোনয়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে এ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নির্দলীয় ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়ে প্রার্থী হতেন। এসব বিবেচনায় নিয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সই বাধ্যতামূলক। কমিশন এখানেও বিষয়টি সহজ করে দিতে মাত্র ১০০ ভোটারের সমর্থনের বিধান সংযোজন করেছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩ ডিসেম্বর। বাছাই হবে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর। একটি পৌরসভার মেয়র পদে এক দল থেকে একজনই মনোনয়নের ফলে রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন কর্তৃপক্ষ এবং প্রার্থীকে বিশেষ সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা। তারা জানিয়েছেন, ঋণখেলাপি বা অন্য কোনো কারণে কোনো দলের মনোনীত ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল হলে ওই দলের প্রতীক অন্য কাউকে বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এ নিয়মের কারণে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বাছাই নিয়ে ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’ কিছুটা হলেও বন্ধ হবে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে গতকাল বুধবার ইসি সচিবালয় থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক সব দলের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির সঙ্গে ২৩৪ পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তার নামের তালিকা, সংশোধিত নির্বাচন পরিচালনাবিধি এবং আচরণবিধিমালা, পৌরসভা নির্বাচনের তফসিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। গতকাল ইসি সচিবালয় থেকে ঘোষিত তফসিলের অধীনেই নতুন আরও দুটি পৌরসভার নাম সংযুক্ত হয়েছে। এ দুই পৌরসভার মধ্যে রয়েছে রাজশাহীর নওহাটা এবং গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা।

 ঘোষিত ২৩৪ পৌরসভার তফসিলে যাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ৪২ জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ১৩৩ জন এবং ৫৯ জন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রয়েছেন। কমিশন সদস্যরা জানিয়েছেন, এর আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর হয়নি।  এসব কর্মকর্তা ইসির নির্দেশ বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক হবেন তা নিয়ে কিছুটা হলেও সন্দেহ রয়েছে। যদিও কমিশনের যথেষ্ট নিজস্ব জনবল নেই, যাতে সব পৌরসভায় নিজেদের কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায়।
রাজনৈতিক দলের মনোনয়নের ক্ষেত্রে সংশোধিত এই বিধানের যৌক্তিকতা সম্পর্কে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার এক ঊর্ধ্বর্তন কর্মকর্তা বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের আয়োজন করতে গিয়ে ইসি এবার নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে। এর পরও ব্যালট পেপার মুদ্রণসহ আরও অনেক চাপ কমিশনের সামনে রয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই এক দল থেকে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ এবার বন্ধ করা হয়েছে। কারণ এর ফলে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হয়।

মতামত...