,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মহাসড়কে বেপরোয়া যাত্রীবাহী পিকআপ, বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা

মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম, ১০ জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দেড় শত কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বেপরোয়া গতিতে চলছে যাত্রীবাহী পিকআপ। বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে অকালে ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। পঙ্গুত্ব বরণ করছে হাজারো মানুষ। নাম্বারবিহীন যাত্রীবাহী এসব পিকআপের অধিকাংশ চালকরা অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর। এসব চালকদের নাই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স। কিশোর ও অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে চালকের আসনের দায়িত্ব থাকায় যাত্রীরাই প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে তাকেন। মহাসড়কে চলাচলের জন্য যাত্রীবাহী এসব পিকআপের বৈধ কোন কাগজ না থাকলেও পুলিশ প্রশাসন ম্যানেজ করে দাপিয়ে বেডাচ্ছে গাড়ীগুলো। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে আশংকাজনক হারে বেড়েছে দুর্ঘটনা। বেশ কিছুদিন ধরে এ অবস্থা চলে আসলেও পুলিশ প্রশাসনের নেই কোন নজরধারী।

জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যাত্রীবাহী পিকআপ চলাচলে কর্ণফুলী, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া ও রামু এলাকা জুড়ে নিয়ন্ত্রণ করছে প্রতিটি থানায় একাধিক সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরিবহণ শ্রমিক ও সরকার দলীয় সমর্থকরা। সেন্ডিকেটের নামে মহাসড়কে চলাচলরত এসব পরিবহণ থেকে প্রতিমাসে চাঁদার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাড়ীর মালিকরা। এছাড়া মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াতে যাত্রীবাহী পিকআপ গুলো পুলিশের মামলা থেকে রেহাই পেতে প্রতিমাসে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে মাসোহারা দিতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিকআপের এক মালিক বলেন, ‘আমাদের যাত্রীবাহী পিকআপ মহাসড়কে চলাতে গেলে পুলিশ প্রশাসনকে একাধিক স্থানে মাসোহারা দিতে হয়। মাসোহারা না দিলে গাড়ী থানায় ঢুকে যায়। এছাড়া সমিতির নামেও প্রতিদিন চাঁদা তো আছেই। চাঁদার নামে এসব টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছে।’

বেপরোয় গতির কারণে মহাসড়কে সাম্প্রতিক সময়ে ভয়বহ কয়েকটি দুর্ঘটনায় বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়েছে। গত ২৫ মে চন্দনাইশ উপজেলার পাঠানীপুল এলাকায় যাত্রীবাহী পিকআপ, হানিফ ও মালবাহী পিকআপের ত্রিমুখী সংঘর্ষে বিজিসি ট্রাষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী তাহমিনা আক্তারসহ ৯ জন নিহত হয়েছিল। আহত হয়ে মৃত্যুর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ২০ জন। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ৩ জুন শনিবার দুপুরে মহাসড়কের কেরানীহাট এলাকায় যাত্রীবাহী পিকআপের মুখোমুখী সংঘর্ষে লোহাগাড়া মোস্তফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক শিক্ষার্থীসহ ৭ জন আহত হয়েছে। বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করতে গিয়ে গাড়ীগুলো দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

কেরানীহাটে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলাম হোসেন সবুজ বলেন, যাত্রীবাহী পিকআপের অধিকাংশ চালক ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন। তাদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া গতি সড়ক দুর্ঘটনা অন্যতম কারণ। অবৈধ যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে জনবল সংকট ও ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালের ১ আগস্ট সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে দেশের ২২টি মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ী চলাচল বন্ধ ঘোষণা হলে এ জায়গা দখল করে নেয়, যাত্রীবাহী পিকআপ ভ্যান। এসব পিকআপ বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় আরো প্রাণহানি বেড়েছে। তাছাড়া মহাসড়কে চলাচলরত এসব যানবাহন রাস্তায় মাঝ পথে দাড়িয়ে যাত্রী উঠা-নামা করায় বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব পিকআপ মহসড়কের স্টেশনগুলোতে রাস্তার উপর দাড়িয়ে থেকে যাত্রী নেয়ায় প্রতিনিয়ত লেগে যাচ্ছে যানজট। দায়িত্বরত ট্রাফিকরা চালকদের কাছ থেকে ১০-২০ টাকা নিয়ে গাড়ীগুলোকে সড়কের উপর থেকে নিচে নামানোর চেষ্টা করে না বলে অভিযোগ করেন অনেকেই। সচেতন মহল মনে করেন, মহাসড়কে আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে অদক্ষ, লাইসেন্স ছাড়া চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও যেখানে-সেখানে রাস্তায় দাডিয়ে যাত্রী উঠা-নামা বন্ধ করতে হবে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক সঁরো হয়ে যাওয়ায় একটি গাড়ি অন্য একটি গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে মূল সড়ক থেকে নেমে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এছাড়া অদক্ষ চালক দিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত গতি টেকাতে মহাসড়কে প্রতিদিন ‘স্পিড ডিটেক্টর ডিজিটাল মেশিন’ ব্যবহার করে মামলা দেয়া হচ্ছে।

মতামত...