,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মহেশখালীতে লবণ চাষি খুন

মহেশখালী সংবাদদাতা, ৯ মার্চ,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: কক্সবাজারের মহেশখালীতে বিরোধীয় লবণ মাঠের দখল নিয়ে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলায় জায়গার এক লবণ চাষি নিহত হয়েছেন। তাকে ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত কারণে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বুধবার দুপুর একটার দিকে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের বড়ঘোনার পশ্চিমে আলিক্ষ্যাঘোনা লবণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লবণ চাষির নাম জয়নাল আবেদীন (৪৭)। তিনি কালারমারছড়া ইউনিয়নের ঝাপুয়া এলাকার আবদুল মালেকের পুত্র।
নিহতের পরিবার জানায়, আলিক্ষ্যাঘোনার প্রায় ৪০ কানি লবণ মাঠের জমি নিয়ে দু’পক্ষে বিরোধ চলছিল। জায়গার মালিক দাবিদার একপক্ষে ছিলেন আবদুল মালেকের ছেলে জয়নাল আবেদীন ও তার ভাইয়েরা। অপরপক্ষে দলিলুর রহমানের তিন ছেলে নাছির উদ্দিন, তৌহিদুর রহমান ও সিরাজ আহমদ। এ নিয়ে ইতোপূর্বে একাধিকবার থানা ও স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়। সর্বশেষ বুধবার কালারমারছড়া পুলিশ ক্যাম্পে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে দুপুরে পুলিশের একটি দল উভয়পক্ষকে নিয়ে বিরোধীয় লবণ মাঠে যায়। সেখান থেকে পুলিশ চলে আসার পর জায়গার মালিক দাবিদার জয়নালের উপর প্রতিপক্ষ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় জয়নালের মাথাসহ পুরো শরীরে এলোপাতাড়ি কোপালে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফের পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জয়নালকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত জয়নালের খালাতো ভাই হাফেজ জামাল উদ্দিন বিডিনিউজ রিভিউজ.কমকে জানান, বিরোধীয় প্রায় ৪০ কানি লবণ মাঠের জমিতে প্রবেশ করতে পারছিলেন না আবদুল মালেকের ছেলে জয়নাল ও ভাইয়েরা। বুধবার দুপুরে কালারমারছড়া ক্যাম্পের পুলিশসহ দু’পক্ষের লোকজন বিরোধীয় জমিতে যান এবং চারিদিকে লাল পতাকা উঁচিয়ে দিয়ে আবদুল মালেকের ওয়ারিশ জয়নালকে জায়গার দখল বুঝিয়ে দিয়ে পুলিশ চলে যায়। এর পর প্রতিপক্ষ সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা চালায়।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বিডিনিউজ রিভিউজ.কমকে বলেন, ‘বিরোধীয় লবণ মাঠের জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় লবণচাষি জয়নাল গুরুতর আহত হলে তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়নালের মৃত্যু হয়। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা আমলে নেয়া হবে।’

মতামত...