,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজারের মহেশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায়

coil power 1rajjak

আবদুর রাজ্জাক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ কক্সবাজার, স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগর সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর জাতির পিতা শহীদ শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া গণতন্ত্রের মানসকণ্যা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ অবেহেলিত কক্সবাজার জেলাসহ সমগ্র বাংলাদেশের জনসাধারণের উন্নয়নের লক্ষ্যে কয়লা বিদ্যুৎ ও তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরেকটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। উক্ত প্রকল্পগুলিকে আরো র্দীঘস্থায়ী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন করে ১ হাজার ৩ শত ২০ মেঘাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন আরেকটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভায় চুড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎ ও তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পগুলির কাজ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে এই ১ হাজার ৩ শত ২০ মেগাওয়াটের কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প । এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যৌথ মূলধনী কোম্পানী গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি ) কর্তৃপক্ষ। যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠনে মন্ত্রিসভার অনুমোদন চেয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি ) ।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি তেনেগা ন্যাশনাল বারহেড এবং পাওয়ারটেক বারহেড সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি )র এই চুক্তি হতে যাচ্ছে। ওই কোম্পানিটি মহেশখালী প্রস্তাবিত বিদ্যুত হাবে কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে। উক্ত প্রকল্পে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সমান অংশীদারিত্ব থাকবে বলে পিডিবি র সূত্রে প্রকাশ ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি )র একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এর আগে তেনেগা এবং পাওয়ারটেকের মধ্যে একটি জেভিএ স্বাক্ষর হয়। স্বাক্ষরিত জেভিএ অনুমোদনের জন্য উপ-সচিব মোঃ শওকত আলী স্বাক্ষরিত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় এই মাসের প্রথম সপ্তাহে পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই মন্ত্রিসভায় এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হবে। সরকারের অনুমোদন পেলে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর করে কার্যক্রম চালানো হবে। স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর তনয়া দলীয় সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ সরকার বিভিন্ন রাষ্ট্রের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কোম্পানির সাথে এটি তৃতীয় উদ্যোগ । এছাড়াও পায়রায় নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং রামরালে পিডিবি ভারতের সঙ্গে আরও একটি বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠন করছে। এর মধ্যে পায়রায় বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ শুরু হয়েছে। আর রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। শীঘ্রই এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।
পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, আগের দুটি কোম্পানির মতোই হবে এ কোম্পানিতে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার সমান সংখ্যক সদস্য পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন। কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে দুই দেশের প্রতিনিধি ভাগাভাগি করে দায়িত্ব পালন করবেন। সমঝোতার আলোকে গঠিত যৌথ মূলধনী কোম্পানি বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য অর্থায়ন এবং দরপত্র আহ্বান করবে। সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান এই বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি ) মহেশখালী দ্বীপে জমি অধিগ্রহণ শুরু করছে। এছাড়াও মহেশখালী দ্বীপ সংলগ্ন সাগরের খাড়িতে ৫০ হাজার টন ধারন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাবাহী জাহাজ প্রবেশ করার মতো গভীরতা থাকায় সেখানেই বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে কয়লা পরিবহনজনিত খরচ কম পড়বে। মহেশখালীতে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির জন্য একটি বড় বিদ্যুত কেন্দ্র,আমদানীকৃত কয়লা খালাসের বন্দর এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। উক্ত প্রকল্পে জাইকা অর্থায়ন করছে। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ১০ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুত উৎপাদন অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সবগুলো বিদ্যুত কেন্দ্র হবে ‘ মেগা সাইজ ’ প্রকল্প। বিদ্যুত কেন্দ্রগুলো আমদানি করা কয়লা দিয়ে চলবে। সরকার দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুত উৎপাদন পরিকল্পনা করছে তাতে এসব প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান জাইকাই চট্টগ্রাম এলাকার বিদ্যুত প্রকল্পের সম্ভাবত্যা যাচাই করছে।
বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার চট্টগ্রামে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্রে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর প্রেরিত এক বিশেষ দূত বাংলাদেশ সফর করে বিদ্যুত জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ওই আলোচনার সূত্র ধরে তেনেগা প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সফর করেন। দেশের পিডিবি এবং বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তারা মালয়েশিয়া সফর করে বিদ্যুত খাতে বিনিয়োগ এবং যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করেন। যার প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করে তেনেগা এবং পাওয়ারটেক। এবার যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠন করে বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিদ্যুতের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হলে মহেশখালীতে বহুমাত্রিক শিল্পায়নের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে সামুদ্রিক মৎস্য ও চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরন কারখানা, লবন পরিশোধন কারখানা, সার ও সিমেন্ট কারখানা, জাহাজ নির্মান শিল্প এবং অয়েল ও গ্যাস রিফাইনারীসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে পারে মহেশখালীতে। এমনটি হলে আন্তর্জাতিক ব্লুÑমেরিন ইকোনমির কেন্দ্রভুমিতে পরিণত হবে মহেশখালী দ্বীপ। এই দ্বীপে শিল্পায়নের অপার সম্ভাবনা থাকায় উদ্যোক্তারা বিভিন্ন শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে মহেশখালী দ্বীপের বিভিন্ন জমির মালিকদের নিকট জমি ক্রয়ের জন্য যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
মহেশখালীর সম্ভাব্যতা জরিপে বলা হয়েছে, প্রতিটি ২ শত ৪০ মিটার দীর্ঘ মাদার ভ্যাসেল (জাহাজে) করে কয়লা আনা হবে, যার ধারণক্ষমতা ৮০ হাজার মেট্রিক টন। এসব জাহাজ ভিড়তে সমুদ্রে ১৩ মিটার পানির গভীরতা থাকতে হবে। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য বছরে ৫৩ বার কয়লা আনার প্রয়োজন হবে।

মতামত...