,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মহেশখালীতে দেশীয় অস্ত্র তৈরী কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে নাঃগড় ফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

aআবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ কক্সবাজারের উপকুলীয় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর বিভিন্ন পাহাড়ের গহীন জঙ্গলে দেশীয় অস্ত্র তৈরী ও নানা রকম গোলাবারুদ উৎপাদন কোন মতেই বন্ধ হচ্ছে না। বরং স্থান পাল্টিয়ে নিত্য নতুন কারখানায় অবাধে তৈরী হচ্ছে মরনাস্ত্র।

সূত্রে জানায়, সম্প্রতি সারাদেশে জঙ্গি হামলা,নাশকতকা ও রোহিঙ্গ তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় এলাকার দাগী,সন্ত্রাসী ও দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী দল ও গ্রুপগুলোর কাছে এসব অস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দাম বেশী পাওয়ায় এখানকার কারিগররা সকাল থেকে একটানা সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে তারা পাহাড়ের গভীরে তাদের আস্তানায় বিভিন্ন রকমের দেশীয় অস্ত্র তৈরী করে যাচ্ছে। পুলিশ,র‌্যাব ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করলেও দীর্ঘদিন থেকে মহেশখালীতে কোন বড় ধরণের উদ্ধার অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় সন্ত্রাসী এবং কারিগররা সাম্প্রতিক সময়ে আরো বেপরোয়া হয়ে বেশী অস্ত্র তৈরী করছে । ফলে দিবারাত্রি নানা রকমের দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরী করে সরবরাহ দিচ্ছে তারা। এলাকার কিছু মুখোশধারী জনপ্রতিনিধি ও কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অর্থনৈতিকভাবে এসব কারিগরকে অস্ত্র তৈরীতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, উপজেলার বড় মহেশখালীর বড় ডেইল, হোয়ানকের কেরুনতলী পাহাড়, কালারমারছড়ার ফকিরজুম পাড়া পাহাড়, শাপলাপুরে পাহাড়ী জুম এলাকায় একাধিক অস্ত্র তৈরীর কারখানা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়। অস্ত্র কারিগররা এসব স্থানের গহীন পাহাড়ে খোদাই করে দুই দিকে রাস্তা রেখে মনোরম পরিবেশে তারা ওয়ার্কসপের মত করে এ অস্ত্র তৈরীর কারখানাগুলো স্থাপন করে সে খানে এসব দেশীয় অস্ত্র তৈরী করে থাকে। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার লোহার পাট,স্টীলের নল, ড্রিল মেশিন, গ্যাসের চুলা, কয়লা, লেইদ মেশিনসহ বিভিন্ন অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরীর যন্ত্রপাতি। তারা তাদের আস্তানায় এসব অস্ত্র তৈরীর কাজ করে বলে অভিযোগ আছে । তারা দিনের বেলায় অস্ত্র তৈরী করাকে বেশী নিরাপদ মনে করে। কারণ এলাকার বিভিন্ন জায়গা ও বিভিন্ন স্থানে তাদের একাধিক সোর্স থাকায় র‌্যাব,পুলিশ আসার আগাম খবর তারা মোবাইলের মাধ্যমে সোর্সের কাছ থেকে পেয়ে সতর্ক অথবা পালিয়ে যায়। এসব অস্ত্র তৈরীর কারখানাগুলোতে নিয়মিত আসা-যাওয়া রয়েছে হোয়ানক,নতুনবাজার,কালারমারছড়া উত্তর নলবিলা এলাকার দাগী সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার ফেরারী আসামীদের। এখানে একটি অস্ত্র তৈরী করতে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হলেও সেটি স্থানীয়ভাবে ৪/৫ হাজার টাকায় এবং জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭/৮ হাজার টাকায় এসব দেশীয় তৈরী অস্ত্র বিক্রি হয়। তাদের রয়েছে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। ওই নেটওয়ার্ক সাগর পথে চট্রগ্রাম ও ঢাকায় লবণ ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের কার্গো ট্রলার, ফিশিং ট্রলার,লবণ বোঝাই ট্রাক ও লাকড়ীর গাড়ীর মাধ্যমে তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এসব অস্ত্র সরবরাহ ও বিক্রি করে।অপরদিকে তাদের রয়েছে কিছু স্বামী পরিত্যক্ষ ও বিপথগামী মহিলা সদস্য। বিশেষ করে সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র পৌছে দেয়াসহ বেচাবিক্রির ব্যাপারে তারা মহিলাদেরকে বিশেষ ভাবে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কারণ মহিলাদেরকে সহজেই কেউ সন্দেহ করেনা। ফলে এসব মহিলারা বোরকা পড়ে মুখে নেকাব বেধেঁ তাদের ভ্যানটিব্যগসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে এসব অস্ত্র লুকায়িত করে সহজেই স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশংখলাবাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে এসব অস্ত্র বিভিন্ন স্থানে পৌছে দেয়। সম্প্রতি মহেশখালী থানা পুলিশ কালারমারছড়া বাজার থেকে এরকম একটি মহিলাকে সিএনজি থেকে গ্রেফতার করেছিল। পরে তার দেহ ও ভ্যানটিব্যগ তল্লাসী করে ৩ টি দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার করে। বর্তমানে ওই মহিলা জেলহাজতে রয়েছে।

বাংলাদেশের মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মহেশখালী দ্বীপ পাহাড়ী জনপদ হওয়ার কারণে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসব অস্ত্র তৈরীর কারখানার সন্ধান না জানলেও ওসব এলাকার স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সব কিছুই জানেন,কোথায় কোন স্থানে কোন পাহাড়ে অস্ত্র কারিগররা এসব অস্ত্র তৈরী হচ্ছে । সে ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা যদি আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদেরকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এসব অস্ত্র তৈরীর কারখানার তথ্য দেয় তাহলে এক মাসের মধ্যে মহেশখালীর সব অস্ত্র তৈরীর কারখানায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরীর মুল কারিগরদের গ্রেফতার র্পূবক এসব দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার ও কারখানাগুলি ধ্বংস করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল কান্তি বনিকের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি অস্ত্র তৈরীর মূল স্পটের খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা বলে বলে জানান। এলাকাবাসী এই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার পূর্বক অস্ত্র কারখানাগুলোতে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করার জন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মতামত...