,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মহেশখালীতে ৮শ কোটি টাকা ব্যয়ে আনোয়ারা-ফৌজদারহাট গ্যাস লাইনের কাজ শুরু

gass-line-worksআবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার ব্যুরো প্রধান, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম: কক্সবাজার জেলার মহেশখালির মাতারবাড়িতে নির্মাণ হতে যাওয়া এলএনজি গ্যাস টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহে চট্টগ্রামের আনোয়ারা-ফৌজদারহাট পর্যন্ত নতুন পাইপ লাইন হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৭’শত ৭৬ কোটি ১১ লক্ষ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশ থেকে আমদানি করা তরল গ্যাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত গ্যাস দেশের সার্বিক চাহিদা মেটানোর জন্য জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) একনেক সভায় এ প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। একনেক সভায় এ প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পটি গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিল) বাস্তবায়ন করবে।
বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা পূরণের জন্য সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলা বিল্ড ওন অপারেট এন্ড ট্রান্সফার (বিওওটি) ভিত্তিতে মহেশখালিতে ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রি-গ্যাসফিকেশন ইউনিট স্থাপন করে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে ৫’শত এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অপরদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন, ২০১০ সালের ৫ ধারার বিধান অনুসারে কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়িতে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন ল্যান্ড বেইসড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে ভারতের রিলায়েন্স মহেশখালীতে ৫’শত মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে। সমুদ্র অঞ্চল থেকে উৎপাদন ও বন্টন চুক্তির আওতায় গ্যাস প্রাপ্যতার সম্ভবনা রয়েছে। কিন্তু মায়ানমার হতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির প্রচেষ্টা চলছে।এ প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক পর্যায়ে মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল, মায়ানমার হতে আমদানিতব্য গ্যাস এবং সাগর ব্লকে সম্ভাব্য সমুদয় গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য আনোয়ারা-ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, কর্ণফুলি নদীতে ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার রিভারক্রসিং সহ ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের ৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন, একটি রেগুলেটরিং এবং মিটারিং স্টেশন স্থাপন, সিপি সিস্টেম, রিভার ক্রসিংসহ পাইপ লাইনের মালামাল ক্রয়, পথস্বত্ব ও পরিবেশগত জরিপ এবং ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন ইত্যাদি।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ সূত্রে জানা যায়,প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর গত ১৮ আগষ্ট পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। জ্বালানী সংকট নিরসনে এবং দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা মেটানোর জন্য প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয় বলে জানা গেছে।

মতামত...