,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মহান একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরষ্কার প্রদান করলেন মেয়র নাছির

নিজস্ব প্রতিবেদক,২২ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, বাঙালি জাতির স্বকীয়তা গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক অমর একুশ। তিনি বাংলা ভাষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অন্যান্য ভাষাও শিখতে অনুরোধ জানান। মেয়র নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি গভীর আগ্রহ সৃষ্টি এবং তাদেরকে দেশ ও জাতির জন্য আত্মত্যাগী হওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলার আহবান জানান।

২১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, বিকেলে নগরীর মুসলিম ইনষ্টিটিউট হল চত্বরের একুশ মঞ্চে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত মহান একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। একুশে সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশে বইমেলা কমিটির আহবায়ক এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউক। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মিসেস নাজিয়া শিরিন, উপস্থাপনায় ছিলেন মেয়রের একান্ত সচিব কবি ও ছড়াকার মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম(মানজুর মাহমুদ)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড.মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিসেস সনজিদা শরমিন, যুথিকা সরকার সহ সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে ৯ জন বিশিষ্ট গুনিজনের হাতে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও বিশিষ্ট গুনিজন ৭ জন সাহিত্যিক এর হাতে সাহিত্য সম্মাননা পুরষ্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আরো বলেন, অমর একুশে আমাদের চেতনার উম্মেষ ঘটায়। অন্যায়ের কাছে মাথানত না করা শেখায়, একুশ আমাদের স্বকীয়তা, আতœপরিচয়, আতœমর্যাদাবোধ শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, একুশের পথ বেয়েই আমাদের স্বাধীনতা, আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা বিশ্বে মাথা উচু করে চলতে চাই।
প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, বই মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের মধ্যে একটা মেল বন্ধন গড়ে উঠে। সিটি কর্পোরেশন বিনামূল্যে বুকষ্টল বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র প্রকাশকদের জন্যও আগামীতে সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এবারের বই মেলায় আঞ্চলিকতাকে পরিহার করে উদার দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সার্বজনীন বই মেলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বহু বছর থেকে বই মেলা চলে আসলেও এবারের আঙ্গিক ও পরিসর ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। তিনি বলেন, পরিকল্পনা আছে আগামী বছর থেকে বছরের সুবিধা জনক সময়ে বাংলা একাডেমী ও ঢাকা’র সকল প্রকাশনী সংস্থা এবং চট্টগাম সহ সারা দেশের প্রকাশনী সংস্থা, লেখক ও পাঠকদের সমন্বিত করে নতুন আঙ্গিকে বই মেলার আয়োজন করার।প্রসঙ্গক্রমে মেয়র আরো বলেন, বাংলাদেশ আজ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ। ২০২১ এর মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে উন্নিত হবে। জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়তে হলে ২০৪১ সনের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত করে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত করতে হবে। সিটি মেয়র তার ভিশন তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রামের বিশিষ্টজন, বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার নাগরিকদের সম্মিলিত প্রয়াসে চট্টগ্রামকে ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিনত করা হবে। তিনি বলেন স্মার্ট সিটি ও মেগাসিটি’র ভিশনও সামনে রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির পরিপূর্ণ প্রয়োগের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন, যানজট নিরসন সর্বোপরি জলাবদ্ধতাকে সহনীয় পর্যায়ে আনা হবে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে প্রাচ্যের রানী’র মর্যাদায় পৌছে দিয়ে শতভাগ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই তার ভিশন। তিনি তার কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নগরবাসী’র সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে একুশ পদক প্রাপ্ত ও সাহিত্য পুরষ্কার প্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে সকলেই তাদের অনুভুতি ব্যক্ত করেন। অনুভুতি প্রকাশকালে তারা লেখালেখির কর্মকান্ডে অবাধ স্বাধীনতা চান। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে চান এবং সকল সাইনবোর্ড সরকারের আইন মেনে বাংলায় লিখা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি সংরক্ষণ করার প্রস্তাব করেন। এবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শিক্ষায় প্রফেসর ড. বিকিরন প্রসাদ বড়ুয়া, ক্রীড়ায় মো. হাফিজুর রহমান, সাংবাদিকতায় এম নাসিরুল হক, সমাজ সেবায় আলহাজ্ব মো. আজিম আলী, ভাষা আন্দোলনে শেখ মোজাফফর আহমেদ(মরনোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে বেগম মুশতারী শফি, সংগীতে শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণব (মরনোত্তর) ও মরমী সংগীতে আবদুল গফুর হালী, (মরনোত্তর), চিকিৎসা সেবায় প্রফেসর ডা. এ এস এম ফজলুল করিমকে মহান একুশে স্মারক সম্মাননা পদক এবং কথা সাহিত্যে মোহিত উল আলম, কবিতায় অরুন দাশ গুপ্ত, শিশু সাহিত্যে বিপুল বড়–য়া, নাটকে মিলন চৌধুরী ও কবি অভিক উসমান, মুক্তিযুদ্ধ গবেষনায় ডা. মাহফুজুর রহমান এবং প্রবন্ধে ড. মাহবুবুল হককে সাহিত্য সম্মাননা পুরষ্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণব এর পক্ষে তার পুত্র প্রেম সুন্দর বৈষ্ণব, আবদুল গফুর হালির পক্ষে তার নাতি মাইনুল হক জুয়েল, শেখ মোজাফফর আহমদ এর পক্ষে তার পুত্র শেখ শহিদুল আনোয়ার, বেগম মুশতারী শফির পক্ষে তাঁর পুত্র মেরাজ তাহ্সিন শফি এবং মো. হাফিজুর রহমান এর পক্ষে তাঁর পুত্র সাকিবুর রহমান পদক ও পুরষ্কার গ্রহণ করেন। অন্যান্যরা স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে পদক ও পুরষ্কার গ্রহণ করেন। পদক ও পুরষ্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মতামত...