,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মসজিদুল আক্বসার খতীবকে সম্মানসূচক ডিগ্রী ও পাগড়ী প্রদান

hafajtচট্টগ্রাম অফিস:নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম,০৫ , ফেব্রুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::
মুসলমানদের প্রথম ক্বিবলা ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র মসজিদুল আক্বসার খতীব শায়খ আলী ওমর ইয়াকুব আব্বাসী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র চট্টগ্রামের হাটহাজারীস্থ দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন।

এসময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মসজিদ জামে বায়তুল কারীমে ইশা’র নামাযের ইমামতী করে জামাতে শরীক হওয়া মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং বুখারী শরীফের দরসদান করেন। এরপর হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজত আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফির সাথে সাক্ষাত করেন এবং নৈশভোজে মিলিত হন। এ সময় জামিয়া দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার পক্ষ থেকে হেফাজত আমীর মসজিদুল আক্বসার খতীব শায়খ আব্বাসীকে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইলমে হাদীসের উপর অবদান রাখার জন্যে বিশেষ সম্মানসূচক ডিগ্রী প্রদান করে সনদপত্র দেওয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী পাগড়ী পরিয়ে দেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে প্রচার করা হয় যে, পবিত্র মসজিদুল আক্বসার সম্মানিত খতীব প্রতিষ্ঠানটির মসজিদে রাত সাড়ে নয়টায় ইশা’র জামাতে ইমামতী এবং মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বয়ান করবেন। এই সংবাদ প্রচার হওয়ার পর পরই মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। রাত ৯টার মধ্যেই হাটহাজারী মাদ্রাসার ২০ হাজার মুসল্লী ধারণ ক্ষমতার ৭তলা বিশিষ্ট প্রধান মসজিদ জামে বায়তুল কারীমে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। পুরো মাঠ জুড়েও মুসল্লীদের সমাগম বাড়তে থাকে। রাস্তায় যানজটের কারণে মসজিদুল আক্বসার খতীব শায়খ আলী ওমর ইয়াকুব আব্বাসী’র পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটায়। নিরাপত্তাবাহিনীর স্কটে রাত সাড়ে ১০টায় হাটহাজারী এলাকায় মেহমানের গাড়ি বহর প্রবেশ করলে হাটহাজারী মাদ্রাসা ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে থানা পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার মাদ্রাসা ছাত্র সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আহলান সাহলান বলে সম্মানিত খতীবকে স্বাগত জানান। হাটহাজারী মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তিনি সরাসরি জামে বায়তুল করীমে গিয়ে প্রথমে ইশা’র জামাতে ইমামতী করেন। এসময় হাজার হাজার মুসল্লীকে মসজিদে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মাদ্রাসা মাঠে দাঁড়িয়ে জামাতে শরীক হতে দেখা যায়।

জামাত শেষে মাদ্রাসা উপস্থি ছাত্র-শিক্ষক ও মুসল্লীদের সাথে মসজিদুল আক্বসার খতীব শায়খ আলী ওমর ইয়াকুব আব্বাসীকে পরিচয় করিয়ে দেন দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী। এরপর শায়খ আব্বাসী দাওয়াতী কার্যক্রম ও মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন।

এসময় তিনি বলেন, নবী-রাসূলগণ দুনিয়াতে আগমন করেছেন, মানুষকে তাদের সঠিক গন্তব্যস্থল সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে ঈমান-আমল মজবুতির মাধ্যমে পরকালীন কামিয়াবীর পথে আহ্বান জানাতে। ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসিতার জন্যে মানুষ কত শত চেষ্টা সাধনার মধ্যে সময় কাটাচ্ছে। অথচ মুসলমানদের অনেকেই দুনিয়াকে ক্ষণস্থায়ী জীবন বলে মুখে স্বীকার করলেও পরকালীন স্থায়ী জীবনের সুখ-শান্তি এবং আল্লাহ-রাসূলের রাজি-খুশির জন্যে ইবাদত-বন্দেগী ও দাওয়াতী কার্যক্রম থেকে অনেক দূরে সরে আছেন। ভোগ-বিলাসিতায় মত্ত হয়ে ইসলামের সুমহান শিক্ষা থেকে দূরে সরে পড়ার কারণেই বিশ্বব্যাপী মুসলমানগণ আজ দুর্দশার শিকার।

তিনি বলেন, আমাদেরকে সঠিক উপায়ে আল্লাহ-রাসূলের আদেশ মেনে চলতে হবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে ইসলামের সুন্দর ও শান্তির বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্যে সঠিক ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াতী কার্যক্রমকে আরো ব্যাপকতর করতে হবে। পাশাপাশি সমাজ ও দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও মানব সেবার মতো মহান কাজে নিজেদেরকে ব্রত হতে হবে। তিনি বলেন, ইসলামের মহান শিক্ষা সামাজ্রবাদ, বস্তুবাদ ও ভোগবাদের পথে বাঁধা হওয়ার কারণেই তাদের পক্ষ থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে কথিত সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গীবাদসহ মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার করা হচ্ছে। একই উদ্দেশ্যে ফিলিস্তিনের ন্যায্য স্বাধীকারের সংগ্রামকেও সন্ত্রাসবাদের সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, মুসলমানগণ যদি সঠিক ইসলামী শিক্ষা ও ঐক্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম হন, তবে সকল মিথ্যাচার ও অন্যায় আগ্রাসন ধুলিস্মাৎ হতে সময় লাগবে না।

মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে আধ ঘণ্টার বক্তব্য শেষে মসজিদুল আক্বসার খতীব শায়খ আলী ওমর ইয়াকুব আব্বাসী হাটহাজারী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীস (টাইটেল সম্মান) ক্লাসের প্রায় আড়াই হাজারেরও অধীক ছাত্রের ক্লাসে বুখারী শরীফের দরসদান করেন।

এরপর হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাতে মিলিত হন এবং তাঁর সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে শরীক হন। ভোজসভায় আরো শরীক ছিলেন শায়খ আব্বাসীর সফরসঙ্গী লন্ডস্থ নাজাত ইসলামী মারকাজ এর প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং গরীব এন্ড এতিম ট্রাস্ট ফান্ড ইউকে এর চেয়ারম্যান মাওলানা সালেহ আহমদ হামিদী ও লন্ডন প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা ফরিদ উদ্দীন খান। নৈশভোজে আরব্য রীতি অনুযায়ী আস্ত খাঁসী, মুরগী ও বড় মাছের ফ্রাইসহ নানা উপাধেয় খাবার ও ফলমূল পরিবেশন করা হয়। হাটহাজারী মাদ্রাসার মুফতী, মুহাদ্দিস, শিক্ষক, কর্মকর্তাবৃন্দ ও আগত অন্যান্য অতিথিবৃন্দসহ নৈশভোজে প্রায় ৬০ জন শরীক হন।

ভোজসভা শেষে এক সংক্ষিপ্ত আড়ম্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে হেফাজত আমীর জামিয়া দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ইসলামের প্রচার-প্রসারে দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা এবং ইলমে হাদীসের উপর বিশেষ অবদান রাখার জন্যে মসজিদে আক্বসার খতীবকে বিশেষ সম্মানসূচক ডিগ্রী দিয়ে সনদপত্র প্রদান করেন এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সম্মানসূচক পাগড়ী পরিয়ে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা মুফতী নূর আহমদ, আল্লামা মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী, আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানী, মুফতী ফরিদুল হক, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা রাশেদুল ইসলাম, মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা ক্বারী জহিরুল হক, মাওলানা আনোয়ার শাহ ও মাওলানা শফিউল আলম প্রমুখ। সম্মানসূচক ডিগ্রী ও পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠানে মসজিদে আক্বসার খতীব আবেগাপ্লুত হয়ে হেফাজত আমীরের কপালে আরব্য রীতি অনুযায়ী চুমো খেয়ে বলেন, সারা বিশ্বে পরিচিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন এই ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র থেকে তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রী ও পাগড়ি দেওয়ায় তিনি খুবই সম্মানিতবোধ করছেন। এরপর তিনি প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন বইয়ে দীর্ঘ মন্তব্য লিখেন। হেফাজত আমীরসহ উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ থেকে বিদায় নিয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসার দারুল হাদীস মিলনায়তন ও শিক্ষাভবন পরিদর্শন করে রাত ১টায় হাটহাজারী ত্যাগ করেন। এ সময় পুলিশ স্কট দিয়ে মসজিদুল আক্বাসার খতীব ও সফরসঙ্গীদের গাড়ি বহরকে চট্টগ্রাম শহরের হোটেল রেডিসন ব্লু পৌঁছে দেওয়া হয়।

মতামত...